খুঁজুন
, ,

আপনার টাকা-পয়সা বাড়াতে চান? এই ৫ বই অবশ্যই পড়ুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আপনার টাকা-পয়সা বাড়াতে চান? এই ৫ বই অবশ্যই পড়ুন

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের ডিগ্রি অর্জন করতে শেখায়, ভালো ফলের উপায় বাতলে দেয় এবং একটি ভালো চাকরির জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘অর্থ বা টাকা কীভাবে কাজ করে’, তা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় খুব কমই দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। ফলে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঋণ কিংবা চক্রবৃদ্ধি হারের মতো জরুরি বিষয়গুলো আমাদের কাছে অজানাই থেকে যায় এবং অনেকেই ভুল পরামর্শ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আর্থিক শিক্ষা নিতে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন।

তবে বিশেষজ্ঞ ও সফল ব্যক্তিদের মতে, আর্থিক সমৃদ্ধি কোনো জাদুকরী বিষয় নয়, বরং এটি সঠিক পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার ফসল। আপনি যদি আপনার টাকা-পয়সা বাড়াতে এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হতে চান, তবে কিছু কালজয়ী বই আপনার চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। এই বইগুলো আপনাকে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখাবে না, বরং ধীরস্থির এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে সম্পদ বৃদ্ধির বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদী পথ দেখাবে।

টাকা-পয়সা বাড়াতে এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে যে ৫টি বই অবশ্যই পড়া উচিত, সেগুলো হলো:

১. রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড (রবার্ট কিয়োসাকি)

অর্থনীতি নিয়ে মানুষের পড়া প্রথম বইগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই বইটি শেয়ার বাজারের টিপস বা ট্যাক্সের নিয়ম নিয়ে নয়, বরং আপনার মানসিকতা নিয়ে কথা বলে। লেখক এখানে তার দুই বাবার উদাহরণ দিয়েছেন—একজন উচ্চশিক্ষিত হয়েও আর্থিক সংকটে ভুগতেন, অন্যজন ব্যবসায়ী হয়েও সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন। এই বইয়ের মূল শিক্ষা হলো, সম্পদ (Assets) আপনার পকেটে টাকা আনে, আর দায় (Liabilities) আপনার পকেট থেকে টাকা বের করে নেয়। গাড়ি বা দামি বাড়ি কেনার আগে সেগুলো সম্পদ নাকি দায়, তা বুঝতে এই বইটি সাহায্য করবে।

২. দ্য সাইকোলজি অব মানি (মরগান হাউসেল)

টাকা মানেই কেবল গণিত বা জটিল ফর্মুলা নয়; এর সাথে জড়িয়ে থাকে মানুষের আবেগ, ভয়, অহংকার এবং ধৈর্য। এই বইটিতে ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে কেন বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও মাঝে মাঝে ভুল আর্থিক সিদ্ধান্ত নেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অতি-বুদ্ধিমান হওয়ার চেয়ে ধৈর্যশীল হওয়া যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা এখানে চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। অন্যের সাথে নিজের আর্থিক অবস্থার তুলনা করা যে দরিদ্র বোধ করার দ্রুততম উপায়, লেখক সেই সত্যটিও তুলে ধরেছেন।

৩. দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর (বেঞ্জামিন গ্রাহাম)

ওয়ারেন বাফেট এই বইটিকে ‘বিনিয়োগের ওপর লেখা সর্বশ্রেষ্ঠ বই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এটি হয়তো খুব সহজপাঠ্য কোনো বই নয়, তবে বিনিয়োগের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে এর বিকল্প নেই। লেখক এখানে লটারি ধরার মতো অনুমাননির্ভর বিনিয়োগ না করে ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বিনিয়োগ করার শিক্ষা দিয়েছেন। ‘মার্জিন অব সেফটি’ বা নিরাপত্তার মার্জিন রেখে বিনিয়োগ করা এবং বাজারের সাময়িক উত্থান-পতনে বিচলিত না হওয়ার কৌশল এই বইয়ের মূল উপজীব্য।

৪. আই উইল টিচ ইউ টু বি রিচ (রামিত শেঠি)

এটি দৈনন্দিন আর্থিক জীবন গুছিয়ে নেওয়ার একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত বই। লেখক সঞ্চয়, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, অটোমেশন এবং বিনিয়োগের সহজ উপায় বাতলে দিয়েছেন। এই বইয়ের বিশেষত্ব হলো, এটি আপনাকে শখের কাজে খরচ করতে মানা করে না, বরং মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রেখে কীভাবে অপরাধবোধ ছাড়া খরচ করা যায় তা শেখায়। যারা একটি সুশৃঙ্খল এবং সাধারণ জীবনযাপন করেও সম্পদ বাড়াতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ।

৫. থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ (নেপোলিয়ন হিল)

সম্পদ তৈরির যাত্রা শুরু হয় আপনার চিন্তা থেকে। লেখক কয়েকশ সফল ব্যক্তির জীবন বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, বিশ্বাস, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস কীভাবে মানুষকে সফল করে তোলে। যদি ভয় বা অনিশ্চয়তা আপনাকে বিনিয়োগ বা নতুন কিছু করা থেকে পিছিয়ে রাখে, তবে এই বইটি আপনার মনে সাহস জোগাবে। সম্পদ অর্জনের জন্য কেবল টাকাই যথেষ্ট নয়, বরং একটি সঠিক মানসিক গঠন প্রয়োজন।

উপসংহার

কেবল বই পড়লেই কেউ জাদুকরীভাবে ধনী হয়ে যায় না। তবে এই বইগুলো আপনার মনের ভয় কমাবে, ভুল করার প্রবণতা কমাবে এবং আপনার অভ্যাস পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, অর্থ বৃদ্ধি কোনো একক দিনের মেধা নয়, বরং এটি ধৈর্য এবং শৃঙ্খলার দীর্ঘমেয়াদী ফল। আজই এর মধ্য থেকে যেকোনো একটি বই দিয়ে শুরু করুন!

তথ্যসূত্রটাইমস অব ইন্ডিয়া

ভাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, বিশ্ববিদ্যালয় ও ৬ লেন সড়কের জোরালো দাবি

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, বিশ্ববিদ্যালয় ও ৬ লেন সড়কের জোরালো দাবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঢাকা-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা গোলচত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ জড়ো হন।

সকাল ৬টা থেকেই ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

সকাল আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ভাঙ্গা গোলচত্বরে পৌঁছালে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন। পুরো এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সফরকে ঘিরে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাগত জানাতে আসা ভাঙ্গা ও সদরপুরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আইয়ুব মোল্লা, স্বরন, এম এম সিদ্দিক মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, একরামুল, মিলন, ফজলে সুবাহান শামিম, তুরান রহমানসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভাঙ্গার উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ভাঙ্গায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপন।

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথম ভাঙ্গা হয়ে বরিশাল সফরে গেছেন। তার সফর সফল করতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে ভাঙ্গার হাজারো নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়েছেন।”

তারা আরও বলেন, “ভাঙ্গাসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে শহিদুল ইসলাম বাবুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাই আমরা তাকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই। পাশাপাশি ভাঙ্গার সার্বিক উন্নয়নে আমাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে ভাঙ্গাজুড়ে সকাল থেকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে ভাঙ্গা ও দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভুবনেশ্বর নদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খনন কাজ শেষ হলেও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষে ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনো তাদের প্রাপ্য মজুরি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা টানা দুই মাস খাল খননের কাজ সম্পন্ন করেন। রোববার (১২ জুলাই) হাজীগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে শ্রমিকদের সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার শ্রমিকদের মধ্যে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করে চেক বিতরণ করেন। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর কয়েকজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে রেখে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে সুপারভাইজারের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাঁর নির্দেশনায় পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে চেক হস্তান্তর ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার বলেন, “আমি দুইজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। পরে সেই টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের চেক তুলে দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে। কোনো শ্রমিক যেন তার প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের চেক পৌঁছে দেওয়া হবে এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা দ্রুত তাদের সম্পূর্ণ ও ন্যায্য মজুরি পরিশোধের পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন, লাথি মেরে পেটের সন্তান নষ্টের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন, লাথি মেরে পেটের সন্তান নষ্টের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেওয়া এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের ঘটনায় গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ভাষাচর ইউনিয়নের আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ভুক্তভোগী বিথী আক্তার (২৮) মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বড়দোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।

থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে ভাষাণচর এলাকার উকিল উদ্দিন শেখের ছেলে কাতার প্রবাসী শাহিন শেখ (৩৫) প্রায় ৭ মাস আগে তাকে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েক মাস পর তাকে কাতারে নিয়ে যান। প্রায় ৩ মাস আগে তারা একসাথে দেশে ফিরে। বিথীকে শাহিন তার বাড়িতে না তুলে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসা করে রাখে। পরবর্তী বিথী গর্ভবর্তী হলে তাকে রেখে পালিয়ে আসে। পরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরও স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে গত ১০ জুলাই স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমির খার ডাঙ্গী গ্রামে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।

অভিযোগে আরও জানা যায়, ১১ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে চাপ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে শাহিনের চাচা পাঞ্জু শেখ তার পেটে লাথি মারে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হয় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে বিথীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিথী আক্তার বাদী হয়ে স্বামীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের সাথে কথা বলতে গেলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল নাম্বাটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।