খুঁজুন
, ,

যেসব কারণে মূত্রনালিতে পাথর হতে পারে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
যেসব কারণে মূত্রনালিতে পাথর হতে পারে?

পিত্তথলির পাথরের কথা তো অনেকেই জানি। তেমনি রেচনতন্ত্রের (বৃক্ক বা কিডনি, মূত্রথলি এবং মূত্রনালি) বিভিন্ন অংশেও নানা কারণে পাথর তৈরি হতে পারে।

হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, কখনো রক্ত— এমন উপসর্গ অনেক সময়ই হতে পারে শরীরে পাথর তৈরির লক্ষণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় কিডনি বা মূত্রনালির পাথর।

এ পাথর মূলত শরীরের ভেতরে জমে থাকা খনিজ ও লবণের শক্ত কণা। ছোট হলে অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না, তবে বড় হলে তা তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্ন হচ্ছে— কেন তৈরি হয় এই পাথর?

শরীরে কীভাবে পাথর তৈরি হয়

মানুষের প্রস্রাবে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ থাকে, যা সাধারণত তরলের সঙ্গে বের হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কারণে যদি এসব পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় বা প্রস্রাব কম তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো একত্রিত হয়ে ধীরে ধীরে স্ফটিক তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে এই স্ফটিক বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো কম পানি পান করা। শরীরে পানি কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব

খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন মাংস) বা অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালংশাক, বাদাম) বেশি খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে বিষয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন— সব খাবার সবার জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়।

জিনগত কারণ

পরিবারে কারও এ ধরনের সমস্যা থাকলে অন্যদের মধ্যেও ঝুঁকি বেশি থাকে। অর্থাৎ, বংশগত কারণও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু রোগ ও শারীরিক অবস্থা

স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা হরমোনজনিত অসামঞ্জস্য পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা বা বিছানায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

কিছু ওষুধের প্রভাব

নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে মূত্রে খনিজের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে, যা পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

প্রস্রাব চেপে রাখা

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

লক্ষণগুলো কেমন

পাথর ছোট থাকলে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে বড় হলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, বমিভাব কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

মূত্রনালির পাথর হঠাৎ তৈরি হয় না— এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই নিয়মিত পানি পান, সঠিক খাদ্যাভ্যাসসহ ছোট ছোট অভ্যাসই এই সমস্যা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শরীরের নীরব সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে পারলেই বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কলেজছাত্রকে টেঁটাবিদ্ধ করল মাদকসেবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কলেজছাত্রকে টেঁটাবিদ্ধ করল মাদকসেবী

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়া ও গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানানোর জেরে জাবির আল মীর (২২) নামে সরকারি মহাবিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে টেঁটা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে এক মাদকসেবী।

​শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ফুলসুতী ইউনিয়নের বাউতিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​আহত জাবির আল মীর বাউতিপাড়া গ্রামের হেদায়েত আলী মীরের ছেলে এবং সরকারি নগরকান্দা মহাবিদ্যালয়ের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

​এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে জাবির গ্রামের ভেসালে (মাছ ধরার বিশেষ ফাঁদ) মাছ শিকার করতে যান। এসময় একই এলাকার সাখাওয়াত মোল্লার ছেলে ও মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত মুবিন মোল্যা হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র টেঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত মুবিন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে আসছিল। জাবির তার এই অপকর্মের বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানান এবং মাদক সেবনে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মুবিন তাকে বিভিন্ন সময় দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার একা পেয়ে মাছ শিকারের সময় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মুবিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসি, সবাই মিলে নিরাপদে বাঁচি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফরিদপুরের মধুখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় মধুখালী আব্দুল কাদের মেমোরিয়াল হাসপাতালের হলরুমে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উপ-স্বাস্থ্য পরিষদ, মধুখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মধুখালী উপজেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি সুরাইয়া সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চিকিৎসক ডা. শাপলা কুন্ডু। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

​কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের লিগ্যাল এইড সম্পাদক মোশের্দা আক্তার মিনা, সাংগঠনিক সম্পাদক শুকলা ভৌমিক, আন্দোলন সম্পাদক মিলি ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেশমা আক্তার এবং প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ জেসমিন ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে সামাজিকভাবে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ফরিদপুরে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে চরাঞ্চলে তালবীজ রোপণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে চরাঞ্চলে তালবীজ রোপণ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ফরিদপুরের চরাঞ্চলে তালবীজ রোপণ ও বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ।

​শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চরভদ্রাসন উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরগোপালপুর ও চরকল্যাণপুর মোল্লাডাঙ্গী এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম, ফরিদপুর’-এর সহযোগিতায় স্থানীয়দের মধ্যে ৫০০টি ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ এবং ৬০০টি তালবীজ রোপণ করা হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ। চরঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদুরুজ্জামান বদু মৃধার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রাথমিকভাবে পদ্মা নদীবেষ্টিত তিনটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ৫ হাজার তালবীজ রোপণ ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।”

​তিনি আরও বলেন, “প্রতি বছর বজ্রপাতে দেশের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ প্রাণ হারান। বজ্রপাতের এই ঝুঁকি কমাতে উঁচু গাছ হিসেবে চরাঞ্চলে তালগাছের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাণহানি কমাতে সবাইকে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং তার যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে।”

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের নির্বাহী সদস্য নাজমুল হাসান, মো. জহিরুল ইসলাম, ইরা নাহার দিপা, লিয়াকত আলী, জাহিদ হোসেন, মামুনুর রশিদ বাবু, ফজলুল রহমান খান, ফারুক মেম্বার, কুদ্দুস ও ইয়াসিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।