খুঁজুন
, ,

নগরকান্দায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পুড়াপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রামের মোল্লা গ্রুপ এবং পাশের গোয়ালদী গ্রামের তালুকদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন বলে জানা গেছে, যদিও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উপস্থিত হলে সংঘর্ষে জড়িতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা দেখা দেয়। এর আগেও কয়েকবার ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের সংঘর্ষ তুলনামূলক বেশি সহিংস ছিল।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মোল্লা গ্রুপ ও তালুকদার গ্রুপের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। শনিবার বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার ৬ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার ৬ উপায়

মাঠের টানটান উত্তেজনা কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা গ্যালারি ছাড়িয়ে কোটি ভক্তের বসার ঘর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রিয় দলটি যখন মাঠে নামে, তখন ভক্তদের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।

প্রিয় দলের প্রতিটি ভালো মুভমেন্টে তারা আনন্দিত হন, উল্লাসে মাতেন। তবে, একটি ভুল চালে মুহূর্তে তৈরি হয় রাগ বা হতাশাও। প্রিয় দলের পরাজয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেকেই।

গবেষণায় দেখা গেছে, একনিষ্ঠ ভক্তরা দলের পারফরম্যান্সকে নিজেদের ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। প্রিয় দলের জয়কে তারা যেমন ‘আমাদের জয়’ বলে গর্ব করেন, তেমনি পরাজয়কে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখে বিষণ্ণতায় ডুবে যান। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘স্পোর্টস ফ্যান ব্লুজ’ বলা হয়, যা মানুষের আত্মসম্মানবোধ কমিয়ে দিতে পারে এবং মনে এক ধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি করতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, খেলার জয়-পরাজয় পুরোপুরি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরের একটি বিষয় এবং আপনি কোনোভাবেই এর ফলাফলের জন্য দায়ী নন। পরাজয়ের এই মানসিক ধাক্কা সামলে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর কৌশলের কথা বলেছেন।

আপনার প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার সেরা ৬টি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ক্ষোভ প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন

হারের পর দীর্ঘ সময় ধরে সেই দুঃখ নিয়ে পড়ে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হারের পর আপনার আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট সময় দিন। এই সময়ের মধ্যে অন্য ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে বা আলোচনা করে মনের ভার হালকা করে নিন। তবে এই সময়ের পর অবশ্যই অন্য কোনো কাজ বা অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতে হবে। দীর্ঘক্ষণ একা একা হারের কারণ নিয়ে পড়ে থাকলে আপনার খারাপ লাগা আরও বাড়তে পারে।

২. সোশ্যাল মিডিয়া ও পোস্ট-গেম বিশ্লেষণ থেকে দূরে থাকুন

খেলার পরপরই ফেসবুক বা এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সেখানে বিপক্ষ দলের ভক্তদের ট্রল বা নেতিবাচক মন্তব্য আপনার মেজাজ আরও বিগড়ে দিতে পারে। পাশাপাশি টিভি বা রেডিওর দীর্ঘ ‘পোস্ট-গেম বিশ্লেষণ’ শোনা বন্ধ করুন। বারবার পরাজয়ের দৃশ্য বা হারের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা আপনার মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৩. শরীরচর্চা বা ঘাম ঝরানো

মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। হারের ফলে শরীরে যে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোন তৈরি হয়, তা কমাতে ১০ থেকে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। আপনি দ্রুত হাঁটতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন বা একটু দৌড়ে আসতে পারেন। এতে শরীরে ‘ডোপামিন’ বা ফিল-গুড হরমোনের মাত্রা বাড়ে, যা আপনার তাৎক্ষণিক মন খারাপ দূর করে শরীরের শক্তি ও মেজাজ চনমনে করতে সাহায্য করবে।

৪. মানসিক প্রশান্তি দেয় এমন সৃজনশীল কাজে যুক্ত হোন

খেলার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে নিজেকে সৃজনশীল কোনো কাজে ব্যস্ত রাখুন। গান শোনা, পছন্দের কোনো পডকাস্ট শোনা, ডায়েরি লেখা কিংবা ছবি আঁকার মতো কাজগুলো আপনার মনকে শান্ত করবে। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান করলে স্নায়বিক চাপ কমে এবং মনে প্রশান্তি আসে, যা পরাজয়ের গ্লানি ভুলে যেতে সাহায্য করে।

৫. বহুমুখী শখ গড়ে তুলুন

আপনার জীবনের একমাত্র আনন্দ বা পরিচয়ের উৎস যদি কেবল প্রিয় দলের জয়ের ওপর নির্ভর করে, তবে পরাজয় আপনাকে অনেক বেশি বিপর্যস্ত করবে। নিজের পরিচয়কে কেবল একজন ‘ফ্যান’ হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমুখী শখ গড়ে তুলুন। সৃজনশীল কাজ (রান্না বা সেলাই), বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ (বই পড়া বা দাবা খেলা) কিংবা নতুন কোনো ভাষা শেখার মতো শখগুলো আপনাকে একটি বহুমুখী ব্যক্তিত্ব দেবে। এতে দলের হারের প্রভাব আপনার ওপর তুলনামূলক কম পড়বে।

৬. মনে রাখুন, ফলাফল আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই

প্রিয় দল হারলে নিজেকে কোনোভাবেই দোষী ভাববেন না। মনে রাখবেন, আপনি খেলাটি খেলছিলেন না এবং মাঠের ফলাফলে আপনার কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। খেলাটি কেবল একটি বিনোদন এবং এর জয়-পরাজয় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ হতে পারেন, কিন্তু নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাবেন না।

হেলথ লাইন অবলম্বনে

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের যে ৫ কারণ?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের যে ৫ কারণ?

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। অপরদিকে ৬০ বছর পর পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে কোনো দল হিসেবে আর্জেন্টিনার সামনে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল

কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে হেরে বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। স্কোরলাইন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে হলেও পুরো ১২০ মিনিটে মাঠের খেলায় স্পেনের আধিপত্য ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি। ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পেছনে যেসব কারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তার অন্যতম পাঁচ কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল লিওনেল মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। মেসিকে এদিন পুরোপুরি আটকে রাখতে সক্ষম হয় স্পেন। দলটির কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আর্জেন্টিনাকে আটকানোর জন্য মেসিকে কেন্দ্র করে বিশেষ রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ পুরো ম্যাচে মেসিকে কড়া পাহারায় (ম্যান-মার্কিং) রাখেন। ফলস্বরূপ, মেসি মাঠে স্বাধীনভাবে খেলার জায়গা পাননি এবং বল বানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে মেসি মাত্র একবার বল স্পর্শ করেন, যা স্পেনের কড়া মার্কিংয়েরই প্রতিফলন। ফাইনালের আগে টুর্নামেন্টে ৮ গোল করা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের গোলের প্রত্যাশিত মান ছিল মাত্র ০.০৪। পুরো ম্যাচে তিনি একটি কী পাসও দিতে পারেননি।

২. স্পেনের মিডফিল্ডের আধিপত্য

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই স্পেনের মিডফিল্ড ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় বলের দখল রাখতে দেয়নি তারা। দ্রুত পাসে আক্রমণ গড়ে তোলার পাশাপাশি বল দখলেও ছিল দারুণ কার্যকর। ফাইনালেও সেই আধিপত্য ধরে রেখে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি স্পেন।

ওয়ান-টাচ ফুটবল এবং গতিশীল পাসিংয়ের সামনে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা স্পেনের কাছে ছিল সম্পূর্ণ পরাস্ত। রদ্রি ও পেদ্রিদের মতো স্প্যানিশ মিডফিল্ডাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখায় আর্জেন্টিনা কাউন্টার অ্যাটাকের তেমন কোনো সুযোগ পায়নি।

৩. এঞ্জো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাও কুবারসির ওপর ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আলবিসেলেস্তেদের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা এঞ্জো ফার্নান্দেজ। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি।

টুর্নামেন্টজুড়ে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে একজন কম নিয়ে খেলা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য আর্জেন্টিনার আক্রমণের শেষ সুযোগটুকুও শেষ হয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটে সংখ্যাগত এই সুবিধাই কাজে লাগায় স্পেন। সঠিক জায়গায় থাকা ফেরান তোরেস সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল করেন।

৪. লিসান্দ্রো ও রোমেরোর চোটে ডিফেন্সে ভারসাম্য নষ্ট

টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর জুটি ছিল অন্যতম শক্তি। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর আরেক নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর চোট কোচ লিওনেল স্কালোনির পুরো রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা এলোমেলো করে দেয়। এই দুই মূল ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতি আর্জেন্টিনার রক্ষণকে দুর্বল করে তোলে। মার্তিনেজ ও রোমেরোর অনুপস্থিতিতে শুধু রক্ষণ নয়, পেছন থেকে বল এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনা পিছিয়ে পড়ে।

৫. আক্রমণে ছিল না কোনো গতি

ফাইনালের আগে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের আক্রমণ প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল। কোচ লিওনেল স্কালোনি ফাইনালে অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ বা রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেন। গোল হজম না করার অতি-সাবধানী মানসিকতার কারণে দল খুব বেশি নিচে নেমে ডিফেন্ড করছিল, যা স্পেনের আক্রমণভাগকে আরও চেপে বসার সুযোগ করে দেয়। এর ফলে অতিরিক্ত সময়ের আগে দলের সব সাবস্টিটিউশন শেষ হয়ে যায় এবং শেষে নতুন কোনো আক্রমণাত্মক বদলি নামানোর সুযোগ ছিল না।

এমন রক্ষণাত্মক খেলার ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি। পুরো ১২০ মিনিটে তারা মোট মাত্র দুটি শট নেয়, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। অন্যদিকে স্পেন নেয় ২০টি শট, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। পরিসংখ্যানেও দুই দলের পার্থক্য স্পষ্ট। স্পেনের প্রত্যাশিত গোলের মান ছিল প্রায় ১.৯৪, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ০.১৭। এই পরিসংখ্যানই ম্যাচে স্পেনের আধিপত্যের চিত্র তুলে ধরে।

চরভদ্রাসনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০ পরিবার পেল ঢেউটিন ও নগদ সহায়তা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০ পরিবার পেল ঢেউটিন ও নগদ সহায়তা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০টি পরিবারের মাঝে সরকারি সহায়তা হিসেবে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ।

এ সময় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সেলিম হুসাইনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে নির্বাচিত ৬০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেককে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ঘর মেরামত ও নির্মাণে সহায়তার জন্য নগদ ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন দ্রুত তাদের বসতঘর মেরামত করে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা সরকারি এ সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্যোগে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় নতুন করে ঘর মেরামত করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ সময় সরকারের দেওয়া ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তাদের জন্য অনেক উপকারে আসবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বন্যা, নদীভাঙন, ঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। চরভদ্রাসনেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে এ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।