খুঁজুন
, ,

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যমে আবারও ‘তৈলাক্ত’ সংবাদের উত্থান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যমে আবারও ‘তৈলাক্ত’ সংবাদের উত্থান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ৫ই আগস্টের গণ অভ্যুত্থান। ওই দিনের গণআন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছিল। আন্দোলনের সময় দেশের বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম সাহসী ভূমিকা পালন করে, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরে এবং জনগণের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেয়।

তবে অভ্যুত্থানের পর সময় যত এগিয়েছে, সংবাদ পরিবেশনায় আবারও পুরনো ধারায় ফেরার অভিযোগ উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যে গণমাধ্যমগুলো প্রশ্ন করেছিল, জবাবদিহিতা চেয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশ এখন আবার ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও প্রশংসামুখর প্রতিবেদনে ঝুঁকছে—যাকে অনেকেই ‘তৈলাক্ত সংবাদ’ বলে আখ্যায়িত করছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন টকশো ও অনলাইন পোর্টালে সরকারের কিংবা বিভিন্ন বড়ো বড়ো দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত প্রশংসামূলক শিরোনাম, একপাক্ষিক বিশ্লেষণ এবং সমালোচনাহীন উপস্থাপনা চোখে পড়ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক বলেন, “৫ই আগস্টের আগে ও পরে গণমাধ্যমে যে পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। কিছুদিন সাহসী সাংবাদিকতা দেখা গেলেও এখন আবার নিরাপদ ও সুবিধাভোগী ধারায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।”

অনেকে মনে করছেন, এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞাপননির্ভরতা, রাজনৈতিক চাপ এবং মালিকানাগত প্রভাব। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে রিপোর্ট করতে চাইলেও ডেস্ক পর্যায়ে গিয়ে সংবাদে কাটছাঁট বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে।

একজন সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,

“গণ অভ্যুত্থানের সময় আমরা সত্যটা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার সেই সীমাবদ্ধতা ফিরে এসেছে।”

সচেতন মহলের মতে, ৫ই আগস্টের গণ অভ্যুত্থান কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি ছিল গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবির বহিঃপ্রকাশ। তাই সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেও মানুষ এখনো একই প্রত্যাশা রাখে—সত্যনিষ্ঠ, সাহসী ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক সাংবাদিকতা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গণমাধ্যম যদি আবারও ক্ষমতার ভাষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে জনস্বার্থকে আড়াল করে, তাহলে তা শুধু সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষুণ্ন করবে না, বরং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করবে।

৫ই আগস্টের গণ অভ্যুত্থান সংবাদমাধ্যমকে নতুন পথ দেখিয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো—গণমাধ্যম সেই পথেই থাকবে, নাকি আবারও ‘তৈলাক্ত সংবাদ’-এর পুরনো চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়বে? এর উত্তরই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও জনগণের আস্থা।

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের মামলায় জাহিদ শেখ (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি জাহিদ শেখ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। জাহিদ শেখ নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার এক নারীর সঙ্গে বিয়ে হয় জাহিদ শেখের। এর আগে পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন জাহিদ। বিয়ের কিছুদিন পর ভালো চাকরির প্রলোভনে ওই নারীকে ভারতের কেরালায় পাচার করে দেওয়া হয়। সেখানে কেরালা পুলিশ তাকে আটক করে। পরবর্তীতে আইনি সহায়তায় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

​এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৫ মার্চ ভুক্তভোগী নারীর মা বাদী হয়ে জাহিদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

​আদালত মানব পাচার দমন আইনের অপর একটি ধারায় জাহিদকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

​অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে অতর্কিত হামলা চালানো ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত সৈয়দ শামস্ তাবরেজ (৫৫) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করার অভিযোগ আনা হয়।

​এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সৈয়দা মোশায়রা মাহবুবা।

​তিনি সাংবাদিকদের জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ সৈয়দ শামস্ তাবরেজ ও তার স্ত্রী লোহার রড, বাঁশের লাঠি এবং কাঠের বাটাম দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন।

​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এই ন্যাক্কারজনক হামলায় তারা শারীরিকভাবে মারাত্মক জখম হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

 

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলাটিতে মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৯১ জনে। আর এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাসেবা শেষে দুই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ জন।

​প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৩৬ জন ফরিদপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দা। বাকি ১৪ জন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলা থেকে এসে ভর্তি হয়েছেন।

​বর্তমানে জেলাটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন ভর্তি আছেন।