রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা, সালথা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদত্যাগ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আজিম সরদার পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে আজিম সরদার নিজ পরিচয় তুলে ধরে জানান, তিনি স্বেচ্ছায়, সুস্থ মস্তিষ্কে এবং কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সালথা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে তার আর কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি সবার কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করেন।
আজিম সরদারের এ ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও হঠাৎ করে তার এমন সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আজিম সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমি আর কখনো জীবনে রাজনীতি করবো না। কোনো রাজনৈতিক দলেই আর যুক্ত হবো না।” তার ভাষায়, এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সময় আজিম সরদার বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। সালথা উপজেলায় ছাত্রলীগের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং দলীয় কার্যক্রমে তাকে নিয়মিত দেখা গেছে। ফলে তার পদত্যাগের বিষয়টি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে একের পর এক পদত্যাগ ও নিষ্ক্রিয়তার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজিম সরদারের পদত্যাগ সেই ধারারই একটি অংশ হতে পারে। তবে তিনি নিজে জানিয়েছেন, এটি কোনো দলীয় দ্বন্দ্ব বা চাপের কারণে নয়, বরং তার ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, সালথা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আজিম সরদারের পদত্যাগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, তার এই সিদ্ধান্ত ছাত্ররাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

আপনার মতামত লিখুন
Array