রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে কারাগার—খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। দীর্ঘ অসুস্থতার পর আজ সকাল Dhaka-এর Apollo/Evercare হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, ঘোষণা করেছে তার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP)।
বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে ছিলেন এক শীর্ষস্থানীয় ও বিরোধী নেতৃত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার উপস্থিতি প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সম্প্রতি তার স্বাস্থ্যে অনিথ বিকট জটিলতা দেখা দেয়। নভেম্বরের শেষ দিক থেকে তিনি ঢাকার Evercare Hospital-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন, যেখানে তার শারীরিক অবস্থাকে ‘চরম সংকটাপন্ন’ বলে চিকিৎসকরা অভিহিত করেছিলেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ড বারবার দেশের মানুষকে দোয়ার অনুরোধ করেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়া ছিলেন বর্তমান সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ দলের—BNP—চেয়ারপারসন, এবং তাঁর নেতৃত্বে দল বহু নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ও আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নানা গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা—যেমন লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস ও হার্ট-সংশ্লিষ্ট সমস্যায় ভুগছিলেন এবং দীর্ঘ চিকিৎসার দরুন তিনি জনসাধারণের সামনে কম উপস্থিত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ঘোষণা হওয়ার পর প্রধান রাজনৈতিক নেতারা দেশবাসীকে ঐক্য ও শান্তির আহ্বান জানাচ্ছে, পাশাপাশি শোক প্রকাশ করছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে টুইট, পোস্ট, এবং বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে—যেখানে তাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন শক্তিশালী মহিলা নেতা হিসেবে উত্তোলন করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার জীবনের অন্যতম উজ্জ্বল দিক ছিলো রাজনৈতিক সংগ্রাম ও নেতৃত্বের জন্য সমাজে নারীর ভূমিকার প্রসার। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা কখনোই সহজ ছিল না—মূলত কঠিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কারাবন্ধি, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দুশ্চিন্তাপূর্ণ স্বাস্থ্যচিন্তা সব মিলিয়ে তা আরও বিষম করে তুলেছিল।
আজ তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে—এটি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

আপনার মতামত লিখুন
Array