খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

যেসব কথায় মনের অজান্তেই ভেঙে যায় সম্পর্ক? জেনে রাখা ভালো

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ এএম
যেসব কথায় মনের অজান্তেই ভেঙে যায় সম্পর্ক? জেনে রাখা ভালো

ভালো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সুন্দর, মিষ্টি কথার মানুষ হতে হয় না। কিন্তু কী বলছি, কীভাবে বলছি— এটাই অনেক সময় সবকিছু বদলে দেয়।

আপনি হয়তো খেয়ালই করছেন না, কিন্তু আপনার কিছু সাধারণ কথাই প্রিয় মানুষকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ছোট ছোট শব্দ, মন্তব্য বা অভিব্যক্তিও ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে করে দিতে পারে।

চলুন আজ জেনে নিই এমন ১১টি কথা বা মন্তব্য, যেগুলো সম্পর্ক দুর্বল করে দেয়, আর কীভাবে সেগুলোর জায়গায় আরও সহানুভূতিশীল ও মানবিক কিছু বলা যায়।

– চুপ করো বা শান্ত হও! কেউ কষ্টে থাকলে তাকে ‘চুপ করো’ বলা তাকে থামিয়ে দেওয়ার মতো। এতে সে হয়তো ভাববে, তার আবেগ বা অনুভূতির কোনো দাম আপনার কাছে নেই।

বরং বলুন, ‘তুমি যা বলছো, আমি শুনছি। চাইলে বলো কীভাবে পাশে থাকতে পারি।’

– যা খুশি করো— আগ্রহের অভাব দেখায়। কারও পরামর্শ চাওয়া মানে সে আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আপনি যদি বলেন, ‘যা খুশি করো’, সে বুঝে নেবে আপনি একদমই আগ্রহী নন।

বরং বলুন, ‘একসাথে চিন্তা করি, চাইলে কিছু আইডিয়া দিতে পারি।’

– আমি তো এটা বলিনি! — দোষ না নেওয়ার প্রবণতা। এভাবে বললে মনে হয় আপনি নিজের ভুল বা প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন না। এতে সম্পর্কের জায়গায় দূরত্ব তৈরি হয়।

বরং বলুন, ‘দুঃখিত, হয়তো আমি বোঝাতে পারিনি। চলো আবার বুঝিয়ে বলি।’

– ‘তুমি তো খুবই সেনসিটিভ’ — অনুভূতিকে হালকা করে দেখানো। এই কথা শোনার পর কেউ আর খোলামেলাভাবে নিজের অনুভূতির কথা বলতে চায় না।

বরং বলুন, তোমার এমনটা লাগাটা একদম স্বাভাবিক। চাইলে এ নিয়ে কথা বলি।

– ‘আমি এমনই’ বা ‘আমি শুধু সত্য বলি’ — দায় এড়ানো নয়। এই কথাগুলো অনেক সময় নিজের রূঢ়তা বা কটূক্তি ঢাকতে বলা হয়।

বরং বলুন, ‘ভবিষ্যতে আরও ভেবে বলব। যদি খারাপ লেগে থাকে, আমি দুঃখিত।’

– ‘না না, কিছু না…’ — নিজের কষ্ট লুকানো। এইভাবে কথা বলা একধরনের দূরত্ব তৈরি করে। বারবার এমন করলে মানুষ ধীরে ধীরে পাশে নাও থাকতে পারে।

বরং বলুন, আমি একটু খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পরে কথা বলি?’

– ‘মজা করছিলাম’ — সত্যিই কি তাই? বারবার কটাক্ষ করে ‘মজা’ বললে সেটা আঘাতই হয়ে দাঁড়ায়।

বরং বলতে শিখুন, ‘দুঃখিত, আমি বুঝিনি এটা তোমাকে কষ্ট দিতে পারে।’

– সবসময় ‘আমি’ বা ‘আমার’ — মানে আপনি শুধু নিজেকে দেখছেন। সম্পর্ক মানে একসাথে পথ চলা। যদি শুধু নিজের গল্প বলেন, অন্যজন আগ্রহ হারায়।

বরং বলুন, ‘তোমার দিন কেমন গেল? কিছু শেয়ার করতে চাও?’

– ‘এখন সময় নেই’— মানে আমি ব্যস্ত, তুমি গুরুত্বপূর্ণ না। সত্যিই সময় না থাকলে সেটাও বলার একটা মানবিক উপায় আছে।

বলুন, ‘এখন একটু ব্যস্ত, কিন্তু তোমার কথা শুনতে চাই। একটু পর কথা বলি?’

– ‘দেখলে, আমি তো আগেই বলেছিলাম’ — ইগো বাড়ায়, সম্পর্ক নয়। এই কথা বললে মনে হয় আপনি স্রেফ ‘ঠিক প্রমাণ’ করতে চাচ্ছেন, সাপোর্ট দিতে নয়।

বরং বলুন, তুমি এখন যেটা শিখলে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। চাইলে আমি পাশে আছি।

– ‘তুমি সবসময়ই…’ বা ‘তুমি কখনোই…’ — এমন চরম শব্দে সম্পর্ক কাঁপে। এই ধরনের কথা কোনো সমস্যা সমাধান করে না, বরং আরও বড় করে তোলে।

বরং বলুন, সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। আমরা কি এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারি?

আমরা যা বলি, সেটাই শুধু নয়—কীভাবে বলি, সেটাও অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। একটু চিন্তা করে, একটু বুঝে বললেই সম্পর্ক আরও গভীর, সুন্দর আর টেকসই হতে পারে।

ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার আন্তরিকতা, সম্মান আর একটু কম ইগো।

সূত্র : কালবেলা

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।