খুঁজুন
, ,

চিনি না খেয়েও কেন রক্তে সুগার বাড়ে? জানলে অবাক হবেন

আলমগীর আলম
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ
চিনি না খেয়েও কেন রক্তে সুগার বাড়ে? জানলে অবাক হবেন

আমি চিনি খাই না। তাহলে আমার রক্তে চিনির মাত্রা এত বেশি কেন? এমন প্রশ্ন আমরা হরহামেশাই করে থাকি। বিশেষ করে চিকিৎসককেই করা হয়।

আসলে আপনি সবকিছু ঠিকঠাক করছেন। চিনি ছেড়ে দিয়েছেন। রুটি-পাউরুটি খাওয়া বাদ দিয়েছেন। অনেক দিন ধরে কোনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খাননি। তারপরও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে মনে হয়, কী হচ্ছে এটা? আমার ব্লাড সুগার তো এখনো বেশি!

চিকিৎসক হয়তো আপনার দিকে এমনভাবে তাকাবেন যেন আপনি লুকিয়ে মিষ্টি বা তেমন কিছু খাচ্ছেন বলেই এমন হচ্ছে। অথচ আপনি সত্যিই কিছুই করছেন না।
আপনাকে দেখাব, আসলে কী হচ্ছে। এই পুরো ধাঁধার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনেকেই জানেন না।

অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, তাঁদের রক্তে চিনির মাত্রা শুধু যা খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে—চিনি, স্টার্চ ইত্যাদি। কিন্তু এটা অর্ধেক সত্য।

চলুন, আপনাকে লিভারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। আপনার লিভারের ৫০০টি কাজ আছে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, কিন্তু এটি আসলে একটা চিনির কারখানা। শরীরের একটা ছোট অংশের জন্য চিনি একান্ত দরকার। মস্তিষ্কের কিছু অংশ, কিডনি এবং আরও কিছু টিস্যু, যেগুলো সরাসরি চিনির ওপর নির্ভর করে। তাই আপনি চিনি না খেলেও, লিভার নিজে থেকে চিনি তৈরি করে।

যখন কেউ খুব কম চিনি বা কম কার্বোহাইড্রেটের ডায়েট করে, তখন শরীর চর্বি থেকে শক্তি নেয়, যে চর্বি খাবার থেকে আসে এবং শরীরের নিজের চর্বি থেকে। আর লিভার চিনি তৈরি করে এমন জিনিস থেকে যা আসলে চিনি নয়। এটি চর্বি থেকে চিনি বানায়, প্রোটিন থেকে চিনি বানায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশকে সরবরাহ করে।

তাহলে আমার রক্তে চিনি কেন বেশি?

আসলে এই চিনি তৈরির প্রক্রিয়ার একটা ‘অফ সুইচ’ আছে। সেই অফ সুইচ হলো ইনসুলিন। যদি ইনসুলিন পর্যাপ্ত না থাকে, তাহলে লিভার অবিরাম চিনি তৈরি করতেই থাকবে।

এখানে একটা দ্বন্দ্ব দেখা যায়। যদি আমি কার্বোহাইড্রেট না খাই, তাহলে ইনসুলিন কমে যাবে। তাহলে তো শরীর আরও বেশি চিনি তৈরি করবে!

ব্যাপারটা হলো, এই হরমোনকে অনেক বছর ধরে (১০-১৫ বছর) অতিরিক্ত উত্তেজিত করা হয়েছে। ফলে কোষগুলো এত বেশি ইনসুলিনের আঘাত সহ্য করেছে যে তারা এই ‘অফ সুইচ’কে আর গুরুত্ব দেয় না। এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। লিভার তখন ভাবে, ‘অফ সুইচ’ তো কাজ করছে না, তাহলে আরও বেশি চিনি তৈরি করি।

আরও সহজ করে বলি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে লিভার অতিরিক্ত চিনি তৈরি করে। দীর্ঘদিন (১০-২০ বছর) ধরে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট খেলে এই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়। কারণ, ইনসুলিন সেই চিনিকে রক্ত থেকে পরিষ্কার করে ফেলে। এভাবে ১০-২০ বছর ধরে অনেক চিনি খাওয়া যায়, ডায়াবেটিসও হয় না। কিন্তু ইনসুলিনের মাত্রা খুব বেশি থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সাধারণত ফাস্টিং ইনসুলিন পরীক্ষা করেন না।

একদিন এমন অবস্থা হয় যে ইনসুলিন আর কাজ করে না। তখন ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রক্ত থেকে চিনি পরিষ্কার করা যায় না এবং লিভারের ‘অফ সুইচ’ও বন্ধ হয় না। তখনই রক্তে গ্লুকোজ বাড়তে শুরু করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের ৮০% চিনি আসে এই লিভার থেকেই। এ জন্য মেটফর্মিনের মতো ওষুধ লিভার ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ওপর কাজ করে। কিন্তু এটা শুধু লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে, মূল কারণকে ঠিক করে না।

আপনার যদি চিনি না খাওয়ার পরও ব্লাড সুগার বেশি থাকে, তাহলে দুটো কারণ হতে পারে:
১. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: লিভার থেকে অতিরিক্ত চিনি তৈরি হচ্ছে।
২. অতিরিক্ত স্ট্রেস: স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল রক্তে চিনি ছাড়ছে।
আগের দিন চিনি বা মিষ্টি না খেলেও সকালে ঘুম থেকে উঠে মাপার পর ব্লাড সুগার বেশি দেখালে এটাকে বলে ডন ফেনোমেনান। এর পেছনে কর্টিসল এবং লিভারের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দায়ী। সকাল আটটার দিকে কর্টিসলের সবচেয়ে বড় স্পাইক হয়।

কীভাবে এটি ঠিক করবেন?

১. লো-কার্ব ডায়েট করা। শুধু চিনি নয়, স্টার্চও কমাতে হবে।
২. স্ন্যাকিং একদম বন্ধ করা, বিশেষ করে রাতে। দিনে দুই-তিনবার খাওয়াই যথেষ্ট। আমি পরামর্শ দেব দুইবেলা খাওয়ার জন্য। সকালের নাশতা বাদ দিন। দুপুর ১২টায় খান, তারপর সন্ধ্যা ৬টায় খান। খাওয়ার পর রান্নাঘর বন্ধ।
৩. স্ট্রেস কমান। ভালো ঘুমান, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন, রোদে বের হন।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সারাতে সময় লাগে। যদি আপনার ফাস্টিং ইনসুলিন ১২-এর বেশি থাকে, তাহলে কয়েক মাস লাগতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ, কারও কয়েক মাস, আবার কারও এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।
মূল কথা: ইনসুলিনকে দীর্ঘদিন কম রাখতে হবে, যাতে রিসেপ্টরগুলো আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

লেখক: খাদ্য ও পথ্যবিশেষজ্ঞ, প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা অংশ নেন। তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দলীয় মুখপাত্র মুফতি আবু নাসির আইয়ুবী ও অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. বায়েজিদ আহমাদ শাহেদ, খেলাফত আন্দোলন ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, এলডিপি সভাপতি মো. কামরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মতামত এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

নেতারা আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে সারাদেশে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা ঘোষণা দেন।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন।

ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় গুলিতে যুবক নিহত: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা, কমিটি বিলুপ্ত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিতে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ মামলার একদিন পরই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন শেখ গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পূর্ব হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

পুলিশ জানায়, মামলার পর থেকে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমন শেখের বাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, “মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এই মামলায় কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যারা অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্যের প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ৩ জুলাই থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।”

কমিটি বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বশেষ কমিটির এক শীর্ষ নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হওয়ায় এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ডিম ছাড়ার মৌসুমেও সালথায় চায়না দুয়ারির দাপট, হুমকিতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (চায়না জাল) দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। আষাঢ় মাসজুড়ে যখন দেশীয় প্রজাতির অধিকাংশ মাছ ডিম ছাড়ে ও বংশবিস্তার করে, ঠিক সেই সময় নির্বিচারে মাছ ধরায় জলজ জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় খাল, বিল, নালা ও নদীর বিভিন্ন স্থানে চায়না দুয়ারি বসিয়ে দিন-রাত মাছ ধরা হচ্ছে। এসব ফাঁদে শুধু বড় মাছই নয়, রেণু, পোনা এবং ডিমওয়ালা মাছও আটকা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এভাবে নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অভিযান না থাকায় অসাধু জেলেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবুর মাতুব্বর বলেন, “আগে বর্ষাকালে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই ধরে ফেলায় আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।”

একই উপজেলার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “চায়না দুয়ারি একবার বসালে পানির ভেতরের প্রায় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এতে ছোট মাছও রক্ষা পায় না। কয়েকজনের লাভের জন্য পুরো এলাকার মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। বিষয়টি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি বা সূক্ষ্ম ফাঁসের অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব জাল ব্যবহার দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে সরকার বিভিন্ন সময় এ ধরনের অবৈধ উপকরণ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তরুণ বসু ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “চায়না দুয়ারি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”