খুঁজুন
, ,

“ধীরে বৎস ধীরে” — নাসিরুদ্দীনকে কটাক্ষ করে বাবুলের ফেসবুক পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
“ধীরে বৎস ধীরে” — নাসিরুদ্দীনকে কটাক্ষ করে বাবুলের ফেসবুক পোস্ট

কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন।

শনিবার (২২ মে) রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ‘নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী’কে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “দেখেন কত বড় হ্যাডোমওয়ালা পাটোয়ারী। দিনভর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গালিগালাজ করে অবশেষে পুলিশের কাছেই আশ্রয় চায়। আল্লাহ সহায় পুলিশ আশ্রয় না দিলে বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার জনতা না জানি তাকে পেলে কি করতো।”

তিনি আরও লেখেন, “সেজন্য বলি- ধীরে বৎস ধীরে! রাজনীতি করতে আসছ, হিরো হইতে আসছ- ভালো কথা, কিন্তু একটু সভ্যতা ভব্যতা তো শিখতে হবে বাবা। না হলে পদে পদে তো গণবিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে তোমাকে।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে শর্টকার্ট কোনো পথ নেই বাছা। যত তাড়াতাড়ি উঠবা, তত তাড়াতাড়িই পড়বা। আমরা কি হুদাই ৪০ বছর ঘাস কাটছি?”

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতাকর্মী ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা পোস্টটি শেয়ার ও মন্তব্য করতে থাকেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ‘পাটোয়ারী’র কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

টানা ৭ দিনের বৃষ্টিতে ফরিদপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
টানা ৭ দিনের বৃষ্টিতে ফরিদপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে টানা সাত দিনের ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ফরিদপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মজীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত সাত দিনে মোট ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে জেলার অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

টানা বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এলাকা এবং আবাসিক এলাকার নিচু স্থানগুলোতে পানি জমে রয়েছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় রিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের আয়-রোজগারও কমে গেছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে আমন ধানের বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেতে পানি জমে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ১৮ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচল না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, বিশ্ববিদ্যালয় ও ৬ লেন সড়কের জোরালো দাবি

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, বিশ্ববিদ্যালয় ও ৬ লেন সড়কের জোরালো দাবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঢাকা-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা গোলচত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ জড়ো হন।

সকাল ৬টা থেকেই ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

সকাল আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ভাঙ্গা গোলচত্বরে পৌঁছালে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন। পুরো এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সফরকে ঘিরে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাগত জানাতে আসা ভাঙ্গা ও সদরপুরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আইয়ুব মোল্লা, স্বরন, এম এম সিদ্দিক মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, একরামুল, মিলন, ফজলে সুবাহান শামিম, তুরান রহমানসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভাঙ্গার উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ভাঙ্গায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপন।

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথম ভাঙ্গা হয়ে বরিশাল সফরে গেছেন। তার সফর সফল করতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে ভাঙ্গার হাজারো নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়েছেন।”

তারা আরও বলেন, “ভাঙ্গাসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে শহিদুল ইসলাম বাবুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাই আমরা তাকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই। পাশাপাশি ভাঙ্গার সার্বিক উন্নয়নে আমাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে ভাঙ্গাজুড়ে সকাল থেকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে ভাঙ্গা ও দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভুবনেশ্বর নদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খনন কাজ শেষ হলেও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষে ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনো তাদের প্রাপ্য মজুরি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা টানা দুই মাস খাল খননের কাজ সম্পন্ন করেন। রোববার (১২ জুলাই) হাজীগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে শ্রমিকদের সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার শ্রমিকদের মধ্যে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করে চেক বিতরণ করেন। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর কয়েকজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে রেখে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে সুপারভাইজারের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাঁর নির্দেশনায় পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে চেক হস্তান্তর ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার বলেন, “আমি দুইজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। পরে সেই টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের চেক তুলে দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে। কোনো শ্রমিক যেন তার প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের চেক পৌঁছে দেওয়া হবে এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা দ্রুত তাদের সম্পূর্ণ ও ন্যায্য মজুরি পরিশোধের পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।