খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

সেদ্ধ ডিম কত সময়ের মধ্যে না খেলে হতে পারে বিপদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
সেদ্ধ ডিম কত সময়ের মধ্যে না খেলে হতে পারে বিপদ?

অনেকেরই সকালের নাস্তায় বা দুপুরের ডায়েট চার্টে সেদ্ধ ডিম থাকে। সময়ের অভাবে অনেকেই সকালে ডিম সেদ্ধ করে রেখে দেন দুপুরে বা অন্য কোনো সময়ে খাওয়ার জন্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা বা ফ্রিজে রাখা সেদ্ধ ডিম খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ? কিংবা এর পুষ্টিগুণ কি অটুট থাকে?

এসব বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা আকতার।

সাধারণ তাপমাত্রায় কতক্ষণ ভালো থাকে?

আমাদের দেশের গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করলে, ডিম সেদ্ধ করার পর দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা খেয়ে ফেলা উচিত। দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেলে এতে ক্ষতিকারক জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। ভয়ের ব্যাপার হলো, জীবাণু জন্মালেও ডিমের বাহ্যিক পরিবর্তন বা গন্ধে খুব একটা পার্থক্য না-ও বোঝা যেতে পারে, যা অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এই দুই ঘণ্টা ডিম নিরাপদ রাখার শর্ত হলো তা খোসাসহ রাখা এবং পাত্র ও ডিম উভয়ই শুকনো রাখা।

সঠিকভাবে সংরক্ষণের নিয়ম

যদি আপনি সেদ্ধ ডিম সংরক্ষণ করতে চান, তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এর পুষ্টি ও স্বাদ অটুট রাখা সম্ভব।

ফ্রিজে সংরক্ষণ: ডিম সেদ্ধ করার পর তা ঠান্ডা করে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফ্রিজে তুলে ফেলতে হবে। তবে গরম অবস্থায় প্লাস্টিকের এয়ারটাইট পাত্রে রাখা যাবে না, কারণ এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিঃসরণের ঝুঁকি থাকে।

সংরক্ষণের মেয়াদ: পুরোপুরি সেদ্ধ ডিম সঠিকভাবে ফ্রিজে রাখলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে যদি ডিম আধা-সেদ্ধ হয়, তবে তা দুই দিনের বেশি রাখা নিরাপদ নয়।

খোসা না ছাড়ানোই ভালো: সেদ্ধ ডিম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে খোসা না ছাড়ানোই সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি। তবে একান্তই খোসা ছাড়িয়ে রাখতে হলে, এয়ারটাইট পাত্রের বাইরে একটি ভেজা কাপড় বা ভেজা কিচেন টাওয়েল জড়িয়ে রাখা উচিত যাতে ডিম শক্ত না হয়ে যায়।

ফ্রিজের সঠিক স্থান: ডিম ফ্রিজের দরজার অংশে না রেখে ভেতরের দিকে রাখা নিরাপদ। কারণ বারবার ফ্রিজ খোলার ফলে দরজার কাছে তাপমাত্রা বেড়ে ডিম নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ফ্রিজের তাপমাত্রা অবশ্যই চার ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা জরুরি।

কখন ডিম খাওয়া বিপজ্জনক?

ফ্রিজে রাখা সেদ্ধ ডিমে অনেক সময় গ্যাস-জাতীয় মৃদু গন্ধ হতে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখলে সেই ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

১. ডিম থেকে যদি তীব্র দুর্গন্ধ আসে

২. ডিম বা এর খোসা যদি পিচ্ছিল হয়ে যায়

৩. ডিমের খোসা যদি চকের মতো সাদাটে হয়ে যায়

সতর্কতা

মনে রাখবেন, সেদ্ধ ডিম কখনো টুকরা বা কুচি করে সংরক্ষণ করা উচিত নয়, কারণ এতে এর স্বাদ ও গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া সেদ্ধ ডিম কখনোই ডিপফ্রিজে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে ডিম বিস্বাদ হয়ে যায়। সঠিক নিয়ম মেনে ডিম সংরক্ষণ করলে আপনি যেমন পুষ্টি পাবেন, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেও মুক্ত থাকবেন।

সালথায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে তছনছ গ্রাম, আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে তছনছ গ্রাম, আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রাম্য মোড়লের দীর্ঘদিনের বিরোধ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে একের পর এক গ্রাম অশান্ত হয়ে উঠছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর জখম হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

সম্প্রতি গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি বাজার, আড়য়াকান্দী ও মিরের গট্টি এলাকায় টানা সংঘর্ষে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) সকালে মিরের গট্টি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও কয়েকটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গট্টি ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর এবং বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এলাকায় তারা দুইজনই প্রভাবশালী গ্রাম্য মোড়ল হিসেবে পরিচিত।

একসময় দু’জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তারা বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাসে অন্তত ১০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, রোববার (৩ মে) দুপুরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক আনোয়ার শেখকে মারধর করলে পাল্টা জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক রেজাউলকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে জাহিদ সমর্থকরা নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজিব মাতুব্বরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে নুরু সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহিদের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০-২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই দুই মোড়লের দ্বন্দ্বে জিম্মি হয়ে পড়েছে গট্টি, বালিয়া, আড়ুয়াকান্দী, মিরের গট্টি ও কানৈড় গ্রামের সাধারণ মানুষ। দলাদলিতে না জড়ালে এলাকায় টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ছে। চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও সহিংসতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও চাকরিজীবী জানান, গ্রাম্য দল না করলে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এই সংঘর্ষকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে নুরু মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, তার সমর্থকদের ওপর বারবার হামলা হলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অন্যদিকে জাহিদ মাতুব্বর দাবি করেন, তিনি বর্তমানে অসুস্থ এবং এসব সংঘর্ষ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চান।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীন জানান, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের আরও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

ফরিদপুর বিআরটিএতে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ, তদন্ত ও বরখাস্তের দাবিতে স্মারকলিপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর বিআরটিএতে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ, তদন্ত ও বরখাস্তের দাবিতে স্মারকলিপি

ফরিদপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সাময়িক বরখাস্ত এবং বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (০৪ মে) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন আন্দোলনকারীরা।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ফরিদপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় এবং হয়রানির শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত। এতে জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে মেহেদী হাসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করছেন। ফলে সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং অনেকে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সমাজকর্মী খায়রুল রোমান বলেন, “মেহেদী হাসান যেখানে দায়িত্ব পালন করেন, সেখানেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ফরিদপুরেও তিনি একইভাবে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন নিজের অপরাধ ঢাকতে এবং আমাদের কণ্ঠরোধ করতে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।”

স্মারকলিপিতে আন্দোলনকারীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে নিরপেক্ষ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় শাস্তি নিশ্চিত করা এবং বিআরটিএ কার্যালয়কে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।

আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।

এদিকে, স্মারকলিপির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিআরটিএ চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

খাঁচায় বন্দি রেখে পাখি পালন করা কি জায়েজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
খাঁচায় বন্দি রেখে পাখি পালন করা কি জায়েজ?

আকাশের নীল মায়ায় পাখিরা ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, কিচিরমিচির সুরে মন ভরিয়ে তোলে। কিন্তু আজকাল আমাদের সমাজে দেখা যায়, শখের বসে এই স্বাধীন প্রাণীদের লোহার খাঁচায় বন্দি করে রাখা হচ্ছে।

টিয়া, ময়না কিংবা নানা রঙের বিদেশি পাখি ধরে এনে চার দেয়ালের ভেতরে আটকে রাখা হচ্ছে কেবল মানুষের আনন্দের জন্য।

অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে প্রাণীর প্রতি দয়া দেখাতে, তাদের কষ্ট না দিতে। তাই প্রশ্ন জাগে, আমাদের এই শখ কি আল্লাহর বানানো প্রাণীর হক নষ্ট করছে না? পাখিদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে আনন্দ করা কি ইসলামের চোখে বৈধ, নাকি জুলুমের নামান্তর?

চলুন তাহলে জেনে নিই, খাঁচায় বন্দি রেখে পাখি পালন জায়েজ আছে কি না—

রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, খাঁচার ভেতরে সেই সমস্ত পাখি পুষতে পারেন, যে পাখিগুলো সাধারণত বাইরে অন্যান্য পাখিদের সঙ্গে উড়ে আত্মরক্ষা করতে পারে না। যেমন টিয়া পাখির কথা বলতে পারেন। এরা নরমালি অন্যান্য পাখিদের মতো উড়ে আত্মরক্ষা করতে পারে না।

কিন্তু যে পাখিগুলো নরমালি উড়ে বেড়ায়, নিজেকে আত্মরক্ষা করতে সামর্থ্যবান, এজাতীয় পাখিকে খাঁচায় বন্দি রেখে পালন করা যাবে না। এটা জুলুম হবে।

কিছু কিছু মানুষ আছে, পাখি ধরে নিয়ে আসতেছে কিন্তু বাচ্চা পাখি থেকে যাচ্ছে, আবার বাচ্চা ধরে নিয়ে আসতেছে মা-পাখি থেকে যাচ্ছে—নবীজি (সা.) এমনটা করতে নিষেধ করেছেন। মনে রাখতে হবে, আমাদের ফূর্তি যেন তাদের কষ্টের কারণ না হয়।

খাঁচায় পাখি পালার শর্ত ও নিয়ম

শখের বশে খাঁচায় পাখি পালতে গেলে যথাযথভাবে পাখিগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। দানাপানি দিতে না পারলে বা আদর-যত্ন সম্ভব না হলে কিংবা কোনো কারণে পাখি কষ্ট পেলে খাঁচায় আটকে রাখা জায়েজ হবে না। বরং ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে তাকে বেঁধে রেখেছিল এবং অবশেষে বিড়ালটি মারা গিয়েছিল, পরিণতিতে নারী তারই কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করল। সে যখন তাকে বেঁধে রেখেছিল, তখন তাকে আহার ও পানি দিত না এবং তাকে ছেড়েও দিত না যে, সে কীটপতঙ্গ ধরে খাবে।’ (বোখারি : ২৩৬৫, মুসলিম : ২২৪২)

সূত্র : কালবেলা