খুঁজুন
, ,

রাতে বারবার ঘুম ভাঙা—স্বাভাবিক নাকি অসুখের ইঙ্গিত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২০ পূর্বাহ্ণ
রাতে বারবার ঘুম ভাঙা—স্বাভাবিক নাকি অসুখের ইঙ্গিত?

সুস্থ থাকার প্রধান শর্ত হলো গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু অনেকেরই মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি সাধারণ কোনো অভ্যাস হতে পারে, আবার বড় কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

কেন বারবার ঘুম ভেঙে যায়?

আমাদের ঘুমের একটি চক্র বা ‘স্লিপ সাইকেল’ থাকে, যা সাধারণত প্রতি ৯০ মিনিট পর পর পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের সময় ঘুম কিছুটা পাতলা থাকে, ফলে সামান্য কারণেও তা ভেঙে যেতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো:

পরিবেশগত কারণ: ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি বা কম হওয়া, বাইরে থেকে আসা আলো বা জানালার ধারের আওয়াজ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: সারাদিনের ক্লান্তি, অফিসের কাজের চাপ বা মনের ভেতরের অস্থিরতা ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডিপ্রেশন বা এনজাইটি থাকলে রাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

খাদ্যাভ্যাস: শোবার আগে অতিরিক্ত পানি পান করলে বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া কফি বা অ্যালকোহল পান করলেও ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়।

শারীরিক সমস্যা: ঘাড়, পিঠের ব্যথা বা মাংসপেশির টান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন বা মেনোপজের কারণেও এমনটি হতে পারে।

এটি কি কোনো রোগের লক্ষণ?

বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া নিচের এই রোগগুলোর সংকেত হতে পারে:

১. স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি একটি গুরুতর সমস্যা যেখানে ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্ক শরীরকে জাগিয়ে দেয়।

২. অ্যাসিড রিফ্লাক্স: যাদের গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা আছে, শুয়ে থাকার সময় পাকস্থলীর অ্যাসিড গলায় উঠে আসায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

৩. লো ব্লাড সুগার: রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ কমে গেলে শরীর ঘামতে শুরু করে এবং ঘুম ভেঙে যায়।

৪. ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা: এটি নিয়মিত হতে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা রোগে রূপ নিতে পারে।

ঘুম ভেঙে গেলে কী করবেন?

যদি মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে আর ঘুম না আসে, তবে জোর করে বিছানায় পড়ে থাকবেন না। নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:

বিছানা ছেড়ে উঠুন: কিছুক্ষণ অন্য ঘরে গিয়ে হালকা পায়চারি করুন।

মোবাইল ফোন এড়িয়ে চলুন: ভুলেও হাতে ফোন নেবেন না। স্ক্রিনের নীল আলো আপনার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে—এখন দিন হয়ে গেছে, যা ঘুম পুরোপুরি কাটিয়ে দেয়।

বই পড়া বা গান শোনা: হালকা কোনো বই পড়ুন অথবা মৃদু ধীরলয়ের গান শুনুন।

মেডিটেশন: গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা মেডিটেশন মন শান্ত করতে সাহায্য করে।

প্রতিকারের উপায়

—দুপুরের ঘুম ২০ মিনিটের বেশি নয়।

—শোয়ার আগে ঘর অন্ধকার রাখুন (প্রয়োজনে আই মাস্ক ব্যবহার করুন)।

—প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।

—শোয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে নিন।

সতর্কবার্তা: যদি নিয়ম মেনে চলার পরও মাসের পর মাস এই সমস্যা চলতে থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ই পারে আপনাকে প্রশান্তির ঘুম ফিরিয়ে দিতে।

তথ্যসূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

 

ফরিদপুর মেডিকেলে অনিয়ম ও দালাল উৎখাতে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেলে অনিয়ম ও দালাল উৎখাতে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দালালচক্র উৎখাতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড় ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

​প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের মারাত্মক উৎপাত রয়েছে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুততম সময়ে এই দালালচক্র শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। হাসপাতালে তাদের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জানলাম, দীর্ঘ সাত বছর পর আজ ম্যানেজিং কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হলো। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তবে এই মেডিকেলে বরাদ্দের সংকটসহ অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কেনা অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে, রয়েছে ক্যাথল্যাবের সমস্যা ও স্টোরেজ ঘাটতি। ১ হাজার শয্যার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সুবিধা নেই, অথচ প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। লোকবল সংকটও অনেক প্রকট। আজকের সভায় এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিন্টু বিশ্বাস, ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক মানস কুমার কুন্ডু, সহকারী পরিচালক মো. ওমর ফয়সাল এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আসিফ উল আলমসহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ।

ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে সিফাত (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত সিফাত ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার শংকর এলাকার ইমরানের ছেলে। গত ২৩ আগস্ট ফুফু ও দাদির সঙ্গে সালথার ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়ায় ফুফার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে অন্য শিশুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে যায় সিফাত। একপর্যায়ে তাকে দেখতে না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়ার নুরুল ইসলাম ফুরান মাতুব্বরের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ফরিদপুরে পর্যাপ্ত সারের মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট করলে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পর্যাপ্ত সারের মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট করলে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘কিছু দুষ্কৃতিকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না।’

​শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে কৃষি পণ্য আমদানি নয়, বরং দেশ থেকে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে।’

​ফরিদপুরের মৎস্য ও কৃষি সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘ফরিদপুর জেলায় দেশীয় মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ও সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো হওয়ায় অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় চাষাবাদে সার কম লাগে। মাটি ও আবহাওয়ার কারণেই এ এলাকায় পেঁয়াজ ও পাটের ফলন অনেক ভালো হয়।’

​জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মসূচি শেষে মন্ত্রী ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে স্থানীয় পেঁয়াজ ও পাট চাষীদের সঙ্গে পৃথক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পৃথক এসব সভায় জেলার কৃষি ও মৎস্য খাতের সার্বিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা এবং কৃষকদের নানা সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসব মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, শহিদুল ইসলাম বাবুল ও মো. ইলিয়াস আলী মোল্লা।

​অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।