খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

সুদ বা ঘুসখোর ব্যক্তির বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া যাবে কী?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৯ এএম
সুদ বা ঘুসখোর ব্যক্তির বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া যাবে কী?

সমাজে অনেক সময় আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের মধ্যে এমন কেউ থাকেন যারা সুদ বা ঘুসের সঙ্গে জড়িত। তারা দাওয়াত দিলে বা কোনো হাদিয়া পাঠালে তা গ্রহণ করা যাবে কি না—এই প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই মাসআলার সঠিক সমাধান নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: আত্মীয়ের মধ্যে কেউ যদি সুদখোর থাকে তিনি যদি দাওয়াত খাওয়াতে চান, তাহলে খাওয়া যাবে কী?

উত্তর: উত্তম হলো সুদ বা ঘুসখোর ব্যক্তির বাড়িতে খাওয়া পরিহার করা। তাকওয়ার দাবি হচ্ছে, এগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখা। কিন্তু এ ধরনের খাওয়া হারাম বা নিষিদ্ধ নয়। আপনি হালাল খাবার খেতে পারেন।

আপনি যদি জানেন যে, এই লোক সুদ, ঘুস বা খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাহলে সেখানে খাওয়া মানে তাকে অনেকটা উৎসাহিত করার মতো। বিশেষ করে যদি প্রভাবশালী বা মর্যাদাশালী- এ ধরনের লোক যদি খায়, তাহলে বুঝতে হবে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে, তাদের সতর্ক করার জন্য এগুলো পরিহার করা। তা না হলে আপরাধী আরও প্রশ্রয় পেয়ে যাবে।

জায়েয, কিন্তু সতর্কতামূলক

সুদখোর আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত বা সাধারণভাবে খাওয়া জায়েজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন এবং হাদিয়া গ্রহণ করেছেন, অথচ তারা সুদ ও হারাম উপার্জনে লিপ্ত ছিল।

শর্ত সাপেক্ষে খাওয়া যাবে

যদি সুদি ব্যক্তির আয়ের সিংহভাগ (অধিকাংশ) হালাল হয় (যেমন পৈতৃক সম্পত্তি, বৈধ ব্যবসা), তবে তার বাড়িতে খাওয়া বা উপহার গ্রহণ করা যাবে।

বর্জন করা উত্তম (যদি আয় শুধুমাত্র সুদি হয়)

যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, ওই ব্যক্তির আয়ের মূল উৎসই হলো সুদ বা হারাম, তবে তার বাড়িতে না খাওয়া এবং তার হাদিয়া না নেওয়া উত্তম।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ও সংশোধন

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার্থে বা তাকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে, অথবা তাকে ইসলামের পথে আকৃষ্ট করার নিয়তে যদি তার বাড়িতে খাওয়া হয়, তবে এতে কোনো দোষ নেই। সেক্ষেত্রে নিয়ত করতে হবে যে, তার হালাল অংশ থেকে সামান্য নিচ্ছেন, হারাম থেকে নয়।

সুদি ব্যক্তির উপার্জনের গুনাহ তার নিজেরই ওপর বর্তাবে। তার আত্মীয়-স্বজন বা মেহমান যদি তার হালাল উপার্জন সম্পর্কে নিশ্চিত না হন, তবে তারা তার বাড়িতে খেতে পারেন।

মূলকথা

সম্পর্ক বজায় রাখার খাতিরে তাদের বাড়িতে যাওয়া এবং খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে হালাল-হারামের প্রতি সতর্ক থাকা এবং সুযোগ থাকলে তাদের সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝিয়ে সংশোধন করার চেষ্টা করা উত্তম।

সাধারণভাবে উচিত হলো- এসব দাওয়াত বা হাদিয়া কৌশলে ফিরিয়ে দেবেন। আর তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। কেননা, আল্লাহতায়ালা কেবল হালাল খাবার গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের আমি যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে হালালগুলো ভক্ষণ করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭২)

তবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা যদি ভালো মনে না করেন; যেমন- আত্মীয়তার কারণে ও ওই আত্মীয়ের সাথে সুসম্পর্ক ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন মনে করেন; তাহলে অতিসামান্য হাদিয়া-উপহার নেওয়া যাবে। তবে তখন নিয়ত করবেন যে, তার সম্পদের মধ্যে যেসব হালাল অংশ রয়েছে; সেখান থেকে আপনি সামান্য নিচ্ছেন। যেমন- হারাম উপার্জনের বাইরে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি কিংবা হালাল আয় রয়েছে। সে হিসাবে অপারগতার কারণে এটি করার অনুমতি রয়েছে।

এর দলিল হলো- ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘তার নিকটে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল- আমার একজন প্রতিবেশী আছে, যে সুদ খায় এবং সর্বদা আমাকে তার বাড়িতে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়। এখন আমি তার দাওয়াত কবুল করব কি?

জওয়াবে তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটি বিনা কষ্টের অর্জন এবং এর গোনাহ তার উপরে’। (মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক : ১৪৬৭৫)

নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম
নগরকান্দায় যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে লস্করদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলু মোল্যা (৬০)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বিনোকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু মোল্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাবলু মোল্যা বিনোকদিয়া গ্রামের জাফর মোল্যার ছেলে।

এ ঘটনায় রাত প্রায় ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে একই গ্রামের নজরুল মোল্লা এবং তার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবলু মোল্যার সঙ্গে নজরুল মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে এ বিরোধের জেরে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নজরুল মোল্লার ছেলে রুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লা বাবলু মোল্যার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমা পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

২০১৩ সালের সাভারের রানা প্লাজা ধসে তিনদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা দীর্ঘ ১০ বছর জীবনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা বেগম তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও তাদের কোলের শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।

নাসিমা বেগমের জীবনের পুরো অধ্যায়টিই ছিল শোক আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে যখন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, তখন তিনি ওই ভবনের একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসার পর দীর্ঘদিন গ্রামে কাটান তিনি। কিন্তু স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর অভাবের তাড়নায় আবারও গার্মেন্টসের কাজে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।

সালথা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১:০৬ পিএম
সালথা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ফরিদপুরের সালথা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া। শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় দলীয় এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাব-এর হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলেও বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “দল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে এখন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই যুক্তিযুক্ত মনে করছি।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্ত তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও কারো প্ররোচনা ছাড়াই নিয়েছেন।

এদিকে, পদত্যাগের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও ধীরে ধীরে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এখন থেকে তিনি ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত রাখবেন।

প্রসঙ্গত, ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়া সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যা তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শেখ মনির হোসেন-এর সভাপতিত্বে ও ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ফারুকউজ্জামান ফকির মিয়ার পদত্যাগে সালথা উপজেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।