খুঁজুন
সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৬ চৈত্র, ১৪৩২

বনি ইসরাইল অভিশপ্ত হওয়ার ১০ কারণ

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ এএম
বনি ইসরাইল অভিশপ্ত হওয়ার ১০ কারণ

মুসলিম জাতির পিতা নবী হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তাঁর ছেলে ইসহাক আলাইহিস সালামও নবী ছিলেন। ইসহাক আলাইহিস সালামের ছেলে ইয়াকুব আলাইহিস সালামও নবী ছিলেন।

তাঁর আরেক নাম ছিল ইসরাইল। তাই তাঁর বংশধররাই বনি ইসরাইল বা ইসরাইলের সন্তান নামে পরিচিত। এই বংশেই আগমন ঘটে নবী হজরত মুসা আলাইহিস সালামের। তাঁর অনুসারী হিসেবে বনি ইসরাইল ইহুদি নামে পরিচিত পেয়েছে।

তারা এক সময় সঠিক আসমানী ধর্মের অনুসারী হলেও ইসলাম আগমনের পর অন্য সব আসমানী ধর্ম রহিত হয়ে যায় এবং একমাত্র ইসলামকেই মনোনীত ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন আল্লাহ তায়ালা। ইরশাদ হয়েছে, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।’ (সুরা মায়িদা : ৩)

ইসলামের ইতিহাসে বনি ইসরাইলরা অভিশপ্ত জাতি হিসেবে পরিচিত। কোরআনে এসেছে, আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম ও ইসা আলাইহিস সালাম বনি ইসরাইলের অবিশ্বাসীদের অভিশাপ দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তাদেরকে দাউদ ও মারইয়াম পুত্র ইসার মুখে লা’নত করা হয়েছে। তা এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত।’ (সুরা মায়েদা : ৭৮)

এ আয়াতে অভিশপ্ত হওয়ার কারণ হিসেবে তাদের অবাধ্যতা ও বাড়াবাড়ির কথা বলা হয়েছে। পরের দুটি আয়াতে আরও কিছু কারণ উল্লেখ করে আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা যে অন্যায় কাজ করেছিল তা থেকে একে অপরকে নিষেধ করতে না; তাদের কাজ ছিল অত্যন্ত গর্হিত। তুমি তাদের অনেককে দেখবে, তারা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করছে; যে কাজ তারা ভবিষ্যতের জন্য করেছে তা নিঃসন্দেহে মন্দ, আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। ফলে তারা আজাবে চিরকাল থাকবে।’ (সুরা মায়েদা : ৭৯-৮০)

এদিকে, সুরা নিসার ১৫৫-১৬১ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলের ওপর ক্রোধ ও অভিশাপের ১০টি কারণ উল্লেখ করেছেন।

সংক্ষেপে কারণগুলো হলো—

১. ব্যাপক পাপাচার

২. আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম গ্রহণ করতে মানুষকে বাঁধা দেওয়া

৩. তাদের ধর্মে সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সুদ খাওয়া

৪. অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা

৫. অঙ্গীকার ভঙ্গ করা

৬. নবীদের হত্যা করা

৭. আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম গ্রহণ না করে অজুহাত দেওয়া যে, আমাদের অন্তর তালাবদ্ধ, নতুন কোনো ধর্ম গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

৮. কুফরি করা

৯. মারিয়াম আলাইহিস সালামের প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।

১০. ইসা আলাইহিস সালামকে শূলে বিদ্ধ করে হত্যার মিথ্যা দাবি করা।

উল্লেখ্য, বনি ইসরাইলের অবাধ্যতার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য একটি ঘটনা হলো ‘শনিবারের বিধান লঙ্ঘন’। তাওরাতে বনি ইসরাইলের প্রতি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, শনিবার (ইয়াওমুস সাবত) দিনটি সম্পূর্ণভাবে ইবাদত-বন্দেগির জন্য নির্ধারিত থাকবে। এ দিনে দুনিয়াবি কাজকর্ম, বিশেষ করে মাছ শিকার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এটি ছিল আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষা।

কিন্তু বনি ইসরাইলের একদল মানুষ এই নির্দেশকে সরাসরি অমান্য না করার ভান করে চাতুরী ও অপকৌশলের আশ্রয় নেয়। তারা শনিবার দিনে প্রকাশ্যে মাছ শিকার না করলেও সেদিনই জাল ও গর্ত বসিয়ে রাখত, যাতে মাছ আটকা পড়ে যায়; এরপর রবিবার তা তুলে নিত। বাহ্যিকভাবে তারা শরিয়তের বিধান মানছে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর আদেশের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। এই অবাধ্যতা ও ধোঁকাবাজির পরিণতিতে আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর ভয়াবহ শাস্তি নাজিল করেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর অবশ্যই তোমরা জানো তাদের কথা, যারা তোমাদের মধ্য থেকে শনিবারের বিধান লঙ্ঘন করেছিল। অতঃপর আমি তাদের বলেছিলাম তোমরা লাঞ্ছিত বানরে পরিণত হও।’ (সুরা বাকারা : ৬৫)

জ্বালানি সংকট: বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
জ্বালানি সংকট: বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বা কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আপাতত তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলে যাবে সরকার।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম, আমদানিতে বাড়তি খরচ ও ডলার সংকটের কারণে সরকার এই কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা অন্তত আটটি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহার করা ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে।

তবে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আমাদের স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের বাইরেও চিন্তা করতে হতে পারে। সূত্রগুলো জানায়, বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া তৈরি শুরু করেছে।

জ্বালানি মজুত রোধে সরকার ইতোমধ্যে গত কয়েক দিনে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, চাপ কমাতে এখন চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে।

চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ বা ডিএসএম হলো ইউটিলিটি-চালিত এমন কিছু কৌশল, যার লক্ষ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনকে প্রভাবিত করা, কমানো বা সরিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে।

এই প্রতিবেদনের জন্য যোগাযোগ করা কর্মকর্তাদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তি দেন যে, আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, কোভিড আমলের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সিদ্ধান্তগুলো আরও আগেই নেওয়া যেত। প্রয়োজনে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক ডাকা যেতে পারে।

আরেকজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন যে, বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকেই সরকার পরিচালনায় নতুন, যা সংকটের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। তিনি অতীতের সংকট মোকাবিলা করেছেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।

গতকাল রবিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন ধরেননি। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল অফিসগুলোকে চলতি মাসের শুরুর দিকে দেওয়া জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং ব্যবহার না করলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা।

অফিসগুলোকে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি অফিসে এই নিয়মগুলো তদারকি করতে সরকার একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠন করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশও এর আঁচ পাচ্ছে, কারণ জ্বালানি ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা তেল ও এলএনজি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে যেকোনো বিঘ্ন বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কারণ এখানকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ব্যাপকভাবে বিদেশি গ্যাস ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় আমদানি কমিয়ে স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে দাম অনেক চড়া। যুদ্ধের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খাত ফার্নেস অয়েলের মতো ব্যয়বহুল বিকল্পের ওপর নির্ভর করছে। পাশাপাশি দেশের সীমিত শোধন ক্ষমতার কারণে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোবাংলা সতর্ক করেছে যে আগামী মাসগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরও যোগ করেন, তবে সম্প্রতি কেনা এলএনজি যদি সময়মতো পৌঁছায়, তাহলে এপ্রিল মাসে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সূত্র: ডেইলি স্টার

ইরান যেভাবে ইসলামের অধীনে আসে? জানুন এক নজরে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৩ এএম
ইরান যেভাবে ইসলামের অধীনে আসে? জানুন এক নজরে

ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু অধ্যায় রয়েছে, যা কেবল যুদ্ধ-বিজয়ের কাহিনি নয়, বরং এক সভ্যতার রূপান্তরের গল্প। ইরান বিজয়ের ইতিহাস তেমনই এক অনন্য অধ্যায়, যেখানে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক সমাজ ধীরে ধীরে আলোর পথে এগিয়ে আসে ইসলামের সুশীতল ছায়ায়।

শ্রেণিবৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন আর নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত পারস্যভূমি যখন মানবতার মুক্তির পথ খুঁজছিল, ঠিক তখনই ইসলামের ন্যায়, সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক বার্তা সেখানে পৌঁছে যায় সাহাবায়ে কেরামের হাত ধরে।

তাওহিদের আহ্বান, ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদার পুনর্জাগরণের মধ্য দিয়ে ইরান হয়ে ওঠে ইসলামি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে তরবারির ঝলকানির পাশাপাশি দাওয়াত, আদর্শ ও নৈতিকতার শক্তিই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়।

ইরানে ইসলামের ভিত্তি

ইসলাম বিজয়ের পূর্ববর্তী সময়ে ইরানে ধর্ম হিসেবে জরথুষ্ট্র মতবাদ ছিল সরকারিভাবে স্বীকৃত। তখন দেশটি শ্রেণিবৈষম্য, অবিচার, দুর্নীতি ও নির্যাতনের আখড়ায় পরিণত এক ভূমি ছিল। সাধারণ জনগণ দেশের স্বীকৃত ধর্মীয় কাঠামো থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে।

এরই মধ্যে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে, সাহাবি মুসান্না ইবনে হারিসা (রা.)-এর নেতৃত্বে ইরানে ইসলাম বিজয়ের প্রথম ধাপ সূচিত হয়। তিনি সাওয়াদ অঞ্চলের আশপাশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমি জয় করে ইসলামি পতাকা উড্ডীন করেন, যা ছিল এক বৃহৎ পরিবর্তনের সূচনা।

হজরত উমরের শাসনামলে নতুন গতি

খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলে ইরানে ইসলামি বিজয় নতুন গতি পায়। সাহাবি আবু উবাইদ আস-সাকাফি (রা.) ১৩ হিজরিতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে পারস্যে অভিযান শুরু করেন। তিনি সেতুর যুদ্ধে পারস্য সেনাপতি জাবানকে পরাজিত ও বন্দী করেন। এরপর কাসকারে নরসির এবং গ্যালেনের সাথেও সফলভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তবে এক পর্যায়ে পারস্য বাহিনীর আকস্মিক হামলায় মুসলিম বাহিনী চাপে পড়ে। অনেক সৈন্য নিহত ও পানিতে ডুবে যায়, আর এই যুদ্ধেই শহীদ হন আবু উবাইদ আস-সাকাফি (রা.)। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা ৪২১)

ইতিহাসের মোড় ঘোরানো যুদ্ধ

১৪ হিজরীতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ইরান বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করে। ঐতিহাসিক আল-কাদিসিয়া যুদ্ধে পারস্য বাহিনী মুসলমানদের কাছে নির্মমভাবে পরাজিত হয়। এই যুদ্ধ ছিল ইসলামের অন্যতম বড় বিজয়, যা ইরানে ইসলামি শাসনের পথ সুগম করে।

ঐতিহাসিকদের মতে, কাদিসিয়া যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার, আর পারস্য সেনাপতি রুস্তুম নেতৃত্ব দেন প্রায় ৬০ হাজার সৈন্যের। ১৪ হিজরির মহররম মাসের এক সোমবার প্রবল ঝড়ে পারস্য বাহিনীর তাঁবু উড়ে যায়, এমনকি রুস্তুমের বিছানাও ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। তিনি পালাতে চেষ্টা করলে মুসলিমরা তাকে ধরে হত্যা করে। পারস্য বাহিনীর আরেক নেতা আল-জালানুসও নিহত হন।

এই যুদ্ধে মুসলমানরা পারস্যদের পরাজিত করে। উপর্যুপরি হামলায় তাদের ৩০ হাজার সদস্য নিহত হয়। আর কয়েক দিনে দুই হাজার পাঁচ শ মুসলিম শহীদ হন। এরপর মুসলমানরা পরাজিত পারস্য সেনাদের ধাওয়া করতে করতে মাদায়েন শহরে প্রবেশ করে, যা ছিল পারস্য বাদশাহর রাজধানী এবং খোসরোর প্রাসাদ ‘ইওয়ান’-এর অবস্থান। কাদিসিয়া যুদ্ধে মুসলিমরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও অস্ত্রশস্ত্র লাভ করার পর গনিমতের মাল একত্র করে ভাগ করা হয়, যার এক-পঞ্চমাংশ খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাছে সুসংবাদের সঙ্গে পাঠানো হয়। ( আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা ৬৩০)

মুসলিমরা ইরানের ভূখণ্ডে তাদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত রেখে দক্ষিণ ইরান দখল করে। ১৮ হিজরিতে জালুলার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী ও ইয়াজদেগার্দের সেনারা সম্মুখসমরে লড়াই করেন, যেটি ইয়াজদেগার্দ ও তার বাহিনীর পরাজয়ে শেষ হয় এবং তিনি ইসফাহানের দিকে পশ্চাদ গমন করেন।

আল্লামা তাবারি (রহ.) লিখেছেন, ‘সেদিন আল্লাহ এক লাখ সৈন্যকে নিহত করেছেন, যার মৃতদেহ মাঠসহ তার আশপাশ সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়েছিল। এ কারণে ওই স্থানটির নাম হয় জালুলা।’ (তারিখুত তাবারি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬)

বিজয়ের বিজয়

২১ হিজরীতে নাহাওয়ান্দের চূড়ান্ত যুদ্ধে মুসলিমরা ইয়াজদেগারদের পরাজিত করে এক মহা বিজয় অর্জন করে। এর পর সাসানীয় শাসকরা আর কখনও পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। গনিমতের বিপুল সম্পদের কারণে এই যুদ্ধে মুসলিমরা ‘বিজয়ের বিজয়’ নামে সমাদৃত হয়।

বিখ্যাত তাফসিরবিদ ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, ‘এই যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর। মুসলিমরা এটিকে ‘বিজয়ের বিজয়’ বলে অভিহিত করেছিল’ (আল-বিদায়া ওয়াল-নিহায়া, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১১১)।

দেশটির বিস্তৃতি ও দুর্গমতার কারণে পুরো ইরান নিয়ন্ত্রণে নিতে মুসলমানদের প্রায় এক দশক সময় লেগেছিল। অতঃপর ইসলামের প্রচার-প্রসার সহজ হয় আরব গোত্রের অভিবাসন, বসতি স্থাপন ও ইরানিদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মিশ্রণের মাধ্যমে।

৯০৬ হিজরিতে শিয়া সাফাভিরা ক্ষমতা গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত প্রায় নয় শতাব্দী ধরে ইরান সুন্নি মতবাদ অনুসরণ করে আসছিল। এটি শুধু সামরিক নয়; বরং এক ঐতিহাসিক বিপ্লব, যার মাধ্যমে ইরান ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক ও বিশ্বব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন এনেছিল।

বাতিলের তালিকায় উঠছে গণভোটসহ যে ২০ অধ্যাদেশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৭ এএম
বাতিলের তালিকায় উঠছে গণভোটসহ যে ২০ অধ্যাদেশ?

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তত ২০টি অধ্যাদেশের কপাল পুড়ছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফলে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও বিষয়গুলো নিয়ে সংসদের বৈঠকে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যেসব অধ্যাদেশ প্রথম অধিবেশনে পাস করা সম্ভব হচ্ছে না সেগুলো নতুন করে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ ছাড়াও বাতিল করার সুপারিশের তালিকায় রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুভাগ করে করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ-সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স-২০২৫, অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।’

কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’ এ দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬সহ জুলাই সুরক্ষা’-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তারা আরও জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি দিক বিবেচনায় যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ যেভাবে আছে, সেভাবেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল আকারে এনে পাস করবে। দ্বিতীয়ত, কিছু অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এ অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ (বাতিল) হয়ে যাবে; প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে নতুন বিল আকারে হিসেবে আসবে। সূত্র জানিয়েছে, ২০টি অধ্যাদেশের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি কমিটি। ফলে এগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাড়াহুড়ো করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব ত্রুটিবিচ্যুতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সে কারণে স্পর্শকাতর এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে আরও খতিয়ে দেখে সরকার পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সে কারণে সংসদীয় বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে আপাতত এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রয়োজন মনে করলে সরকার পরবর্তী সময়ে এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করবে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, যেসব অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটি ঐকমত্য হতে পারবে না, তা বাতিলের সুপারিশ করবে। সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে কত অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি। বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর এ ব্যাপারে জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওই বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত চলতি বছর ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে। নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি দমন, অর্থ পাচার, জনপ্রশাসন ও শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, অর্থনীতি, রাজস্ব, কর ও বাজেট, ব্যাংকিং, আর্থিক খাত ও নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও সুশাসন বিষয়ে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনের ৫৫৯ দিনে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৯৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেন।

সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলোকে বৈধতা দিতে হলে সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে আইনে রূপান্তর করতে হয়। তা না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয় এবং কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। অধ্যাদেশগুলোর আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদের অনুমোদন পেতে হবে। যেগুলো অনুমোদন পাবে না, সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

সে অনুযায়ী গত ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন এমপি। এ সময় কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ২৫ মার্চ দ্বিতীয় দিনের মতো বিশেষ কমিটির বৈঠক হয়।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার পর বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শুরু হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় বিশেষ কমিটির বৈঠক চলছিল। বৈঠকে মোট ২৬টি অধ্যাদেশ আলোচনার জন্য উঠেছে। এর মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এর আগে গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে গতকাল রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যেসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে—সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশগুলো সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।

গণভোট অধ্যাদেশ

গত বছরের ২৫ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে সরকার। এতে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত এ অধ্যাদেশ। এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে এ গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এর বৈধতায় রুল জারি করেছেন। সে কারণে সরকারও আপাতত এই অধ্যাদেশটি পাসের পক্ষে নন। যদিও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ

গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করে সরকার। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। বিচার বিভাগের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্পের এবং অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ব্যয় সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা হলে তার অনুমোদন দিতে পারবেন প্রধান বিচারপতি—এমন বিধান করা হয়। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান-সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে বলে এতে বলা হয়; কিন্তু বর্তমান সরকার এ অধ্যাদেশের কিছু নেতিবাচক দিক চিহ্নিত করেছে। একক হাতে বিচারকদের বদলি, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের বিষয়টি চলে গেলে তা স্বৈরাচারী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এ কারণে এটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ’ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের সুপারিশ করছে বিশেষ কমিটি। সংশোধিত অধ্যাদেশে আগের আইনে থাকা কমিশনের ‘চেয়ারম্যান’ পরিবর্তন করে নতুন আইনে ‘চেয়ারপারসন’ করা হয়। এ ছাড়া ‘সদস্য’ পরিবর্তন করে ‘কমিশনার’ পদ যুক্ত করা হয়। অধ্যাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্য, পুলিশ, র্যাব, বিজিবির সদস্যসহ যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে এখন থেকে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে মানবাধিকার কমিশন, যা আগের আইনে ছিল না। এতে আরও বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মচারী কিংবা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে কমিশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে কোনো আইনানুগ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ বা সুপারিশ করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওই নির্দেশ বা সুপারিশ কার্যকর করবে। অধ্যাদেশে বলা হয়, লিখিত অভিযোগ ছাড়াও গণমাধ্যমে প্রচারিত বা প্রকাশিত প্রতিবেদন বা যে কোনো মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন ঘটনা তদন্ত করতে পারবে। কমিশনের তদন্ত কর্মকর্তা কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে কোনো পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলব করতে পারবেন। পাশাপাশি কমিশন তার কার্যাবলি সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সময় যে কোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ওই স্থান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা অবহিত করার প্রয়োজন হবে না। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কারাগার, হাজতখানাসহ যে কোনো আটক কেন্দ্র, নিরাপত্তা হেফাজত, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবে কমিশন। এ ছাড়াও কমিশনের আরও বেশ কিছু বিষয়ে ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কমিশন ৫ সদস্যের করার বিধান করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ

গত বছরের ২১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশটির ব্যাপারেও একমত হতে পারেননি অংশীজনরা। ফলে এটি বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে উপযুক্ত ব্যক্তিকে বাছাইপূর্বক প্রধান বিচারপতি কর্তৃক রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ এটি। এই পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদানে একটি স্থায়ী কাউন্সিল থাকবে এবং এটির নাম হবে ‘সুপ্রিম জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। সাত সদস্যের এই কাউন্সিলের চেয়ারপারসন হবেন প্রধান বিচারপতি। হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে কাউন্সিল। এ ছাড়া আবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে। সংগৃহীত তথ্য এবং জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। কাউন্সিলের বিবেচনায় যথাযথ প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে। প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে। নিয়োগযোগ্য বিচারকের সংখ্যার অতিরিক্ত যুক্তিসংগত সংখ্যক প্রার্থীর নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে প্রণয়ন ও প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করবে। অতিরিক্ত বিচারকদের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক নিয়োগ করা হবে। এজন্য কাউন্সিল সুপারিশ প্রণয়ন করে তা প্রধান বিচারপতির কাছে দেবে। চাইলে কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্টের কোনো অতিরিক্ত বিচারকের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করতে পারবে। আবার কোনো অতিরিক্ত বিচারক স্থায়ী নিয়োগে অনুপযুক্ত হলে কাউন্সিল তাকে সুপারিশে বিরত থাকতে পারবে। শূন্যপদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত জ্যেষ্ঠদের আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এজন্য নির্ধারিত নিয়োগযোগ্য বিচারকের সংখ্যার অতিরিক্ত যুক্তিসংগত সংখ্যক নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে প্রণয়ন ও প্রধান বিচারপতির কাছে দেবে। প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তার পরামর্শ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন।

দুদক (সংশোধন) অধ্যাদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশে কমিশনের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করা এবং কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর নির্ধারণ করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কমিশনার থাকতে হবে। কমিশনের সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে বিদ্যমান কমিশনের ক্ষেত্রে এই সংশোধিত অধ্যাদেশ কার্যকর হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ন্যস্ত রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, এখন থেকে প্রতি ছয় মাস পরপর দুদককে তাদের কার্যক্রমের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি দুদকের সব কর্মকর্তার জন্য সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতাও দুদককে দেওয়া হয়। এই অধ্যাদেশটিও সংসদীয় কমিটির বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রয়েছে।

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে গত বছরের ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এর ফলে বিলুপ্ত হয় ‘এনবিআর’ ও ‘আইআরডি’ নামক প্রতিষ্ঠান। এটিকে এনবিআরের ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বড় প্রশাসনিক বিভাজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সংসদীয় বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের তালিকায় রেখেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশ

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ, টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং বিমান ভাড়া (ট্যারিফ) যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে গত ২ জানুয়ারি ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রেখেছে সংসদীয় কমিটি। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিমান ভাড়া ও বিভিন্ন চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ‘উপদেষ্টা পর্ষদ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই পর্ষদ দেশি ও বিদেশি এয়ার অপারেটর এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটরদের জন্য ফি, চার্জ, রয়্যালটি এবং ভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। এয়ার অপারেটরদের তাদের সব রুটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা (ট্যারিফ) কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। কোনো রুটে কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিলে চেয়ারম্যান সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে তাকে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে হবে অথবা শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন সংস্থাকে সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি (জিএসএ) হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া কোনো এয়ার অপারেটর সরাসরি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা বা জিএসএ হিসেবে কাজ করতে পারবে না, যা বাজারে অসম প্রতিযোগিতা রোধে সহায়ক হবে।

মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ

গত বছরের ১৯ নভেম্বর মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে সরকার। অধ্যাদেশে বলা হয়, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপনের জন্য আগের আইনের বিধান অপ্রতুল। মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপন সহজীকরণ, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার রোধ ও অবৈধ পাচার রোধ করতে আগের আইন রহিত করে একটি যুগোপযোগী অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা সমীচীন। নতুন এই অধ্যাদেশের ফলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনটা খুব সহজ হবে। আগে যেমন ছিল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য খুবই কাছের যেমন ভাইবোন, বাবা-মা থেকে নিতে পারতেন, এখন এটাকে একটু সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অঙ্গ দান করার ক্ষেত্রে পরিধি বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ভাতিজা, ভাগিনা যুক্ত করা হয়েছে। তারাও অঙ্গদান করতে পারবে না। এর ফলে বাংলাদেশের অনেককেই এখন কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য আর বিদেশে যাওয়া লাগবে না। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোও এই সার্ভিস দিতে পারবে। তবে এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল। ফলে এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের তালিকায় থাকছে।

সূত্র : কালবেলা