নগরকান্দায় ছাগল ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে এনে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে ছাগল কেনার কথা বলে ডেকে এনে এক ব্যবসায়ীকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন ও তার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা সোবহান মোল্লা ১০ জুন নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী আল আমিন (২৪) নগরকান্দা উপজেলার ধুতরাহাটি গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ছাগল ব্যবসায়ী।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাকপালদিয়া গ্রামের একটি নম্বর থেকে ফোন করে দুটি ছাগল বিক্রির কথা বলা হয়। সেই সূত্র ধরে আল আমিন ছাগল কিনতে অভিযুক্তদের বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আল আমিন জানান, অভিযুক্তরা তাকে মারধরের পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। নির্যাতনের সময় তাকে বলা হয়, তাদের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শাকপালদিয়া গ্রামের মজিদ ফকির, তার নাতি সেনা সদস্য মুকুল এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগীর পিতা সোবহান মোল্লা নগরকান্দা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, তার ছেলে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তবুও তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে মারধর ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তারা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা স্বীকার করেন যে আল আমিনকে ছাগল কেনার কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে বেঁধে রাখা এবং মারধর করা হয়েছিল।
তাদের দাবি, কয়েকদিন আগে সালথা সদর বাজারে তাদের এক স্বজন নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা হারিয়েছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে আল আমিন জড়িত বলে সন্দেহের ভিত্তিতেই তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগীর মা লিমা নাজনিন বলেন, “আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। তার কাছে থাকা টাকা-পয়সাও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন
Array