খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২৪ চৈত্র, ১৪৩২

আয়না ঝকঝকে রাখার কার্যকর টিপস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
আয়না ঝকঝকে রাখার কার্যকর টিপস

বাথরুমের বেসিন হোক বা ড্রেসিং টেবিল, প্রতিদিনের পানির কণা, ধুলোবালি ও বাষ্পে আয়না দ্রুত ঝাপসা হয়ে যায়। আয়নায় নিজের মুখটাই যদি স্পষ্ট দেখা না যায়, তবে কারই বা ভালো লাগে! সাধারণ সুতির কাপড় দিয়ে মুছলেও অনেক সময় দাগ থেকেই যায়। তাই জেনে নিন আয়না ঝকঝকে রাখার কিছু কার্যকর উপায়,

গরম পানি ও সুতির কাপড়

সময় কম থাকলে হালকা গরম পানিতে একটি সুতির কাপড় ভিজিয়ে নিন। ভালোভাবে পানি নিংড়ে নিয়ে আয়নাটি মুছে ফেলুন।

এরপর দ্রুত একটি শুকনো কাপড় দিয়ে আবার মুছে নিন। এতে পানির জেদি দাগ সহজেই দূর হবে।

টুথপেস্টের ম্যাজিক

আয়না নতুনের মতো চকচকে করতে টুথপেস্ট বেশ কার্যকর। সমপরিমাণ পানি ও টুথপেস্ট মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন।
এটি আয়নায় লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর পুরনো খবরের কাগজ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। সবশেষে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিলে আয়না ঝকঝকে হয়ে উঠবে।

বেকিং সোডা ও ভিনেগার

পুরনো বা বেশি নোংরা দাগ দূর করতে বেকিং সোডা ও ভিনেগার দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

মিশ্রণটি আয়নায় লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। বেকিং সোডা না থাকলে শুধু পানি ও ভিনেগার মিশিয়ে স্প্রে করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

কতদিন পর পরিষ্কার করবেন?

আয়না পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা ভালো। তবে খুব বেশি নোংরা না হলে ১৫ দিন পরপর পরিষ্কার করলেও আয়না স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল থাকবে।

বাড়ছে গরম, সাবধানতা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
বাড়ছে গরম, সাবধানতা জরুরি

দেশজুড়ে বাড়ছে গরম, অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ঝরে যাওয়ার ফলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্দ্রতা ও পরিবেশগত নানা কারণে শরীরে দেখা দেয় নানা রকম সমস্যা।

বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
গরমে সাধারণত ঘামাচি, সামার বয়েল, পানিশূন্যতা, ত্বকের নানা সমস্যাসহ লিভারের ইনফেকশন, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসের মতো পানিবাহিত রোগ বেড়ে যায়।

অপরিষ্কার পানি ও রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার এসব রোগের অন্যতম কারণ। তাই তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে দিনে কয়েকবার গোসল, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং প্রচুর পানি পান করা জরুরি।

ডাবের পানি, ফলের রস, ওরস্যালাইন ও লবণ-চিনি মেশানো পানি পান করলে শরীর আর্দ্র থাকে ও পানিশূন্যতা এড়ানো যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্যাকেটজাত জুসের পরিবর্তে তাজা ফলের রস খেতে হবে।
রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার, সানস্ক্রিন মাখা এবং হালকা রঙের ঢিলে কাপড় পরুন। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে ছায়ায় নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মোছাতে হবে। তবে মুখে কিছু খাওয়ানো যাবে না।

শিশুদের জন্য গরমকাল আরও বিপজ্জনক। তাদের অতিরিক্ত ঘাম, পাতলা পায়খানা, প্রস্রাব কম হওয়া বা চোখ বসে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মায়ের দুধ পানকারী শিশুদের ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানোই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার।

গরমে মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপও বাড়ে। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ব্যবহার ও মশা প্রতিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।

গরমকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে খাবার ও পানি পানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে ভালো মানের বোতলজাত পানি পান ও বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা না হওয়ায় সরকারি সংবাদ বর্জনের ঘোষণা

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা না হওয়ায় সরকারি সংবাদ বর্জনের ঘোষণা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন দিন পার হলেও মামলা দায়ের না হওয়ায় সব ধরনের সরকারি সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা সাংবাদিক মহল আয়োজিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, গত শনিবার (০৪ এপ্রিল) এক ডিলারের তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করায় থানা চত্বরে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস,এম আলমগীর হোসেন ও তোফাজ্জেল হোসেন টিটু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো পর্যন্ত মামলা রুজু করেনি সদরপুর থানা পুলিশ। ফলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাংবাদিকদের মধ্যে।

উপজেলার সাংবাদিক নেতারা জানান, একটি গুরুতর ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা গ্রহণ না করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এতে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তারা আরও বলেন, অবিলম্বে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতিবাদ হিসেবে উপজেলার সাংবাদিকরা সরকারি সব ধরনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সদরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সদরপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিমুল তালুকদার, দৈনিক মানবজমিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাব্বির হাসান, দৈনিক সমকাল,​ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবুল বাসার মিয়া, দৈনিক ভোরের ডাক, সোবাহান সৈকত, দৈনিক আমার দেশ, মোঃ নূরুল ইসলাম, দৈনিক জনকন্ঠ, সাঈদুর রহমান লাবলু, দৈনিক দিনকাল, প্রভাত কুমার সাহা, দৈনিক আমাদের সময়, মোঃ কবির হোসাইন, দৈনিক ইনকিলাব প্রমুখ।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হবে আর প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে—তা মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনের গড়িমসির প্রতিবাদে আমরা আজ থেকে উপজেলা প্রশাসন, এসিল্যান্ড ও থানা কর্তৃপক্ষের কোনো সংবাদ প্রচার করব না।

​যতদিন না পর্যন্ত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে, ততদিন এই বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সুধী সমাজের মাঝেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ কি মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ কি মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়?

অফিসে আট ঘণ্টা কাজের নিয়ম থাকলেও অনেকে এর চেয়েও বেশি সময় ধরে কাজ করেন। কেউ কেউ নিয়মিতই অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করেন। এভাবে দীর্ঘসময় কাজ করার কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ সংক্রান্ত প্রথম বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালে দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে স্ট্রোক ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাপানে এর একটি নাম আছে ‘কারোশি’, যার মানে অতিরিক্ত কাজ করতে করতে মৃত্যু। সরকারিভাবেই কারোশিতে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে ২৩৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে জাপান সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘসময় কাজ করার ফলে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ।

যারা সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন তাদের তুলনায় যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায় এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি থাকে বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে যৌথভাবে করা এ গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘসময় কাজের কারণে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মধ্যবয়সী বা বয়স্ক পুরুষ।

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় কাজ করার অনেক বছর পর, কখনো কখনো দশক পর, এই মৃত্যুগুলো ঘটে।

করোনা মহামারির পর অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল অফিসার ফ্র্যাঙ্ক পেগা বলেন, আমাদের কাছে কিছু প্রমাণ আছে যে, যখন কোনো দেশে লকডাউন হয়, তখন কাজের সময় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যায়।

দীর্ঘসময় কাজ করা মোট কাজ-সংক্রান্ত রোগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী। তাই বলা যায়, দীর্ঘসময় কাজ করা পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

গবেষকরা বলেছেন, দীর্ঘসময় কাজ করলে দুইভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়– প্রথমত, অতিরিক্ত চাপ থেকে শরীর ও মনে সরাসরি প্রভাব পড়ে। মানসিক চাপ বাড়ায় অবসাদ দেখা দিতে পারে, শরীরেও ব্যথা হয় এমনকি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ল্যানসেট জার্নালে উঠে এসেছে, এতে হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ সংক্রামক রোগ, ডায়াবেটিস ও পেশীর সমস্যাও দেখা দেয়।

দ্বিতীয়ত, বেশি সময় কাজ করলে মানুষ ধূমপান, মদ পান, কম ঘুম, কম ব্যায়াম এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মতো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাহাত হোসেন বলেন, আগের চাকরিতে দীর্ঘসময় কাজ তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলেছিল।

তিনি বলেন, সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ ঘণ্টা কাজ করাটা ছিল স্বাভাবিক। অনেক সময় টানা কয়েক সপ্তাহ বাড়ির বাইরে থাকতে হতো।

রাহাত বলন, কাজের এতে স্ট্রেস নিতে নিতে আমি ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলাম, সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকতে, কাজ শেষে শরীর-মন সব ভেঙে পড়তে। চার বছর পর তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে নিয়োগদাতাদের এখন এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।

ফ্র্যাঙ্ক পেগা আরও বলেন, কাজের সময় সীমিত করা নিয়োগদাতাদের জন্যও ভালো, কারণ এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ে।

তার মতে, ‘অর্থনৈতিক সংকটের সময় কাজের ঘণ্টা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’

সূত্র: বিবিসি