খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে আহ্বান, সালথায় যৌথবাহিনীর মহড়া

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে আহ্বান, সালথায় যৌথবাহিনীর মহড়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার সালথা বাজার থেকে যৌথবাহিনী মহড়া শুরু করে রামকান্তপুর ও আটঘর ইউনিয়নের প্রতিটি বাজার ও কেন্দ্র ঘুরে দেখেন তারা।

উক্ত দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে যৌথবাহিনী পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণকে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরেণ। এ সময় বাজারগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথবাহিনীর পেট্রোল টিমগুলো অবস্থান নেয়। যৌথবাহিনীর এই মহড়া ও টহল সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করেছে।

মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার, সালথা সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন নিমান মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান, নগরকান্দা বিজিবি ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।

মহড়া চলাকালী সময় সালথা সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন নিমান মোহাম্মদ ইমতিয়াজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলার বিভিন্ন প্রস্তুতির তথ্য স্থানীয়দের মাঝে তুলে ধরে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, এ জন্য সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে তাদের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখবে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেউ যদি ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাদের প্রতি আমাদের অবস্থান হবে অত্যন্ত কঠোর।

সালথা আর্মি ক্যাম্পের সেনা কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করছে। তারই ধারাবাহিকতায় সালথা উপজেলার জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনী আচরণমালা লংঘন করা হলে প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই উপজেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সেনাবাহিনীর টহল দল নিয়মিত বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র সহ প্রতিটি ইউনিয়ন বিশেষ টহল পরিচালনা করছে। জনসাধারণ যেনো কোন ধরনের গুজব বা অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতি গুরুত্ব না দেয় তার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি চলমান আছে। নির্বাচনি আচরণ বিধি প্রতিপালনসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক যে সব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কাজ চলমান আছে, সেগুলো অব্যাহত থাকবে। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদের প্রত্যাশা সকলের সহায়তায় একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন করতে পারব।

মহড়ায় উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক শত সদস্য এতে অংশ নেন।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।