খুঁজুন
, ,

খাল খননে জেগেছে নতুন স্বপ্ন, মাঠে নেমে কাজ দেখলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
খাল খননে জেগেছে নতুন স্বপ্ন, মাঠে নেমে কাজ দেখলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মানিকনগর এলাকায় চলমান খাল খনন কাজ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তিনি খননাধীন খাল পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকৃত খালটি তালমা ইউনিয়নের তালমা স্লুইসগেট থেকে শুরু হয়ে মানিকনগর হয়ে সন্তোষী পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ৩.৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন মিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয় বাসিন্দা সকিনা বিবি বলেন, “অনেক বছর ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা এলেই আমাদের বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে পানি জমে থাকত। খাল খননের কাজ শেষ হলে পানি দ্রুত নামবে এবং আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।”

আরেক বাসিন্দা খালেদা বেগম বলেন, “খালটি একসময় এলাকার প্রাণ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। বর্তমান উদ্যোগের ফলে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি পরিবেশেরও উন্নতি হবে। আমরা খুশি।”

খাল খনন কাজ পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খাল, বিল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন মিয়া বলেন, “এ খালটি এলাকার কৃষি ও জনজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খালটি পুনঃখননের। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত। কাজ শেষ হলে হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।”

স্থানীয়রা জানান, খাল খনন সম্পন্ন হলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমবে, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে তালমা ইউনিয়নের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জেলা দলিল লেখক সমিতি।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দলিল লেখকদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

​ফরিদপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন, ফরিদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইলিয়াস খান ও আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এ বি মুস্তাফিজুর রহমান।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ে দলিল লেখকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চললেও তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে এই পেশা বন্ধের চক্রান্ত করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এর সঙ্গে জড়িত বিপুলসংখ্যক পরিবার চরম অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

​অবিলম্বে সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর ফরিদপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

​দলিল লেখক সমিতির মূল দাবিগুলো হলো- রেজিস্ট্রেশন আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, ​প্রতি দলিলের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নির্ধারণ, ​লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও তৈরি দলিল দাখিলের সুযোগ বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি, ​বিভিন্ন কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স না দেওয়া, ​থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে বসার ব্যবস্থা ও প্রার্থনাকক্ষ নির্মাণ, ​পেশাগত কাজের কারণে দলিল লেখকদের আসামি না করা এবং দ্রুত ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমতি প্রদান।

ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৩

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাওয়া-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে ব্যাটারি বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়েছে। এতে ট্রাকের চালক, হেলপার ও এক মোটরসাইকেল আরোহীসহ মোট ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মালীগ্রাম ফ্লাইওভারের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন—হবিগঞ্জের সোহেল মিয়ার ছেলে ট্রাকচালক রফিক (২৮) ও একই জেলার আজিজ মিয়ার ছেলে হেলপার মমিন আলী (২৬)। আহত অন্যজন এক মোটরসাইকেল আরোহী, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাটারি বোঝাই ট্রাকটি ঢাকা যাচ্ছিল। পথে মালীগ্রাম ফ্লাইওভারের ওপর পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের পাশের শক্তিশালী রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় ট্রাকের সামনের অংশ ভেঙে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা ব্যাটারিগুলো ছিটকে বেশ কিছু দূরে গিয়ে পড়ে। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের প্রভাবে পাশের এক মোটরসাইকেল আরোহীও আহত হন।

​দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চালক ও হেলপারের অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার এসআই মুনতাসীর জানান, দুর্ঘটনায় ট্রাকটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরে একদিনে আরও ১০ জন হামে আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একদিনে আরও ১০ জন হামে আক্রান্ত

ফরিদপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে হামের প্রাদুর্ভাব। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮১৪ জনে।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামজনিত কারণে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ফলে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।

​উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের তথ্যে দেখা গেছে—আলফাডাঙ্গায় ২৮, বোয়ালমারীতে ২৫, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

​হাসপাতালগুলোর চিত্রে দেখা যায়, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭২৪ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিগত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি না হলেও বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​অন্যদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে সেখানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৫ জনে। প্রতিষ্ঠানটিতে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৯৫৮ জন হাম রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটি থেকে সুস্থ হয়ে ২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

​স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর জেলার ৭ জন এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার ৩ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে। বর্তমানে জেলাজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।