খুঁজুন
, ,

“বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপত্তা ও পূর্ণ স্বাধীনতায় উৎসব পালন করে”: শামা ওবায়েদ

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
“বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপত্তা ও পূর্ণ স্বাধীনতায় উৎসব পালন করে”: শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে দেশের সকল ধর্মের মানুষ সমঅধিকার, পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​তিনি সন্ধ্যায় রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

​মণ্ডপ পরিদর্শনকালে শামা ওবায়েদ বলেন, “বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

​বিগত ১৭ বছর দেশের মানুষকে অত্যন্ত কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সকল ধর্মের মানুষ এক হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উৎসব উদযাপন করছেন। এটাই বাংলাদেশের আসল সৌন্দর্য ও মাধুর্য।”

​পরিদর্শনকালে মণ্ডপে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে বিগত সরকারের বরাদ্দের সাথে বর্তমান সরকারের বরাদ্দের তুলনা করে তিনি জানতে চান, এ বছর তাঁরা আগের চেয়ে বেশি সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন কি না। জবাবে উপস্থিত সকলেই ইতিবাচক সাড়া দেন।

​এ সময় ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মিয়াজী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

​এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, সহ-সভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া, যুবদলের আহ্বায়ক তৈয়াবুর রহমান, রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল সত্তার মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সালাম বেপারী, সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মাতুব্বর, প্রচার সম্পাদক হাকিম মুন্সি, যুবদল নেতা তুষার মন্ডল, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক টগড় মন্ডলসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা সুইচগেট সংলগ্ন নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩২ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নদীর পশ্চিম পাশে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে।

​খবর পেয়ে একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিআইডি পুলিশের সদস্যরা। মরদেহটি উদ্ধারের পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ ও নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে নৌপুলিশ নিহতের মরদেহ হেফাজতে নেয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

​তবে নিহত ব্যক্তি কীভাবে মারা গেছেন এবং তাঁর পরিচয় কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, আমরা নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নৌপুলিশের সহায়তায় সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখ (২৭) নামে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​দণ্ডিত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।

​পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর চারটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত ক্যানটিনের তালা ভেঙে এসব মালামাল চুরি হয়। হাসপাতালটিতে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির বিষয়টি ধরা পড়েনি। পরদিন শনিবার সকালে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

​পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত মান্না শেখকে শনাক্ত করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে।

​এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। রোববার বিকেলে আসামিকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের পর মালামাল উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

​এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানকারী কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোপন তথ্য ফাঁস করা কি গুনাহ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
গোপন তথ্য ফাঁস করা কি গুনাহ?

মানুষের সম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান করা, গোপন দোষ প্রকাশ করা কিংবা একান্তে বলা কথা অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় কাজ।

এতে শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি হয় না, বরং পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক বিশ্বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা, অন্যের দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থাকা এবং গোপন কথা আমানত হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ যুগে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নতুন করে এ শিক্ষার গুরুত্ব সামনে এনেছে।

গোপনীয়তা অনুসন্ধানে কোরআনের নিষেধাজ্ঞা

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করতে নিষেধ করেছেন।

একই আয়াতে ভিত্তিহীন ধারণা ও পরনিন্দা থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।

’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)

এ নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার কৌতূহল মেটাতে তার গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। কারও ভুলত্রুটি খুঁজে বেড়ানো কিংবা তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করাও ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী।

এ ছাড়া সূরা আন-নূরের ১৯ নম্বর আয়াতে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়া পছন্দ করে, এমন ব্যক্তিদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আয়াতটির শিক্ষা হলো, সমাজে অনৈতিকতা ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

অন্যের গোপন দোষ খুঁজলে কঠিন সতর্কবার্তা

অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান ও প্রচারের পরিণতি সম্পর্কে হাদিসেও কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধান করো না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। আর আল্লাহ যার দোষ প্রকাশ করেন, তাকে তার ঘরের মধ্যেও অপদস্থ করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০)

এ হাদিসে অন্যের গোপন দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং তা প্রকাশ করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো অন্যের দুর্বলতা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র ও আমল সংশোধনের দিকে মনোযোগ দেওয়া।

একান্ত কথাও আমানত

ইসলামে আমানতদারিতার পরিধি শুধু অর্থসম্পদ বা মূল্যবান বস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিস্থিতি ও কথার ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আলাপ এবং গোপন তথ্যও আমানতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি কথা বলার পর চারদিকে তাকালে, তা আমানত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৬৮)

অর্থাৎ, কেউ কোনো কথা গোপন রাখার প্রত্যাশায় বললে তা অনুমতি ছাড়া অন্যের কাছে প্রকাশ করা আমানতের খেয়ানত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক বিষয় কিংবা আস্থার সম্পর্কের মধ্যে জানা তথ্য প্রকাশের আগে এর সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যের দোষ গোপন রাখার প্রতিদান

ইসলাম শুধু অন্যের গোপনীয়তা নষ্ট করতে নিষেধ করেনি; বরং মানুষের দোষত্রুটি গোপন রাখার জন্যও সুসংবাদ দিয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

এ শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করে। কেউ ভুল করলে তাকে অপমানিত করার পরিবর্তে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং তার সম্মান রক্ষার চেষ্টা করা উত্তম আচরণ।

তবে কারও অপরাধের কারণে অন্যের জীবন, নিরাপত্তা বা অধিকার হুমকির মুখে পড়লে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো ভিন্ন বিষয়। অপরাধ আড়াল করা এবং অকারণে ব্যক্তিগত দোষ ছড়িয়ে বেড়ানো এক নয়।

ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বার্তা, ফোনালাপ, ছবি ও স্ক্রিনশট অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করার ঘটনা দেখা যায়। কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রতিশোধ কিংবা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মানহানি, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক কষ্ট তৈরি হতে পারে। একবার কোনো তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রত্যাহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা, প্রয়োজনীয়তা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি এবং সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করা উচিত।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, অন্যের সম্মান রক্ষা করা, গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জিহ্বা ও আচরণ সংযত রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। নিজের ভুল সংশোধন এবং অন্যকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করার মানসিকতা ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সমাজেও শান্তি ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।