খুঁজুন
, ,

ফাগুন এলে শুধু প্রেম নয়, বদলায় সময়ও

মো. লিখন হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
ফাগুন এলে শুধু প্রেম নয়, বদলায় সময়ও

বাংলা বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে রঙিন অধ্যায় ফাগুন। হলুদের ছোঁয়া, কোকিলের ডাক, বাতাসে নতুন পাতার গন্ধ-সব মিলিয়ে যেন নতুন এক আবেশ। এই আবেশের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে প্রেমের গল্প, ভালোবাসার অনুভূতি আর সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা।

ফাগুন এলেই বাতাস বদলে যায়। শহরের ধুলো মেখে থাকা রাস্তাও যেন হঠাৎ করে কোমল হয়ে ওঠে, গাছের ডালে ডালে নতুন পাতার হাসি, আর মানুষের চোখে অদৃশ্য এক টান। বসন্তের এই ঋতু যেন প্রেমের জন্যই জন্মেছে- কারও প্রথম হাত ধরা, কারও চুপচাপ ভালো লাগা, আবার কারও বহুদিনের সম্পর্কের নতুন করে শুরু।

হলুদের শাড়ি, পাঞ্জাবির রঙিন ছোঁয়া আর চুলে গাঁদা ফুল-সবকিছু মিলিয়ে ফাগুন হয়ে ওঠে এক অনুচ্চারিত ভালোবাসার ভাষা। অনেকেই এদিন বলে থাকে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ আবার কেউ শুধু চোখের ভাষায় লিখে দেয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্প।

প্রেমের ঋতু কেন ফাগুন

শীতের নিস্তব্ধতা পেরিয়ে বসন্ত আসে উষ্ণতা নিয়ে। এই উষ্ণতা শুধু আবহাওয়ায় নয়, মানুষের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ একাকিত্বের পর মানুষ খুঁজে পায় কাছের মানুষকে, খুঁজে পায় নিজের মনের মানুষকে। তাই ফাগুন এলেই হৃদয়ে জন্ম নেয় নতুন অনুভূতি, নতুন স্বপ্ন।

এই সময়টাতে অনেকেই প্রথম প্রেমে পড়ে, কেউ পুরোনো ভালোবাসাকে নতুন করে আবিষ্কার করে। হাতের মুঠোয় হাত রেখে হেঁটে যাওয়া, একসাথে ছবি তোলা, কিংবা নিঃশব্দে পাশে বসে থাকা-সবকিছুতেই থাকে প্রেমের গভীরতা।

প্রেমের রঙিন শহর

ফাগুন এলেই শহরের দৃশ্য বদলে যায়। চারদিকে দেখা যায় যুগলদের হাসি, প্রেমিক-প্রেমিকা, আর রাস্তায় ফুল বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে ওঠে প্রেমের ছবি, ভালোবাসার স্ট্যাটাস, আর হৃদয়ের গল্প।

এই সময়টাতে শুধু নতুন প্রেম নয়- দীর্ঘদিনের সম্পর্কও পায় নতুন রঙ। পুরোনো অভিমান ভুলে আবার শুরু হয় নতুন পথচলা।

ছোট মুহূর্তেই বড় ভালোবাসা

ফাগুনের প্রেম সবসময় বড় আয়োজনের নয়। কখনও একগুচ্ছ ফুল, কখনও একটি চিঠি, কখনও শুধু এক কাপ চায়ের আড্ডা- এসব ছোট ছোট মুহূর্তেই তৈরি হয় বড় ভালোবাসার স্মৃতি। এই সময় মানুষ নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করতে ভয় পায় না, বরং হৃদয়ের কথা বলার সাহস পায়।

অনেকেই বলেন, বসন্তের বাতাসে এমন এক জাদু থাকে, যা মানুষকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। তাই এই ঋতুতে বলা ভালোবাসার কথা মনে থাকে সারা জীবন।

প্রেম মানে কি শুধু দুজন, না কি অনুভূতি

ফাগুনের প্রেম কেবল রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এক গভীর আবেগ, যা মানুষকে আরও কোমল ও মানবিক করে তোলে। নিজের প্রতি ভালোবাসা, প্রিয় মানুষের প্রতি যত্ন, কিংবা জীবনকে নতুনভাবে গ্রহণ করার সাহস— সবকিছুতেই লুকিয়ে থাকে প্রেম।

তবে রোমান্টিক প্রেমই থাকে এই ঋতুর কেন্দ্রে— কারণ ফাগুন মানুষকে সাহসী করে তোলে, নিজের অনুভূতি প্রকাশের শক্তি দেয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বসন্তের উজ্জ্বল রং ও উষ্ণ আবহাওয়া মানুষের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করে। এই অনুভূতি শুধু রোমান্টিক ভালোবাসায় সীমাবদ্ধ না থেকে আত্মপ্রেম, বন্ধুত্ব ও মানবিকতার দিকেও মানুষকে টানে।

প্রেমের অবিরাম গল্প

ফাগুন এলে মানুষ প্রেমে পড়ে- এ যেন এক অনিবার্য সত্য। কেউ নতুন ভালোবাসা খুঁজে পায়, কেউ পুরোনো ভালোবাসাকে নতুন করে অনুভব করে। বসন্তের রঙে, ফুলের গন্ধে আর বাতাসের মৃদু ছোঁয়ায় প্রেম হয়ে ওঠে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।

তাই বলা যায় ফাগুন মানেই প্রেম। এক ঋতু, হাজার অনুভূতি, আর অসংখ্য ভালোবাসার গল্প।

ফরিদপুরে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে তালা, বৃদ্ধ মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে তালা, বৃদ্ধ মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ, ভাঙচুর, বাড়ি দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং তার বৃদ্ধ মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়নে পৌলানপুটি গ্রামে ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়।

অভিযোগে জানা যায়, ইতালি প্রবাসী জাহিদ শেখের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাসালিয়া গ্রামের শাহিদুল মল্লিকের ছেলে নাসিম মল্লিকের বিদেশে পাঠানোকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন হয়। নাসিম মল্লিকের দাবি, ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহিদ শেখ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। পরে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও দীর্ঘদিন টাকা ফেরত দেননি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তার।

এদিকে জাহিদ শেখের পরিবারের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরে শুক্রবার নাসিম মল্লিক দলবল নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এরপর জাহিদের মা দুলু বেগমকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে একাধিক তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তাকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দুলু বেগম বলেন, “ওরা দলবল নিয়ে এসে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। এরপর আমার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিষয়টি আমি আমার ছেলেকে জানাই। পরে সে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তালা খুলে দেয়।”

ইতালি থেকে মুঠোফোনে জাহিদ শেখ বলেন, “নাসিমের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা নিয়েছিলাম। তাকে পাঠাতে না পারায় টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে তারা আমার বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে এবং আমার মায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আমি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অভিযুক্ত নাসিম মল্লিক বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, “বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলাম। কথা ছিল বিদেশে পাঠাতে না পারলে বাড়ি আমাকে দিয়ে দেবে। সেই কারণে আমি বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলিয়েছি।” তবে আদালতের আদেশ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে বাড়ি দখল করা বৈধ কি না, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার এসআই আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ
নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে সহজে মাথা নোয়ানোর দল নয়; সেটি তারা প্রমাণ করল দারুণ লড়াইয়েও। নির্ধারিত সময়ের নাটক গড়াল অতিরিক্ত সময়ে।

সেখানে আবার এগিয়ে গিয়েও সমতায় ফিরল আফ্রিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত মেসির কর্নার থেকে আসা আত্মঘাতী গোলে স্বস্তির জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মায়ামিতে নকআউট পর্বের রোমাঞ্চকর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল ১-১ সমতায়।

আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন মেসি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেস। অতিরিক্ত সময়ে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে জালে জড়ালে সেটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে ধরা হয়।

কেপ ভার্দের হয়ে গোল করেন ডেরয় দুয়ার্তে ও সিডনি লোপেস কাবরাল।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী। শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয় বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা শানু পেয়েছেন ২৪৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জয় চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিএফডিসিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে ছিলেন আরমান-মুক্তি পরিষদ, অন্যদিকে শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ। নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণা, প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সরগরম ছিল চলচ্চিত্রাঙ্গন।

শুক্রবার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গণনা শেষে শনিবার ভোরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপুর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব পেলেন সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী। নতুন কমিটির কাছে শিল্পীদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।