ফরিদপুরের মধুখালীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের মধুখালীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওহাব শেখের নির্মিত ‘মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব মার্কেট’সহ প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মধুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মধুখালী উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশের সওজ-এর জায়গা ও সরকারি খাস জমি দখল করে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে আসছিল। এতে সড়ক সরু হয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো। জনস্বার্থ বিবেচনায় ও সড়ক নিরাপদ রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে মধুখালী রেলগেট বাজার, পৌরসভা বাজার, মরিচ বাজার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের অংশ থেকে শুরু করে মহাসড়কের দু’পাশের সকল অবৈধ পাকা-আধা পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান পরিচালনাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত সাংবাদিকদের জানান, মহাসড়কের দু’পাশে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা তৈরির কারণে দুর্ঘটনা ও যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জনস্বার্থ রক্ষা এবং মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
অভিযান চলাকালীন সময় মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজে সহায়তা প্রদান করেন।
দীর্ঘদিন পর সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উচ্ছেদ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা সুজন মিয়া বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্বাধীনতার পর মধুখালীতে এত বড় আকারের সওজ ও খাস জমি উদ্ধারের ঘটনা এবারই প্রথম। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং যানজট কমবে। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও সওজকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

আপনার মতামত লিখুন
Array