খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

🌙 রমজান শুরু, আজ থেকেই বন্ধ সব স্কুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
🌙 রমজান শুরু, আজ থেকেই বন্ধ সব স্কুল

মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন থেকেই ছুটি শুরু হচ্ছে। ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত।

এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়েছে, বিগত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের স্মারক নম্বর: ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৪.০০২.০২ (অংশ)-৫০৭ মূলে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন সংশোধনক্রমে সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের ২০২৬ (১৪৩২-১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি নিম্নোক্তরূপে নির্ধারণ করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শবেকদর (১৭ মার্চ),  জুমাতুলবিদা (২০ মার্চ), ঈদুল ফিতর (২১ মার্চ) এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬ দিন ছুটি থাকবে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে।

জানা যায়, দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বার্ষিক ছুটির তালিকায় সংশোধন এনেছে। ফলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রমজানের প্রথম দিন থেকেই ছুটি শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল।

১৫ ফেব্রুয়ারি সেই রিটের শুনানি হয়। এতে পুরো রমজান মাস, অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে গত সোমবার পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত স্থগিতের আদেশ দেন।

 

ভাইরাল লাইলি খালার আমলনামা, যে গল্প সবার অজানা?

মফিজ ইমাম মিলন
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
ভাইরাল লাইলি খালার আমলনামা, যে গল্প সবার অজানা?

বাংলা ভাষায় ‘আমলা’ শব্দের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের প্রেক্ষিত ভিন্নতর। আরবিতে ‘আমল’ শব্দের অর্থ কাজ। সে নিরিখে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আমল বা কাজ করে, তারাই আমলা। উৎপত্তি আর বুৎপত্তি—যে অর্থেই ব্যবহার করি না কেন, আমলাতন্ত্রের শানে নুযুল কিন্তু আমাদের সামনে এক ভিন্ন বাস্তবতা হাজির করে। শিল্পী লাইলির আমলনামা কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টোটা।

লাইলি বেগম কবে, কার কাছে থেকে ‘খালা’ উপাধি পেয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে ষাটোর্ধ্ব এই নারীর ক্ষেত্রে বয়সটাই হয়তো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ফরিদপুরের ছয় দশকের ধুলো, বালি, ময়লা আর অমলিন সময় লাইলির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে রয়েছে। তাঁকে নিয়ে মানুষের কৌতূহলও কম নয়। কারণ তিনি আজন্ম ভবঘুরে।

কোনো পাসপোর্ট তিনি বানাননি, কিন্তু দিল্লির আজমির শরীফ যেন তাঁর হাতের মুঠোয়। বাড়ি থেকে না বলে-কয়ে অজানার পথে রওনা দিতে তাঁর যতটুকু সময় লাগে, ততটুকুই। অক্ষরজ্ঞানহীন এই মানুষটির সবচেয়ে বড় সখ—‘মানুষ দেখা’। তিনি প্রায়ই প্রশ্ন করেন, “আল্লার দুনিয়ায় কত পদের মানুষ, কিন্তু কারো সঙ্গে কারো মিল নাই কেন?” এর সদুত্তর কোনোদিনই তাঁকে দিতে পারিনি। তবে মানুষ দেখতে যাওয়ার সফরসঙ্গী হয়েছি কয়েকবার। হাটে, নৌকাঘাটে, রেলস্টেশনে—যেখানে মানুষের ভিড়, লাইলি সেখানেই।

২০০০ সাল থেকে প্রায় সাত বছর আমি ফরিদপুর শিল্পকলা একাডেমির সেক্রেটারি ছিলাম। প্রথম দিকে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে লাইলি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। মাঝেমধ্যে বায়না ধরতেন—
“স্যার, একটা গান শোনাই?”

বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকাতাম। একদিন জোর করেই আমাকে মেহেদী হাসানের একটি গজল শোনালেন। বাহবা দিতেই গেয়ে উঠলেন রুনা লায়লার ১৪ বছর বয়সে গাওয়া পাকিস্তানি ছবি আঞ্জুমান-এর সেই বিখ্যাত উর্দু গান— “আপ কি দিল মে আনজুমান মে, হুসনে বান কার আগায়া…”

পারিবারিকভাবে আমরা সবাই মেহেদী হাসান আর নূরজাহানের ভক্ত। কিন্তু সেদিন বুঝতে পারিনি—আমি রুনা লায়লার ভক্ত হলাম, নাকি লাইলির।

পিয়নরা ভীষণ বিরক্ত হতো তাঁকে নিয়ে। ওয়ান টাইম কাপ ছাড়া চা দিত না। তাও কখনো ফুরিয়ে যেত। লাইলি সব বুঝতেন। তরমুজের বিচির মতো পান খাওয়া দাঁত বের করে হেসে বলতেন— “স্যার, কত খাওয়া যাবি চা?”

একদিন আবদার করে বললেন—“স্যার, আমারে হারমোনিয়াম শিখাইবেন না?”

স্থানীয় শিক্ষকদের অনুরোধ করলাম, তাঁকে একটু গানবাজনা শেখানোর জন্য। একসময় তিনি নিজেই সুর তুলতে শিখে গেলেন। এরপর ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের প্রায় সব অনুষ্ঠানে লাইলি অপরিহার্য হয়ে ওঠেন।

২০০৩ সালে কবি জসীমউদ্দীনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জসীম পল্লী মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। পল্লীকবির সৃষ্ট নায়ক-নায়িকাদের যেন বাস্তবে হাজির করা হয়েছিল সেই মেলায়। কবিতার আসমানী, লোকগানের কিংবদন্তি হাজেরা বিবি, তাম্বুলখানা থেকে আদর্শ কৃষক গণি মিয়া, আর ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আনা হয়েছিল লাঠিয়াল রুপাইকে।

তখন জেলা প্রশাসক ছিলেন তরুণ কর্মকর্তা জালাল আহমেদ। তিনি সবার জন্য ভালো উপহারের ব্যবস্থা করতে বললেন। গায়িকা লাইলির কথা বলতেই তাঁর জন্য শাড়ি-কাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়। জেলা প্রশাসক গান শুনে তাঁকে কাপড় উপহার দিয়েছেন—এ কথা লাইলি নিজেই মাইকের মতো প্রচার করতে লাগলেন।

শহরের সবাই লাইলিকে চেনেন—তা নয়। তবে শিল্প-সংস্কৃতির মানুষদের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয়। তাঁর ঠিকানা অবশ্য কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। একসময় পৌর বিসর্জনঘাটের কাছে থাকতেন। স্বামী মারা গেছেন প্রায় দশ বছর আগে। দুই ছেলে, দুই মেয়ে—সবাই বিবাহিত। স্থায়ী ঠিকানা বলতে কিছু নেই। কখনো শহরতলির হারুকান্দীতে ছেলের বাসায়, কখনো ঝিলটুলীর মালেক মীর বাড়িতে রাত কাটান। শুধু ওয়াজ মাহফিল নয়—যেখানে রামকীর্তন, যেখানে তিন রথের মেলা, সেখানেই তাঁর উপস্থিতি।

যোগাযোগের সুবিধার্থে কয়েক বছর আগে তাঁকে অল্প দামের একটি বাটন ফোন কিনে দিয়েছিলাম। ফোন হাতে নিয়েই প্রশ্ন করলেন— “এইটার সঙ্গে কি কানেকশন পাওয়া যাবে?”

কার সঙ্গে—জিজ্ঞেস করতেই ফোনটা আমার হাত থেকে নিয়ে দূরে পানিতে ছুড়ে ফেললেন। তারপর বললেন—“এই জ্ঞান নিয়ে আবার গানবাজনা করেন আপনারা!”

লাইলির সেই মারফতি কথার অর্থ আজও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।

২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি ফরিদপুর হেরিটেজ প্রথম অনুষ্ঠান করেছিল লাইলিকে প্রধান অতিথি করে। সেটি ছিল তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন। অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, ফারাহ দিবা আহমেদ, শামীম আরা বেগম, মৃধা রেজাউল, অধ্যাপক হিমু, শরীফসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ভিন্ন মাত্রার এক আয়োজন ছিল সেদিন।

প্রায় ১৫ বছর আগে আমরা একবার ‘পাগল সম্মেলন’ করেছিলাম। মূল চরিত্র ছিলেন প্রফেসর আলতাফ হোসেন। সেই অনুষ্ঠানেও লাইলি গান গেয়েছিলেন। তবে সেখানে গোলমাল বেঁধেছিল গান নিয়ে। কেউ চায় না লাইলি একা গান গাইুক—সব ‘পাগল’ একসঙ্গে গাইবে! অথচ লাইলি সুর, তাল, লয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। কিন্তু পাগলরা কি আর গ্রামার মানে?

গত ২ এপ্রিল ২০২৬, ফরিদপুর হেরিটেজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইসমাইল জবিউল্লাহ। তাঁর সঙ্গে কথা ছিল—ফরিদপুরে এলে তাঁকে লাইলির গান শোনাব। শুনিয়েছিলামও। দুই সংসদ সদস্য—চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও শহীদুল ইসলাম বাবুল—দুজনেই বললেন, “আমরা বক্তব্য রাখব না, লাইলির গান শুনব।”

ইসমাইল জবিউল্লাহ সাহেব ডিসি থাকাকালীন সময় থেকেই লাইলিকে চিনতেন। তখন জেলা প্রশাসক ছিলেন মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা। অসাধারণ বিনয়ী ও চৌকস প্রশাসক। তিনি একটু ঘাবড়ে গিয়ে বলেছিলেন— “এমন কিছু করবেন না, যাতে জবিউল্লাহ সাহেব অসন্তুষ্ট হন।”

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৪ মে, উপমহাদেশের রাজনৈতিক সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত এবং নজরুল-স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুরের ময়েজ মঞ্জিলে নজরুল জন্মোৎসবের আয়োজন করা হয়। যথারীতি সাহিত্য পরিষদের একনিষ্ঠ সদস্য শরীফ খান দায়িত্ব নেন লাইলিকে অনুষ্ঠানে আনার। যথাসময়ে লাইলি উপস্থিত হন। আমি মঞ্চের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে দর্শক সারিতে তাঁর পাশে গিয়ে বসি।

সকলের অনুরোধে লাইলি দুটি গান গাইলেন। মুহূর্তেই শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে গেল। কিন্তু মাগরিবের আজান হয়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়। “ওয়ান মোর, ওয়ান মোর”—শব্দগুলো বাতাসে ভাসতে থাকে।

রিকশাভাড়া বাবদ তাঁকে তিনশ টাকা দিলে তিনি একশ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলেন— “অত লাগবে না। যাগো পেটে খিদে, তাগো বেশি দেন।”

এর মধ্যেই টেলিভিশনের এক এ-গ্রেডের ধোপদুরস্ত শিল্পী এক এমপির কাছে নালিশ করেন—“রাস্তার শিল্পীরা গান গায়, আর আমি এ-গ্রেডের শিল্পী হয়েও সুযোগ পাই না!”

‘রাস্তার শিল্পী’ বলতে তিনি লাইলিকেই বুঝিয়েছিলেন।

শিল্পী লাইলিকে নিয়ে পোস্ট দিতে কাউকে কেউ উদ্বুদ্ধ করেনি। তিনি ভাইরাল হয়েছেন নিজের গুণে। তাঁর গাওয়া “নয়ন ভরা জল গো তোমার” গানটি শুনলেই বোঝা যায়।

তবে নজরুল জন্মোৎসব এখানেই শেষ হয়নি।

রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলা বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক ফোন করে জানতে চান—নজরুল জন্মোৎসব ময়েজ মঞ্জিলে কেন? আমি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করি—১৯৩৯ সালে ময়েজ মঞ্জিলের মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী এবং কোমরপুরের হুমায়ুন কবির মিলে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ গঠন করেছিলেন। নজরুলের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই জায়গাটির সঙ্গে।

ওপাশ থেকে উত্তর আসে—“কবে কে কী কইরা থুইয়া গেছে, তার জন্য এখন ময়েজ মঞ্জিলে অনুষ্ঠান মানা যাবে না!”

আমি বলি—“অশিক্ষিত লোকের মতো কথা বলো না।”

তিনি আরও রেগে গিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় বলতে থাকেন—ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ ভেঙে-চুরে গুঁড়িয়ে দেবেন।

আমি যদি তাঁর অতীত না জানতাম, তাঁর জাতগোষ্ঠী না চিনতাম, তাহলে হয়তো চুপ থাকতাম। আমার মাতুলকুলের চার পুরুষ এই শহরের মানুষ। আমরা কি মুর্শিদাবাদ থেকে এসেছি? আমাকে কিছু বলতে হলে বাখুন্ডা পার হয়ে, জোয়ারের মোড় ছাড়িয়ে, মহিলা রোড ডিঙিয়ে তালমার মোড়ে গিয়ে বলতে হবে।

এই শহরে চাঁদাবাজ, ধান্ধাবাজ আমি নই। আশির দশক থেকে ফরিদপুরের যত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তার প্রতিটির শুরুতে আমি জড়িত ছিলাম। কোনো সংগঠন থেকে ১০ টাকারও কোনো ভাউচার দেখাতে পারলে আর সমাজসেবা করব না।

আমি যেহেতু রাজনীতি করি না, কোনো দলের সদস্য নই—তাই সবার কাছেই যাই। প্রতিষ্ঠানের জন্য যাই, ব্যক্তিস্বার্থে নয়। হ্যাঁ, এ কে আজাদের কাছেও গেছি, ভবিষ্যতেও যাব—প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে। তিনি শিশু চিকিৎসাকেন্দ্র ও মুসলিম মিশনে যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন, শহীদুল হাসান সাহেব ছাড়া আর কে দিয়েছেন?

যাই হোক, কথা অন্যদিকে চলে গেল। আসলে মফস্বল শহরে সাহিত্যচর্চা আর সমাজসেবার কাজ করতে কত ব্যথা আর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়, তা আমাদের হাসিমুখ দেখে বোঝা যায় না।

সেদিন ময়েজ মঞ্জিলে লাইলি খালা গান গেয়েছিলেন। সেই লাইলি খালা—যাকে আমি শিল্পকলার সেক্রেটারি থাকাকালে হারমোনিয়ামের সামনে বসিয়েছিলাম। যে আমার কাছে আসত জোর করে দুটি গান শোনানোর জন্য।

সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও, বিশেষ করে লাইলি খালার গান, ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর শত শত ফোন পেয়েছি। ফেসবুক সয়লাব হয়ে গেছে। তাই মনে হলো, লাইলি খালা সম্পর্কে কিছু লিখে রাখা দরকার।

দরদি এই শিল্পী নিজের কথা ভদ্রলোকদের কাছে গুছিয়ে বলতে পারেন না। মানুষ দেখতে ছুটে বেড়ানো এই আজন্ম ভবঘুরে নারী ভদ্রসমাজের সঙ্গেও খুব একটা মিশতে চান না। ভিউ-বাণিজ্য তাঁকে বিরক্ত করে। তিনি অন্য সবার মতো নন। তিনি সত্যিকারের ভবঘুরে। মানুষ দেখা পাগল।

লাইলি খালা বলেন—“এক মানুষের সঙ্গে আরেক মানুষের কোনো মিল নাই। এক জীবনে কি মানুষ দেখা ফুরায়, স্যার?”

এই হলো, আপাতত বর্তমানে ভাইরাল শিল্পী লাইলি খালার বৃত্তান্ত।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, ফরিদপুর।

ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে পানির মটর চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। পরে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘোরানো হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়েজ শিকদার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের হাবি শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সাইপ্রাস প্রবাসী রিপন মোল্লার বাড়িতে থাকা পানির মটর চুরির চেষ্টা করেন ফয়েজ। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে তার মাথা ন্যাড়া করে গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ঘুরানো হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ফয়েজ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। বিশেষ করে গভীর রাতে বাড়িঘরে ঢুকে পানির মটর, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।