খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র, ১৪৩২

তারাবি নামাজ: কত রাকাত, কীভাবে পড়বেন ও কী দোয়া করবেন?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৪ এএম
তারাবি নামাজ: কত রাকাত, কীভাবে পড়বেন ও কী দোয়া করবেন?

ইবাদতের বসন্তকাল পবিত্র রমজান। এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজান মাস শুরু হলেই রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। (মুসলিম : ১০৭৯/২)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে , রমজান মাসের শুভাগমন উপলক্ষে জান্নাতের দরজাসমুহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (বোখারি : ১৮৯৯, মুসলিম : ১০৭৯/১)

রমজানে প্রতিটি আমলের অনেক গুণ বেশি ছওয়াব পাওয়া যায়। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘রমজানের ওমরা হজ সমতুল্য।’ (তিরমিজি : ৯৩৯ ও আবু দাউদ : ১৯৮৬)

অন্য এক বর্ণনায় (যা সনদের দিক থেকে দুর্বল) বিষয়টি এভাবে বর্ণিত হয়েছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শুআবুল ঈমান : ৩/৩০৫-৩০৬)

অর্থাৎ, এ মাসে নফল আদায় করলে অন্য মাসের ফরজের ন্যায় ছওয়াব হয়। আর এ মাসের এক ফরজে অন্য মাসের ৭০ ফরজের সমান ছওয়াব পাওয়া যায়।

রমজানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে যেসব ইবাদত করে থাকেন, তার একটি হলো তারাবি নামাজ। এই নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তারাবি পড়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এক হাদিসে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে তারাবির সালাত আদায় করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (নাসায়ি : ২২০৫)

তারাবিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের সুবিধার্থে তারাবি নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত তুলে ধরা হলো।

তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম

রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবি নামাজ পড়তে হয়। তারাবি নামাজ দুই রাকাত করে পড়া হয়। প্রত্যেক দুই রাকাতের পর সালাম ফেরানো হয়। এভাবে চার রাকাত পড়ার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়। এসময় বিভিন্ন তাসবিহ পড়া উত্তম।

তারাবি নামাজের নিয়ত

ইসলামে নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ বা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা সঠিক নিয়তের সঙ্গে করতে হয়। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না, কারণ ইবাদতের মূল শর্তই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইচ্ছা। তাই তারাবি নামাজের জন্যও নিয়ত করা হয়। নিয়ত মনে মনে বাংলাতেও করা যায়।

আমাদের দেশের প্রচলিত তারাবির আরবি নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবি সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবি সুন্নত নামাজের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার।

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, তারাবি নামাজের নিয়ত আরবিতে করা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাতেও এভাবে নিয়ত করা যাবে যে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে (জামাত হলে- এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার। উল্লেখ্য, নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরী নয়, তবে উত্তম।

তারাবি নামাজের দোয়া

তারাবি নামাজে প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রাম নেওয়া হয়। এ সময় একটি দোয়া পড়ার প্রচলন রয়েছে আমাদের দেশে। প্রায় সব মসজিদের মুসল্লিরা এই দোয়াটি পড়ে থাকেন।

দোয়াটি হলো

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

বাংলা উচ্চারণ : সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।

মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, মনে রাখতে হবে, তারাবি নামাজ বিশুদ্ধ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এই দোয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। এই দোয়া না পড়লে তারাবি নামাজ হবে না, কোনওভাবেই এমন মনে করা যাবে না। মূলত এ দোয়ার সঙ্গে তারাবি নামাজ হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, এ সময় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়াই পড়া যাবে। ফক্বিহ আলেমদের মতে, তারাবি নামাজে চার রাকাত পর বিশ্রামের সময়টিতে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া, তওবা,-ইসতেগফারগুলো পড়াই উত্তম।

তারাবি নামাজ শেষে মোনাজাত

প্রতিদিন তারাবি নামাজ শেষে দেশের মসজিদগুলোতে একটি দোয়া পড়ে মোনাজাতের প্রচলন রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই দেশব্যাপী মসজিদগুলোতে প্রচলিত এই দোয়াটি হলো-

اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার, বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির- বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

উল্লেখ্য, আমাদের সমাজে অনেকে মনে করেন তারাবি নামাজ সঠিক নিয়মে আদায়ের জন্য নামাজ শেষে এই দোয়াটি পড়া আবশ্যক। এমন ধারণা বা বিশ্বাস মোটেও ঠিক নয়। তাই দোয়াটি পড়ার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তারাবি নামাজ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত পর পর পড়া দোয়াটির সঙ্গে তারাবি বিশুদ্ধ হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।

বিয়ে কবে, চাকরি কই— প্রশ্নগুলো সামলানোর স্মার্ট ৬ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ এএম
বিয়ে কবে, চাকরি কই— প্রশ্নগুলো সামলানোর স্মার্ট ৬ উপায়

পারিবারিক অনুষ্ঠান, আত্মীয়ের বাসা কিংবা কোনো সামাজিক আড্ডা; যেখানেই যান কিছু প্রশ্ন যেন পিছু ছাড়ে না। ‘বিয়ে কবে?’, ‘চাকরি কই?’, ‘এখনো সেটেলড না?’; এ ধরনের প্রশ্ন অনেক সময় বিব্রতকর হয়ে ওঠে। সরাসরি প্রতিবাদ করলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, আবার চুপ থাকলেও অস্বস্তি কাটে না। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ভদ্রতা বজায় রেখে নিজেকে সামলাবেন, জেনে নিন কিছু কার্যকর উপায়।

কেন এমন প্রশ্ন করা হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের সমাজে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল অনেক বেশি। অনেকে সামাজিকভাবে ‘কেয়ার’ দেখানোর অংশ হিসেবে এমন প্রশ্ন করেন। কেউ কেউ আবার নিজের অভিজ্ঞতা বা প্রত্যাশা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে এটি নিছক কথা শুরু করার সহজ উপায়ও।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রশ্নগুলো সব সময় খারাপ উদ্দেশে করা হয় না, কিন্তু এগুলোর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

স্মার্টভাবে সামলাবেন যেভাবে

১. হালকা হাসি দিয়ে এড়িয়ে যান

সব প্রশ্নের জবাব সিরিয়াসভাবে দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। তাই ‘দোয়া রাখেন, সময় হলে জানাব’— এ ধরনের উত্তর অনেক সময় পরিস্থিতি হালকা করে দেয়।

২. সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষ উত্তর দিন

বেশি ব্যাখ্যায় গেলে প্রশ্ন বাড়ে। তাই ‘চেষ্টা করছি’, ‘প্রসেসে আছি’— এ ধরনের ছোট উত্তরই যথেষ্ট।

৩. কথার মোড় ঘুরিয়ে দিন

প্রশ্ন এড়িয়ে অন্য প্রসঙ্গ তুলুন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নকারীকে আপনিও কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন : ‘আপনার ছেলে তো এবার কলেজে উঠল, কেমন করছে?’

৪. সীমা নির্ধারণ করুন

যদি প্রশ্ন বারবার আসে, তখন ভদ্রভাবে সীমা টানতে পারেন। ‘এই বিষয়টা নিয়ে একটু ব্যক্তিগত থাকতে চাই’— এভাবে বললে অনেকেই বুঝে যান।

৫. হিউমার ব্যবহার করুন

হালকা মজা অনেক সময় অস্বস্তি কমায়। তাই ‘চাকরি খুঁজছি, পেলে আপনাকেই প্রথমে বলব’— এ জাতীয় মজাদার উত্তর আপনার পরিস্থিতিকে খুব সহজে সামলে নিতে পারবে।

৬. নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখুন

যদি আপনি প্রস্তুত না থাকেন, সেটা স্বীকার করাও স্বাভাবিক। তাই বিয়ের প্রশ্নে সহজ উত্তর হিসেবে বলতে পারেন, ‘এখন ক্যারিয়ারটাই ফোকাস করছি’— এটা আপনার আত্মবিশ্বাসেরই প্রকাশ।

কেন ‘না’ বলা গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের ব্যক্তিগত সীমা রক্ষা করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আপনার দায়িত্ব নয়। বরং ভদ্রভাবে ‘না’ বলতে শেখা আত্মসম্মান ও মানসিক স্বস্তি দুটোই বজায় রাখে।

কী এড়িয়ে চলবেন

১. রেগে গিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো

২. অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা

৩. নিজেকে ছোট করে ফেলা বা অপরাধবোধে ভোগা

শেষ কথা

সমাজে চলতে গেলে এমন প্রশ্ন এড়ানো সম্ভব নয়। তবে কৌশল জানা থাকলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও সহজ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, আপনার জীবন আপনার সিদ্ধান্ত। অন্যের কৌতূহলের চেয়ে নিজের স্বস্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র : আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক ও মাইন্ড

পদ্মার বুকে ট্র্যাজেডি: বাস উদ্ধারে মিললো ১৮ মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৪ এএম
পদ্মার বুকে ট্র্যাজেডি: বাস উদ্ধারে মিললো ১৮ মরদেহ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে রাজবাড়ী-নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, নদী থেকে বাসটি টেনে তুলে পন্টুনে রাখা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ১৩ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ জন।

এনডিসি আরও বলেন, বাসটি তল্লাশি শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে ভেতরে আর কোনো মরদেহ রয়েছে কি না। ঘটনার পর থেকে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা মোবাইলে বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে— কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪৮ এএম
আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস। হাজার বছরের সংগ্রামমুখর বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তার বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করে।

স্বাধীন বাংলাদেশ এবার ৫৬ বছরে পদার্পণ করল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়।

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় ১৯০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয় এ অঞ্চল। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হলেও পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর নতুন করে শোষণের বোঝা চাপিয়ে দেয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই পাকিস্তানের দুই অংশ—পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ছিল হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব।

শুধু তাই নয়, ভাষা ও সংস্কৃতিতেও ছিল বিস্তর অমিল। তবুও পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

রাষ্ট্র গঠনের শুরু থেকেই পূর্ব বাংলার মানুষ সীমাহীন শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হতে থাকে—অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই। তবে এই পরিস্থিতি মেনে নেয়নি এ ভূখণ্ডের মানুষ।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ ও আন্দোলনে গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে এসব আন্দোলন জাতীয় সংগ্রামে রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে পরিণত হয়।

পাকিস্তানের দুঃশাসন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি শুরু থেকেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামে। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সংগ্রামের পথ প্রসারিত হয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনসহ দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতি ১৯৭১ সালে এসে উপনীত হয়।

এই আন্দোলনগুলো এক পর্যায়ে স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন, কিন্তু তা প্রহসনে পরিণত হয়। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং বাঙালির ওপর সশস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়ে যান।

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু করে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে চালানো এই হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের। একই রাতে পাকিস্তানি বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়।

২৫ মার্চ রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের হত্যা করা হয়। নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ থেকেই ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীও গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নেয়। এর বিরুদ্ধে অদম্য সাহস নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বীর বাঙালি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর (ভারতীয় সেনাবাহিনী) যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বাঙালি জাতির চূড়ান্ত বিজয়।

জাতির এই শ্রেষ্ঠ অর্জন, মহান স্বাধীনতা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে। দিনটি সরকারি ছুটির দিন।