খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

শিশুদের রোদে বের করার আগে এই ভুলগুলো করছেন না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৩ এএম
শিশুদের রোদে বের করার আগে এই ভুলগুলো করছেন না তো?

বাচ্চাদের ত্বক মানেই তুলতুলে, নরম আর অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কিন্তু এই কোমল ত্বকেই যখন কড়া রোদের প্রভাব পড়ে, তখন বিপদটা শুধু গায়ের রঙের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বড়দের মতো শিশুদের ত্বকেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV) নীরবে ক্ষতি করে যেতে পারে।

তবে অনেকেই একটি বড় ভুল করে বসেন, বড়দের জন্য ব্যবহৃত সানস্ক্রিনই শিশুদের ত্বকে লাগিয়ে দেন। অথচ বড়দের সানস্ক্রিন আর শিশুদের সানস্ক্রিন এক নয়। না জেনে ভুল ক্রিম ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

অনেক বাবা-মা মনে করেন, জন্মের পর থেকেই শিশুদের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের সরাসরি কড়া রোদে না বের করাই ভালো। এ বয়সে সানস্ক্রিনের বদলে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরানো এবং যতটা সম্ভব ছায়ায় রাখা বেশি নিরাপদ। তবে শিশুর বয়স ৬ মাস পার হলে তখন থেকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

সানস্ক্রিন কেনার ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। শুধু দামি ব্র্যান্ড দেখেই কিনে ফেললে চলবে না। শিশুদের জন্য ‘মিনারেল’ সানস্ক্রিন বেছে নেওয়াই বেশি নিরাপদ। কারণ এ ধরনের সানস্ক্রিনে সাধারণত জিঙ্ক অক্সাইড (Zinc Oxide) বা টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড (Titanium Dioxide) থাকে। এসব উপাদান ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে না; বরং ত্বকের ওপর একটি অদৃশ্য স্তর তৈরি করে সূর্যের রশ্মিকে প্রতিফলিত করে দেয়।

অন্যদিকে বড়দের অনেক কেমিক্যাল সানস্ক্রিনে অক্সিবেঞ্জোন (Oxybenzone) এর মতো উপাদান থাকতে পারে, যা শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জি বা হরমোনজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সানস্ক্রিন কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে ‘Paraben-free’ ও ‘Fragrance-free’ লেখা আছে কি না, তা অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।

শুধু ঘুরতে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন লাগালেই হবে না। রোদে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এটি লাগানো ভালো। শুধু মুখেই নয়, কানের লতি, হাতের পিঠ ও পায়ের পাতাতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিশু যদি দীর্ঘ সময় রোদে খেলাধুলা করে বা সুইমিং পুলে থাকে, তাহলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানো উচিত। এ ক্ষেত্রে এসপিএফ (SPF) ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো, যা প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

মনে রাখতে হবে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সবসময়ই সক্রিয় থাকে। তাই আপনার সন্তানের কোমল ত্বককে ভবিষ্যতের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সঠিক সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমলের বিধান

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫১ এএম
শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমলের বিধান

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এই রাত হাজার বছরের চেয়ে উত্তম। রমজানের শেষ দশকের কোনো এক রাতে এই পবিত্র রজনী। নির্দিষ্ট করে লাইলাতুল কদর চিহ্নিত করা হয়নি। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ করো।’ (বোখারি : ২০১৭)

মহিমান্বিত এই রজনী ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমল’। বিভিন্ন পুস্তিকায় এই নামাজ ও আমল নিয়ে বিভিন্ন নিয়মের কথাও লেখা থাকে।

আবার কেউ কেউ দাবি করেন, বিশেষ সুরা দিয়ে নামাজ পড়া বা নির্ধারিত রাকাত নামাজ বিশেষ সুরা দ্বারা আদায় করতে হয়। তাই প্রশ্ন জাগে, হাদিস শরিফে এই রাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ বা আমল আছে কি? থাকলে এ ব্যাপারে শরয়ি বিধান কী?

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, কোরআন-হাদিসে শবে কদর বা শবে বরাতের জন্য বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ নেই। সবসময় যেভাবে নামাজ পড়া হয়, সেভাবেই পড়বেন। অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবেন এবং যে সুরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বেন। তদ্রূপ রোজা বা অন্যান্য আমলেরও বিশেষ কোনো পন্থা নেই।

এই দুই রাতে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমল যে পরিমাণ সম্ভব হয়, আদায় করবেন। তবে নফল নামাজ দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা উচিত, যা হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়।

বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাজে যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে, অর্থাৎ এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সুরা এতবার পড়তে হবে- এগুলো ঠিক নয়। হাদিস শরিফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা।

নফল আমল আদায়ের পদ্ধতি কী?

বিশুদ্ধ মতানুসারে, শবে বরাত ও শবে কদরের নফল আমলগুলো একাকী করণীয়। ফরজ নামাজ তো অবশ্যই মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বেন। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদিস শরিফে নেই , এমনকি সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। তবে কোনো আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না। (ইকতিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম : ২/৬৩১-৬৪১ ও মারাকিল ফালাহ : পৃ. ২১৯)

সূত্র : কালবেলা

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী নির্ধারণ করল সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৫ এএম
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী নির্ধারণ করল সরকার

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ।

রোববার (৮ মার্চ) মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাবিউল্লাহ জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার করে টাকা পাবেন। আর প্রতিটি মন্দিরের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা থেকে পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, এ থেকে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। এ ছাড়া প্রতি খ্রিস্টান চার্চের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা থেকে পালক বা যাজক ৫ হাজার টাকা, সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রতি বছর ধর্মীয় উৎসবে মসজিদে কর্মরতদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা করে বছরে ২ বার এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ইসমাইল জাবিউল্লাহ। তবে যেসব মসজিদ সরকারি ও দেশি বা বিদেশি সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত, সেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার বাইরে থাকবে।

তিনি আরও জানান, এ সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মার্চ-জুনে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সম্মানীগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে দেওয়া হবে।

রোজার মাসে দোয়া কবুলের বিশেষ দুই সময়? জেনে নিন

মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৬ এএম
রোজার মাসে দোয়া কবুলের বিশেষ দুই সময়? জেনে নিন

আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস রমজান। এ মাসে রহমতের বৃষ্টিতে মানবআত্মা পবিত্র হয়। শুদ্ধতার মিছিলে আলোড়ন তোলে।

পবিত্র এই মাসে ভোরের সাহরি থেকে সন্ধ্যার ইফতার, দিনের রোজা থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি ইবাদতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দোয়া ও ইসতেগফার।

হজরত সালমান ফারসি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) শাবান মাসের শেষ দিন আমাদের মাঝে খতিব হিসেবে দাঁড়ালেন, বললেন মাহে রমজান এমন একটি মাস যার প্রথম ভাগে রহমত, মধ্যবর্তী ভাগে মাগফিরাত বা ক্ষমা আর শেষ ভাগে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৭)

রমজানে কখন দোয়া কবুল হয়?

দোয়া কবুলের নির্ধারিত কোনো মুহূর্ত নেই। বান্দা যখনই আল্লাহর দরবারে হাত পাতে, তিনি সাড়া দেন। তবে, কিছু বিশেষ মুহূর্তে, বিশেষ দিনে আল্লাহ বান্দার মোনাজাত বিশেষভাবে কবুল করেন। রহমতের পেয়ালা ঢেলে দেন।

এ ক্ষেত্রে হাদিসে এসেছে, রমজানে দুই সময়ে বান্দার দোয়া বেশি কবুল হয়। কারণ, এই সময়গুলোয় বান্দার প্রতি মহান রাব্বুল আলামিনের করুণা থাকে।

১. ইফতারের সময় দোয়া

মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ন্যায়পরায়ণ বাদশা, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং মজলুম ব্যক্তির দোয়া।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ : ১৭৫২)

২. শেষরাতের দোয়া

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহামহিম আল্লাহ তায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে (প্রথম আসমান) অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন, কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছ এমন যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দেব। কে আছ এমন আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (বোখারি : ১০৭৯)

লেখক : মুহতামিম, জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকা

সাবেক সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ