খুঁজুন
, ,

‘কালো শকুন’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
‘কালো শকুন’

সেদিন আকাশে ছিল না চাঁদ, ছিল না কোনো আলো,
নেমে এল শুধু পাষাণপুরীর জঘন্য রাত কালো।
শান্ত শহরে হিংস্র থাবায় নামলো যমদূত দল,
হানাদার রূপী কালো শকুনরা বাড়ালো কোলাহল।

বজ্রকঠিন নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয় কামানের গোলা,
রাজারবাগের রক্তে ভাসলো রাজপথ—দুয়ার খোলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—জ্ঞানের আলোয়—জ্বললো লাশের স্তূপে,
ঘাতকেরা এলো দানবীয় সেই নারকীয় হিংস্র রূপে।

চব্বিশ বছরের শোষণের বিষ উগড়ে দিল সে রাতে,
ঘুমন্ত শিশু, জননী, বৃদ্ধ মরলো ঘাতক হাতে।
মেশিনগানের তপ্ত বুলেটে বিদীর্ণ বাংলার বুক,
খুনী শকুনের উল্লাসে ঢাকা পড়লো চেনা সব মুখ।

অন্ধকারের সেই মহাপ্লাবন রুখতে জাগলো প্রাণ,
রক্তের দামে কেনা হবে ঠিক স্বাধীনতার সম্মান।
২৫শে মার্চ আজো কাঁদে তাই বাংলার ঘরে ঘরে,
ভেবেছিনু বুঝি শকুন বিদায় রক্তে ভেজানো ভোরে।

শকুনেরা বদলালো রূপ লুকিয়ে ছদ্মবেশে,
সুযোগ পেলেই থাবা দেয় আজও আমার সোনার দেশে।
বাইরের শত্রু নয় শুধু আজ, ঘরের ভেতরে ঘাঁটি,
লোভ আর কালোর থাবায় ছিঁড়ছে আমার মায়ের মাটি।
স্বাধীন দেশেও অধিকার কাড়ে, শোষণের জাল বোনে,
আতঙ্কের ছায়া আজও হানা দেয় নিভৃত মনের কোণে।

তাই তো আবার জাগতে হবে রে, হতে হবে ইস্পাত,
শকুনের দল রুখে দিয়ে ফের, ঘুচাতে হবে এ রাত।
একাত্তরের সেই হুঙ্কার উঠুক আবার বেজে,
শকুনেরা পাক চরম জবাব, বাংলা উঠুক সেজে।

 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জামাল মোল্লা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল মোল্লা মধুখালী উপজেলার মাবকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি রাজবাড়ী সদর থানার বানিয়াবহু হুগলাডাঙ্গী গ্রামে।

​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ৩ মে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শিশুটি দর্জির বাড়ি থেকে জামা আনতে গিয়ে তা না পেয়ে আসামির বাড়ির উঠানে তার নাতনিসহ অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় জামাল মোল্লা শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

​একপর্যায়ে শিশুটি কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিঁড়ির ওপর পড়ে চিৎকার করতে থাকে। আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর আসামি জামাল মোল্লা এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

​আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই দণ্ডাদেশ দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সঠিক রায় দিয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে আমরা আশা করি।”

সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ফরিদপুরের সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় ফারদিন (৭) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের কারীরহাট মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত ফারদিন একই এলাকার বাচ্চু মাতুব্বরের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কারীরহাট মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি চলন্ত ইজিবাইক ফারদিনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিনঃ সুমাইয়া পারভেজ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুই পিতলের মূর্তি চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুই পিতলের মূর্তি চুরি

ফরিদপুরের নগরকান্দা বাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দুটি পিতলের মূর্তি চুরির অভিযোগ উঠেছে। চুরি হওয়া মূর্তি দুটির আনুমানিক ওজন ২২ কেজি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর তদন্তে নেমেছে নগরকান্দা থানা পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে মূর্তি চুরির বিষয়টি দেখতে পান মন্দিরের সেবায়েত রমা চক্রবর্তী (৩০)। পরে মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তিনি নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মন্দিরের দরজায় তালা লাগিয়ে পাশের বাসায় চলে যান সেবায়েত রমা চক্রবর্তী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মন্দিরটি একবার পরিদর্শন করে পুনরায় বাসায় ফিরে যান।

এরপর সোমবার ভোর ৬টার দিকে পূজা দিতে মন্দিরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ভেতরে রাখা দুটি পিতলের মূর্তি নেই। পরে মন্দিরের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

সেবায়েতের ধারণা, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা মন্দিরের তালা ভেঙে মূর্তি দুটি চুরি করে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নগরকান্দা উপজেলা সভাপতি শ্রী রণদা প্রসাদ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।