খুঁজুন
, ,

অফিস থেকে ছুটির আবেদন মঞ্জুর করানোর বিশেষ ৮ কৌশল

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
অফিস থেকে ছুটির আবেদন মঞ্জুর করানোর বিশেষ ৮ কৌশল

ঈদ, কোরবানির ছুটি, পরিবারের অনুষ্ঠান, বিয়ে, ভ্রমণ, অসুস্থ স্বজনের পাশে থাকা কিংবা নিজের মানসিক প্রশান্তি—কর্মজীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ছুটি প্রয়োজন হয় সবারই। কিন্তু অনেক কর্মীর অভিযোগ, যথাসময়ে আবেদন করেও ছুটি মেলে না। আবার কেউ কেউ সহজেই কাঙ্ক্ষিত ছুটি পেয়ে যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছুটি মঞ্জুর হওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে আবেদন করার কৌশল, সময় নির্বাচন এবং কর্মক্ষেত্রে আপনার পেশাদার আচরণের ওপর। সঠিক উপায়ে আবেদন করলে ছুটি অনুমোদনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

নিচে ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কর্মক্ষেত্রের নীতিমালাবিষয়ক বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্ম এইচআর ইউনিভার্সিটি ও ক্যারিয়ার ইনডিড-এর আলোকে ছুটির আবেদন মঞ্জুর করানোর বিশেষ ৮ কৌশল তুলে ধরা হলো।

১. শেষ মুহূর্তে নয়, আগে থেকেই জানান

ছুটির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো আগাম পরিকল্পনা। কর্মক্ষেত্রে হঠাৎ ছুটির আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে আবেদন নাকচ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ইনডিড-এর পরামর্শ অনুযায়ী, ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যত দ্রুত সম্ভব কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এতে প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় সহজ হয় এবং অনুমোদনের সম্ভাবনাও বাড়ে।

২. ব্যস্ত সময় এড়িয়ে আবেদন করুন

অনেক প্রতিষ্ঠানে বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। যেমন—অডিট, বাজেট, ভর্তি কার্যক্রম, পরীক্ষা, প্রকল্প জমা বা উৎসব মৌসুম।

এ সময় ছুটি চাইলে কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাই প্রতিষ্ঠানের কাজের চাপ বিবেচনা করে আবেদন করলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া সহজ হয়।

৩. শুধু সমস্যা নয়, সমাধানও দিন

ভালো কর্মীরা শুধু ছুটি চান না, নিজেদের অনুপস্থিতিতে কাজ কীভাবে চলবে সেটিও জানান।

যেমন বলতে পারেন: ‘আমার দায়িত্বে থাকা ফাইলগুলো আগেই সম্পন্ন করে দেব। জরুরি প্রয়োজনে ফোনে পাওয়া যাবে’—এ ধরনের আশ্বাস কর্তৃপক্ষের আস্থা বাড়ায় এবং আবেদন গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

৪. অপ্রয়োজনীয় নাটক নয়, সৎ থাকুন

অনেকেই ছুটি পাওয়ার জন্য অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা বা নানা অজুহাত দাঁড় করান। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দেখা গেছে, কর্মীরা সৎভাবে কারণ জানালে ব্যবস্থাপকরা ইতিবাচক মনোভাব দেখান। কর্মক্ষেত্রে বিশ্বাসের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর সম্পদ।

৫. মৌখিক নয়, লিখিত আবেদন করুন

শুধু মুখে বলার পরিবর্তে ই-মেইল, অফিসিয়াল সফটওয়্যার বা লিখিত আবেদনপত্র ব্যবহার করা ভালো।

এতে আবেদন ও অনুমোদনের একটি রেকর্ড থাকে, যা ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে। কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞরাও লিখিত আবেদনকে বেশি পেশাদার পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করেন।

৬. বসের সঙ্গে আগে কথা বলুন

অনেক সময় সরাসরি আবেদন পাঠানোর চেয়ে আগে সংক্ষিপ্তভাবে বিষয়টি জানানো বেশি কার্যকর হয়।

যদি সম্ভব হয়, আবেদন জমা দেওয়ার আগে আপনার সুপারভাইজারকে জানান, ‘স্যার, আগামী মাসে দুদিনের ব্যক্তিগত প্রয়োজন আছে। আমি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেব।’ এতে তিনি আগে থেকেই বিষয়টি মাথায় রাখতে পারেন।

৭. কর্মদক্ষতা ছুটির অনুমোদনেও ভূমিকা রাখে

বাস্তবতা হলো, দায়িত্বশীল ও সময়মতো কাজ সম্পন্ন করেন—এমন কর্মীদের ছুটির আবেদন সাধারণত বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ কর্তৃপক্ষ জানে, তিনি অনুপস্থিত থাকলেও কাজ গুছিয়ে রেখে যাবেন। তাই ছুটি পাওয়ার কৌশল শুধু আবেদনপত্রে নয়, আপনার সারাবছরের কর্মদক্ষতার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।

৮. আবেগ নয়, পেশাদার ভাষা ব্যবহার করুন

অনেকে আবেদনপত্রে অতিরিক্ত আবেগপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পেশাদার ও সংক্ষিপ্ত ভাষাই সবচেয়ে কার্যকর।

ভালো আবেদন সাধারণত তিনটি বিষয় স্পষ্ট করে—

কত দিনের ছুটি প্রয়োজন

কেন প্রয়োজন (সংক্ষেপে)

অনুপস্থিতিতে কাজের ব্যবস্থা কী

এতেই যথেষ্ট।

শেষ কথা

ছুটি চাওয়া কোনো অপরাধ নয়। বরং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ছুটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিকল্পিত ছুটি কর্মীদের মানসিক চাপ কমায়, উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মদক্ষতা উন্নত করে।

তাই ছুটি মঞ্জুর করানোর সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো—আগাম পরিকল্পনা, স্বচ্ছ যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার আচরণ। অনেক সময় একটি ভালো আবেদনপত্রের চেয়েও বেশি কাজ করে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা।

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।

সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামে টয়লেট থেকে ফেরার পথে সাপের কামড়ে সরস্বতী মণ্ডল (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সরস্বতী মণ্ডল ওই গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের টয়লেট থেকে ফেরার সময় সরস্বতী মণ্ডল অসাবধানতাবশত একটি ইঁদুরের গর্তে পা দেন। এ সময় গর্তে থাকা একটি সাপ তাঁকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সকাল আটটার দিকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এ মৃত্যুর ঘটনায় পিসনাইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।