খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

রাতে ভালো ঘুম চান? এখনই ছাড়ুন এই ৭ মারাত্মক অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ এএম
রাতে ভালো ঘুম চান? এখনই ছাড়ুন এই ৭ মারাত্মক অভ্যাস

ভালো ঘুম মানে শুধু ক্লান্ত শরীরকে একটু বিশ্রাম দেওয়া নয়, বরং ভালো ঘুমই সুস্থ শরীর, সতেজ মন আর কর্মক্ষম জীবনের মূল চাবিকাঠি। অথচ আধুনিক ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই ঘুমকে গুরুত্বই দিই না। কাজের চাপ, মোবাইল স্ক্রলিং, অনিয়মিত জীবনযাপন—সব মিলিয়ে না বুঝেই এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি, যা ধীরে ধীরে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়।

সমস্যা হলো, এই ভুলগুলো একদিনে বড় কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো থেকেই জন্ম নেয় অনিদ্রা, সারাদিন ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, মাথাব্যথা, এমনকি নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতা। তাই প্রশ্ন উঠছে, প্রতিদিনের কোন কোন অভ্যাস আপনার ঘুমের ‘বারোটা’ বাজাচ্ছে? আর কেন এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

প্রতিদিন একই সময়ে না ঘুমানো:

কখনো রাত ১০টায়, কখনো আবার রাত ১টা বা ২টায় ঘুম—এই অনিয়ম শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদমকে বিগড়ে দেয়। ফলে শরীর বুঝে উঠতে পারে না কখন বিশ্রাম নেওয়ার সময়। এর ফল হিসেবে দেরিতে ঘুম আসা, ঘুম গভীর না হওয়া এবং সকালে ঘুম ভাঙার পরও ক্লান্ত লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়। সারাদিন ঝিমুনি আসে, কাজেও মন বসে না।

ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম:

ঘুমানোর আগে মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানো ঘুমের বড় শত্রু। এসব ডিভাইসের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুম পেতে সাহায্য করে। ফলে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মানও খারাপ হয়ে যায়।

বিছানায় নানা কাজ করা:

বিছানায় শুয়ে কাজ করা, ফোন ঘাঁটা বা ওয়েব সিরিজ দেখার অভ্যাস থাকলে মস্তিষ্ক আর বিছানাকে ঘুমের সংকেত হিসেবে নেয় না। ধীরে ধীরে বিছানায় গেলেই ঘুম আসার যে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিছানায় শুয়েও অনেকক্ষণ জেগে থাকতে হয়।

রাতে ভারী খাবার খাওয়া:

রাতে দেরি করে খাওয়া কিংবা তেল-মশলাদার, ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে বুক জ্বালা, অস্বস্তি এবং বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা এবং তা খেয়ে নেওয়া উচিত ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে।

অতিরিক্ত চা-কফি বা ক্যাফিন গ্রহণ:

বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা, কফি বা অন্য ক্যাফিনযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে তার প্রভাব রাত পর্যন্ত থাকে। অনেকেই ভাবেন, এক কাপ কফিতে তেমন কিছু হবে না। কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয় এবং সহজে ঘুম আসতে বাধা সৃষ্টি করে।

সপ্তাহান্তে বেশি দেরি করে ওঠা:

ছুটির দিনে অনেকেই মনে করেন বেশি ঘুমিয়ে নেওয়াই বুঝি ঘুম পুষিয়ে নেওয়া। কিন্তু বাস্তবে এতে সপ্তাহের বাকি দিনের ঘুমের ছন্দ আরও এলোমেলো হয়ে যায়। একে বলা হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ। তাই ছুটি পেলেই বেলা অবধি ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করাই ভালো।

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা:

চিন্তা, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ নিয়ে সরাসরি বিছানায় গেলে মন শান্ত হয় না। মন শান্ত না হলে সেই ভাবনা অবচেতন মনে চলতেই থাকে, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। অনেক সময় মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। এই সমস্যা কমাতে ঘুমের আগে ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা হালকা বই পড়ার মতো অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

শেষ কথা:

ভালো ঘুমের জন্য দরকার নিয়মিত রুটিন, সচেতন অভ্যাস এবং নিজের শরীরের সংকেত বোঝার ক্ষমতা। প্রতিদিনের এই ছোট ছোট ভুলগুলো ঠিক করতে পারলেই ধীরে ধীরে ঘুমের মান উন্নত হবে। আর ভালো ঘুম মানেই ভালো স্বাস্থ্য, সতেজ মন আর কর্মক্ষম জীবন।

সূত্র : এই সময় অনলাইন

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।