খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬ চৈত্র, ১৪৩২

সালথায় বিভাগদী ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের ঈদবস্ত্র বিতরণ

সাইফুল ইসলাম, সালথা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৯ এএম
সালথায় বিভাগদী ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের ঈদবস্ত্র বিতরণ

ফরিদপুরের সালথায় অসহায়, ছিন্নমূলদের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার লক্ষ্যে অসহায় ও ছিন্নমূল মানু‌ষের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বিভাগদী মরহুম জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধার বাড়িতে এই বস্ত্র বিতরণ করে উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিভাগদী ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন।

সংগঠনের প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চলনায় এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মোহাম্মাদ নূরুল হুদা।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক তাসফিয়া তাছরীণ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- আটঘর ইউনিয়ন পরিষদ সা‌বেক সদস্য মো. আমির হোসেন মৃধা, বিভাগদী ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা মান্নান তালুকদার, জাহিদ হোসেন মৃধা, সহ-সভাপতি শাহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আবু রাসেল, কার্যনিবার্হী সদস্য কোবাদ মৃধা, সিহাব মৃধা, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মাদ নূরুল হুদা বলেন, আমরা কোনো দান বা যাকাত বিতরণ করছি না। আমরা সবার সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য আমাদের এলাকার কিছু লোকজন মিলে কিছু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে বিভাগদী গ্রামের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি সমগ্র সালথা উপজেলার উন্নয়নে কাজ করে যাবে।

‘গাঁয়ের পথের বাঁকে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
‘গাঁয়ের পথের বাঁকে’

গাঁয়ের পথের বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকে বিকেল,
ধানক্ষেতে হাওয়ার সুরে বাজে নীরব বীণার খেল।
কাঁচা রাস্তা মাটির গন্ধে ভরে ওঠে মন,
দূর আকাশে মেঘের ভেলায় স্বপ্ন দেখে ক্ষণ।

গরুর গাড়ি ধীরে চলে, টুংটাং ঘণ্টা বাজে,
শিশুরা দৌড়ে হাসে খেলে কাদামাটির মাঝে।
পুকুর পাড়ে তালগাছ নীরব গল্প কয়,
জোনাকির আলোয় রাতে গাঁ যেন জেগে রয়।

বউ কথা কও পাখির ডাক ভোরের আকাশ ছুঁয়ে,
সূর্য উঠে সোনার হাসি ছড়িয়ে দেয় বুকে।
কৃষকের ঘামে ভেজা মাটি ফসল আনে ঘরে,
কষ্টগুলো হাসি হয়ে ধরা দেয় তার পরে।

নদীর জলে নৌকা ভাসে, বাঁশির সুরে ভোর,
জীবনের গান গেয়ে চলে জেলে দিনের পর দিন ঘোর।
মাঠের ধারে কিশোরীরা ফুল তোলে নীরবে,
হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ে বাতাসেরই তীরে।

দুপুর বেলায় খেজুর ছায়ায় ক্লান্ত শরীর ঢাকে,
গল্প জুড়ে দেয় সময়কে গাঁয়ের মানুষ ডাকে।
চুলোর ধোঁয়া উঠতে থাকে সন্ধ্যার আভায় মিশে,
মায়ের ডাকে শিশুরা ফেরে খেলার শেষে হেসে।

গ্রামের মেলা, বাঁশির তান, নাগরদোলার ঘূর্ণি,
স্মৃতির খাতায় রঙিন ছবি আঁকে অগণিত বর্ণি।
আকাশভরা তারা দেখে স্বপ্ন বোনে প্রাণ,
গাঁয়ের সরল জীবনে মেলে সুখেরই সন্ধান।

ঝড় এলে সবাই মিলে ধরে হাতের হাত,
দুঃখ ভোলে, ভালোবাসায় কাটায় জীবনের রাত।
ভোরের শিশির পায়ে মেখে দিন শুরু হয় আবার,
গাঁয়ের পথে বাঁকে বাঁকে লেখা জীবনের ভার।

সেই পথ ধরে হাঁটলে মনে শান্তির ঢেউ লাগে,
নগর জীবনের কোলাহল দূরে সরে ভাগে।
গাঁয়ের মানুষ, গাঁয়ের গান, গাঁয়ের সেই টান,
প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে আছে জীবনের আসল মান।

 

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

সালথায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি—জাগরণ যুব সংঘের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
সালথায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি—জাগরণ যুব সংঘের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগরণ সমাজকল্যাণ যুব সংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া, বড়দিয়া, বড় লক্ষনদিয়া (আংশিক) ও ভাটপাড়া (আংশিক) এলাকার ৬৩টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে কাঁঠালবাড়িয়া ও বড়দিয়া এলাকায় আয়োজিত এই মানবিক কর্মসূচিতে দেখা যায় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। নতুন কাপড় ও খাদ্যসামগ্রী পেয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কারও চোখে আনন্দের অশ্রু, আবার কেউ সামান্য সহায়তায় ফিরে পেয়েছেন ঈদের প্রকৃত আনন্দ।

উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি ও নতুন পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্য। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু সহায়তা প্রদান নয়—বরং সমাজে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি প্রয়াস।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকল সদস্য শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও—দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা, দোয়া ও ভালোবাসাই এই আয়োজনকে সফল করেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ আতিয়ার হোসেন মাস্টার, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মুরাদ হোসাইন (আয়কর আইনজীবী, ঢাকা ট্যাক্স বার এসোসিয়েশন), সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজ শেখ (বাংলাদেশ পুলিশ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল মাতুব্বার (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী), দপ্তর সম্পাদক মোঃ সোহান মিয়া (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) এবং অর্থ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান (উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস, নগরকান্দা)।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা হয়তো সবসময় সবার পাশে থাকতে পারি না, কিন্তু ছোট ছোট এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আপনাদের সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

যারা অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে এই মহৎ উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন—তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সকলের কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতেও মানবতার সেবায় এ ধারা অব্যাহত রাখা যায়।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১২ গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১২ গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ১২টি গ্রামে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় বোয়ালমারী উপজেলার মাইটকুমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় মাইটকুমড়া জামে মসজিদ মাঠে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় সহস্রাইল বাজারে এবং সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার রাখালতলী বাজারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। বাড়িতে বাড়িতে ঈদের দিনের বিশেষ খাবার তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রামের মির্জারখীল দরবার শরিফের মাওলানা শামসুল আরেফিনের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন।