খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

কবে থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান? জানুন সম্ভাব্য তারিখ

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ এএম
কবে থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান? জানুন সম্ভাব্য তারিখ

বিশ্বের অনেক দেশে ১৭ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চাঁদ দেখা–সংক্রান্ত মানদণ্ড ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সালের পবিত্র রমজান মাসের সূচনাকারী চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি আরব বা ইসলামি বিশ্বের কোনো অংশ থেকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

আবুধাবিভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের (আইএসি) পরিচালক মুহাম্মদ শওকত ওদেহ বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) আরব ও ইসলামি বিশ্বের সব অঞ্চল থেকেই খালি চোখে, দুরবিন দিয়ে বা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা, হয় অসম্ভব কিংবা প্রায় অসম্ভব।’

আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও অধিকাংশ আরব দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন হিসেবে গণনা হতে পারে।

তাই এই অঞ্চলের যেসব দেশ নিশ্চিতভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা পালন শুরু করে, সেসব দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারিকে (বুধবার) পবিত্র শাবান মাসের ৩০তম বা শেষ দিন হিসেবে ধরা হতে পারে।

অর্থাৎ শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আশপাশের অধিকাংশ দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১৭ ফেব্রুয়ারি কেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আশপাশের দেশ থেকে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা প্রায় নেই, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আইএসি পরিচালক মুহাম্মদ শওকত।

মুহাম্মদ শওকত বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইসলামি বিশ্বের পূর্বাঞ্চলে সূর্যের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে, মধ্যাঞ্চলে সূর্যের সঙ্গে একই সময়ে ও পশ্চিমাঞ্চলে সূর্যাস্তের মাত্র কয়েক মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে। এ স্বল্প সময়ের ব্যবধান চাঁদের সংযোগ অবস্থা থেকে দৃশ্যমান চিকন চাঁদে রূপ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, আরব আমিরাতে চাঁদের নিচের প্রান্ত সূর্যাস্তের এক মিনিট আগে অস্ত যাবে। রিয়াদে চাঁদ অস্ত যাবে সূর্যাস্তের ৪২ সেকেন্ড আগে। আর সৌদি আরবের তাবুক অঞ্চলে, যেখানে মাসের মধ্যে চাঁদ সবচেয়ে বেশি সময় থাকবে, চাঁদ ঠিক সূর্যাস্তের সময় অস্ত যাবে। চাঁদের পৃষ্ঠের বয়স তখন মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট এবং সূর্যের সঙ্গে কোণীয় বিচ্ছিন্নতা মাত্র এক ডিগ্রি হবে।

মিসরের কায়রোয় চাঁদ অস্ত যাবে সূর্যাস্তের দুই মিনিট পর, আর আলজেরিয়ায় সূর্যাস্তের ছয় মিনিট পর। এ স্বল্প বিলম্বের পরও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এসব অবস্থানে ওই দিন কোনো চাঁদ দেখা যাবে না।

মুহাম্মদ শওকত তাই সেদিন চাঁদ দেখা নিয়ে কোনো ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব খবরে কেউ কেউ প্রভাবিত হতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন এই কর্মকর্তা।

এ তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও অধিকাংশ আরব দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন হিসেবে গণনা হতে পারে।

যদিও বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও আফ্রিকার কিছু অংশে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পবিত্র রমজানের চাঁদ খোঁজা হবে। আবহাওয়া ও স্থানীয় মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করে এসব দেশে পবিত্র রমজান ১৯ বা ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) শুরু হতে পারে।

সূত্র : খালিজ টাইমস

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।