খুঁজুন
, ,

১২ বছর পর ফিরল ঐতিহ্য—সালথায় ঘোড়ার দৌড়ে প্রাণ ফিরে পেল গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
১২ বছর পর ফিরল ঐতিহ্য—সালথায় ঘোড়ার দৌড়ে প্রাণ ফিরে পেল গ্রাম

দীর্ঘ ১২ বছর বিরতির পর ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আবারও প্রাণ ফিরে পেল গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা।

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চিতাইলার বিল থেকে নিশাতলা পর্যন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি দেখতে আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূর-দূরান্তের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমান। দুপুর গড়াতেই মাঠজুড়ে মানুষের ঢল নামে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও দলে দলে উপস্থিত হয়ে উপভোগ করেন ব্যতিক্রমী এই আয়োজন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ঘোড়াগুলোর দ্রুতগতি আর জকি’দের কৌশলী নিয়ন্ত্রণ দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করে। প্রতিটি দৌড় শুরুর সঙ্গে সঙ্গে করতালি, উল্লাস আর শিসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। এক পর্যায়ে পুরো এলাকা যেন মেতে ওঠে গ্রামীণ উৎসবের এক অনন্য আবহে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এই অঞ্চলে ঘোড়া দৌড় ছিল নিয়মিত বিনোদনের মাধ্যম এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু নানা কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও এই আয়োজন ফিরে আসায় তারা দারুণ আনন্দিত। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বাবু মাস্টার, যুবদল নেতা মো. জসিম মোল্লা, সমাজসেবক মো. নুরুল ইসলাম মাতুব্বরসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এবং নিয়মিতভাবে এই ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনার কথাও জানান তারা।

দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর এমন জমজমাট আয়োজন এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বৈঠার ছন্দে মুখর আষাঢ়ের বিল, সালথায় জমজমাট নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
বৈঠার ছন্দে মুখর আষাঢ়ের বিল, সালথায় জমজমাট নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা

নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগান আর হাজারো দর্শকের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠেছিল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল। আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সেখানে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে বসে গ্রামীণ মেলা। উৎসবমুখর পরিবেশে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় আনন্দের মিলনমেলায়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে খোয়াড় গ্রামবাসী।

বিকেল গড়াতেই বিলের দুই পাড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা ছুটে আসেন প্রিয় এই গ্রামীণ খেলা উপভোগ করতে। প্রতিযোগিতা শুরু হলে মাঝিদের বৈঠার তালে তালে এগিয়ে চলা নৌকা আর তাদের উদ্দীপনাময় স্লোগানে দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় বাড়তি উত্তেজনা। প্রতিটি নৌকার এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আষাঢ়ের বিল।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলাও ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। মেলায় বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ পণ্য, মুখরোচক খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটে। শিশুদের জন্য ছিল নানা বিনোদনের আয়োজন। ফলে নৌকা বাইচের পাশাপাশি গ্রামীণ মেলাতেও ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন সময়ে নৌকা বাইচের মতো আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মও এ আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার পুরোনো সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, জেলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহিদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, মো. শাহিনুর রহমান শাহিন ও কামরুল ইসলাম।

এ ছাড়া স্থানীয় আটঘর ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মুরাদুর রহমান, উপজেলা যুবদল নেতা সাফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খান, মো. জসিম মোল্যা, স্থানীয় সামাদ মাতুব্বর, আনিচুর রহমান মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নৌকার বৈঠার ছন্দ আর মাঝিদের কণ্ঠের উদ্দীপনাময় স্লোগানে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় আবহমান গ্রামবাংলার চিরচেনা সেই নৌকা বাইচের ঐতিহ্য।

ফরিদপুরে ৮৮৮টি প্রাথমিকে শূন্য ৫১৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ, ভেঙে পড়ছে পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৮৮৮টি প্রাথমিকে শূন্য ৫১৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ, ভেঙে পড়ছে পাঠদান

ফরিদপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র আকার ধারণ করেছে প্রধান শিক্ষক সংকট। জেলার মোট ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানই চলছে অভিভাবকহীন অবস্থায়। অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের ওপর ভর করে জোড়াতালি দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। এতে একদিকের যেমন প্রশাসনিক গতি স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে শ্রেণি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ফরিদপুরে ৮৮৮টি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদও ৮৮৮টি। তবে এর মধ্যে বর্তমানে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন মাত্র ৩৭৩ জন। অর্থাৎ ৫৮ শতাংশেরই বেশি বিদ্যালয়ে পদ শূন্য রয়েছে।

​উপজেলাভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সদরপুর ও আলফাডাঙ্গায়।

জেলাটির ​সদরপুর উপজেলার ১৩০টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৪৩ জন, শূন্য পদ ৮৭টি।আলফাডাঙ্গায় ৭৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৯ জন, শূন্য পদ ৫৪টি। ​নগরকান্দায় ৮৪টি বিদ্যালয়ে কর্মরত ৩০ জন, শূন্য পদ ৫৪টি। ​সালথা উপজেলায় ৭৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৪ জন, শূন্য পদ ৫২টি। ​বোয়ালমারীতে ১০২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪৬ জন, শূন্য পদ ৫৬টি। ​ভাঙ্গায় ১২০টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪৯ জন, শূন্য পদ ৭১টি। ​মধুখালীতে ৯৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪৫ জন, শূন্য পদ ৫১টি। ​ফরিদপুর সদর উপজেলার ১৫৩টি বিদ্যালয়ে কর্মরত ৮০ জন, শূন্য পদ ৭৩টি ও ​চরভদ্রাসন উপজেলায় ৫৪টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩৭ জন, শূন্য পদ ১৭টি।

​সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এসব শিক্ষকদের মূল পাঠদান বাদ দিয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত, প্রশাসনিক তদারকি, নানা সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক মিটিংয়ে অংশ নিতে হচ্ছে। একজন শিক্ষক যখন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকছেন, তখন অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বাড়তি চাপ পড়ছে। ফলে নিয়মিত শ্রেণির পরীক্ষা ও পাঠদান ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।

​স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রধান শিক্ষক। বছরের পর বছর এই পদ শূন্য থাকলে সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম তৌফিকুর রহমান বলেন, “জেলার ৫১৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। সমস্যাটি সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত তথ্য ও তালিকা পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”

ফরিদপুরে ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কিশোর নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রেনের ছাদে দৌড়াদৌড়ির সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কিশোর নিহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে উঠে দৌড়াদৌড়ি করার সময় গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহিদুল (১২) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এতে সাজেদুল শেখ নামে অপর এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত জাহিদুল বোয়ালমারীর ময়না ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের মিল্টন শেখের ছেলে। আহত সাজেদুল একই গ্রামের কাইয়ুম শেখের ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটিয়াপাড়া থেকে রাজবাড়ীগামী ‘ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ছাদে উঠে জাহিদুল ও সাজেদুল দৌড়াদৌড়ি করছিল। ট্রেনটি চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে রেললাইনের পাশের একটি কাঁঠালগাছের ঝুলন্ত ডালের সঙ্গে দু’জনের সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তারা ট্রেনের ছাদ থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। জাহিদুল ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। স্থানীয়রা আহত সাজেদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

​বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তমাল কৃষ্ণ রায় জানান, সাজেদুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

​দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেহেতু দুর্ঘটনাটি রেলপথে ঘটেছে, তাই এটি রেলওয়ে পুলিশের এখতিয়ারাধীন। রাজবাড়ী রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

​রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।