খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের নগরকান্দায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় পপি বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সদর বাজারে চেয়ারম্যানের গলি এলাকার গোলাম মোস্তফার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পপি বেগম নগরকান্দার কাইচাইল ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর বাড়ি একই ইউনিয়নের শ্রীরামপট্টি গ্রামে। তবে পপি বেগম, স্বামী শহিদুল ইসলাম এবং দুই মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে নগরকান্দা সদরে গোলাম মোস্তফার বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

গোলাম মোস্তফা নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন, পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা করেন। তিনি দৈনিক সরেজমিন বার্তার নগরকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। তিনি সেখানে প্রায় ৮ বছর অবস্থান করেন। তবে গত ৫ বছর ধরে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

ঘটনার পর বুধবার বিকেলে পপির মা বিউটি বেগম (৫৫) বাদী হয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তার মেয়ের “অস্বাভাবিক মৃত্যু” দাবি করে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করার দাবি জানিয়ে নগরকান্দা থানায় একটি অভিযোগ দেন।

কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মাতুব্বর বলেন, গত ২৯ মার্চ পপি তার বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গতকাল বুধবার সকালেই নিজের বাসায় ফিরে আসেন।

ফারুক মাতুব্বর আরও বলেন, স্বামী শহীদুল ইসলাম কোন কাজ করতেন না এবং জুয়া ও তাস খেলে দিন কাটাতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

এ লাশ উদ্ধারে দায়িত্ব পালনকারি নগরকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম জানান, পপির এক মেয়ে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্কুল থেকে ফিরে তাদের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মায়ের লাশ দেখতে পায়।

ইরানুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানি আজাদ বলেন, এই মৃত্যুটি অস্বাভাবিক। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, লাশ উদ্ধার করে গতকাল বুধবার বিকেলেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পপির মায়ের মামলাটি আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের যদি এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রতিবেদন পাওয়া যায় তাহলে এই মামলাই হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

ফরিদপুর মেডিকেলে অনিয়ম ও দালাল উৎখাতে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেলে অনিয়ম ও দালাল উৎখাতে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দালালচক্র উৎখাতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড় ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

​প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের মারাত্মক উৎপাত রয়েছে। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুততম সময়ে এই দালালচক্র শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। হাসপাতালে তাদের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জানলাম, দীর্ঘ সাত বছর পর আজ ম্যানেজিং কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হলো। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তবে এই মেডিকেলে বরাদ্দের সংকটসহ অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কেনা অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে, রয়েছে ক্যাথল্যাবের সমস্যা ও স্টোরেজ ঘাটতি। ১ হাজার শয্যার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সুবিধা নেই, অথচ প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। লোকবল সংকটও অনেক প্রকট। আজকের সভায় এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

​সভায় অন্যান্যের মধ্যে ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিন্টু বিশ্বাস, ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক মানস কুমার কুন্ডু, সহকারী পরিচালক মো. ওমর ফয়সাল এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আসিফ উল আলমসহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ।

ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথায় ডোবায় ডুবে সিফাত (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

​শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত সিফাত ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার শংকর এলাকার ইমরানের ছেলে। গত ২৩ আগস্ট ফুফু ও দাদির সঙ্গে সালথার ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়ায় ফুফার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে অন্য শিশুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে যায় সিফাত। একপর্যায়ে তাকে দেখতে না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ইউসুবদিয়া উত্তরপাড়ার নুরুল ইসলাম ফুরান মাতুব্বরের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ফরিদপুরে পর্যাপ্ত সারের মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট করলে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পর্যাপ্ত সারের মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট করলে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘কিছু দুষ্কৃতিকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না।’

​শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। আগামী দিনে কৃষি পণ্য আমদানি নয়, বরং দেশ থেকে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে।’

​ফরিদপুরের মৎস্য ও কৃষি সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘ফরিদপুর জেলায় দেশীয় মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ও সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো হওয়ায় অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় চাষাবাদে সার কম লাগে। মাটি ও আবহাওয়ার কারণেই এ এলাকায় পেঁয়াজ ও পাটের ফলন অনেক ভালো হয়।’

​জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মসূচি শেষে মন্ত্রী ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে স্থানীয় পেঁয়াজ ও পাট চাষীদের সঙ্গে পৃথক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পৃথক এসব সভায় জেলার কৃষি ও মৎস্য খাতের সার্বিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা এবং কৃষকদের নানা সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসব মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, শহিদুল ইসলাম বাবুল ও মো. ইলিয়াস আলী মোল্লা।

​অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।