খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

দলমত নয়, ১৭ কোটি মানুষের সেবায় কাজ করবে বিএনপি সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
দলমত নয়, ১৭ কোটি মানুষের সেবায় কাজ করবে বিএনপি সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ‘বিএনপি দেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি সরকার। আমাদের কে ভোট দিছে আর কে দেয় নাই, সেই হিসেব আমরা করি না। কে কোন দল করে তাও আমরা দেখবো না। বিএনপি সরকার ১৭ কোটি মানুষের। দলমত নির্বিশেষে আমরা সকলের জন্যই কাজ ও সেবা করতে চাই।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সেনহাটি খাল পনঃখনন কর্মসুচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের আমলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি। খাল ও নদী-নালা খননের মতো কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। যেকারণে আমাদের দেশের নদী-নালা ও খালগুলো শুকিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করেছেন। খালগুলো আমরা ধীরে ধীরে খনন করবো। এটা কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

শামা ওবায়েদ বলেন, খাল খনন কর্মসূচি অত্র অঞ্চলের উন্নয়নের সূতিকাগার হয়ে থাকবে। শুধু খাল খনন নয়, পর্যায়ক্রমে রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ যা যা প্রয়োজন অবকাঠামো সকল প্রকার উন্নয়ন বিএনপি সরকারের হাত ধরেই হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানায় যে মামলা গুলো হচ্ছে, সেগুলো নিজেদের মধ্যে মারামারির মামলা। এখন আর কোনো রাজনৈতিক মামলা হচ্ছে না। সবারই নিজ নিজ দল করার অধিকার রয়েছে। প্রতিহিংসাবসত কারো বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা এই মাটিতে হবে না।

সালথায় চলমান সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে। কিন্তু আপনারা যদি গ্রুপের বশবর্তী হয়ে পুলিশের উপর বা তাদের গাড়িতে হামলা করেন, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে এটা আমি একেবারেই ভালোভাবে নিব না। আমি কঠোর অবস্থানে আছি, আপনারা পুলিশ প্রশাসনও  কঠোর অবস্থানে থাকবেন।

তিনি বলেন, যারা সহিংসতায় জড়াচ্ছে তারা বিএনপির হোক বা আমার কাছের লোক হোক, সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয়। কেউ সহিংসতায় জড়ালে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সে যে দলের হোক। সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, এনায়েত হোসেন, হাসান আশরাফ, মাহফুজুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান প্রমূখ।

আল্লাহর কাছে প্রিয় ১০ আমল

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
আল্লাহর কাছে প্রিয় ১০ আমল

মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাই একজন মুমিনের প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কাজই হওয়া উচিত সেই মহান সন্তুষ্টির সন্ধানে নিবেদিত।

কিন্তু কোন কোন কাজ আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়-এ প্রশ্নটি যুগে যুগে প্রত্যেক ঈমানদারের হৃদয়ে অনুরণিত হয়েছে। যার মাধ্যমে একজন বান্দা সহজ, সুন্দর ও শুদ্ধভাবে তার রবের নৈকট্য অর্জন করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার আলোক পথে অগ্রসর হতে পারে।

১. নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা
নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও উত্তম আমল। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি জবাব দিলেন-নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা।

আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তারপর মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় আচরণ করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তারপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৯৫)

২. পিতামাতার প্রতি সদয় হওয়া
আল্লাহ তাআলা মাতা-পিতার প্রতি সদয়তার নির্দেশকে তাঁর একত্ববাদের (তাওহিদ) পরপরই উল্লেখ করেছেন। তিনি মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতাকে নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। আল্লাহ বলেন : ‘আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না; আর মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় হও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)
তিনি আরও বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁর বাইরে কারো ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদয় থাকবে।

তাদের একজন বা উভয়েই যদি বার্ধক্যে তোমার কাছে পৌঁছে যায়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বোলো না, তাদের ধমক দিয়ো না, বরং তাদের সঙ্গে সম্মান ও কোমলভাবে কথা বোলো।’
(সুরা : ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

৩. সৎকর্মে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
ছোট আমল হলেও যদি তা নিয়মিতভাবে করা হয়, তবে তার মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেই আমল, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।’
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৮৩)
তাই একজন মুসলমানের জন্য সৎকর্মে স্থির থাকা এবং তা নিয়মিতভাবে করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. কোরআন তিলাওয়াত করা
কোরআন তিলাওয়াত করা, মুখস্থ করা, গভীরভাবে এর অর্থ ও মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করা-এসবের মাধ্যমে একজন মুসলিম দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে।

আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মানুষদের মধ্যে কিছু বিশেষ মানুষ আছে, যারা আল্লাহর নিকটবর্তী।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা?’ তিনি বলেন, ‘তারা হলো কোরআনের লোকেরা-আল্লাহর লোক এবং আল্লাহর বিশেষ মনোনীত বান্দা।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৯)

৫. রাস্তা থেকে ক্ষতিকারক জিনিস অপসারণ করা
সমাজ ও মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ করা ইসলামে অত্যন্ত মহৎ আমল। তার মধ্যে অন্যতম হলো রাস্তা থেকে ক্ষতিকারক বা বিরক্তিকর জিনিস দূর করা। এটি জান্নাতে প্রবেশের কারণ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে আনন্দ করতে দেখলাম, কারণ সে রাস্তা থেকে একটি কাঁটাযুক্ত ডাল বা গাছ অপসারণ করেছিল, যা মানুষের ক্ষতি করছিল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৪)

৬. আল্লাহর পথে দাওয়াত
আল্লাহর দিকে মানুষকে আহবান করা, ইসলামের বার্তা প্রচার করা এবং ছড়িয়ে দেওয়া-আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানজনক ও প্রিয় আমলগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর কথায় তার চেয়ে উত্তম কে হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকর্ম করে এবং ঘোষণা করে ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩৩)

৭. বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেওয়া
যে ব্যক্তি আর্থিক কষ্টে আছে, যে ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম, তার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা ইসলামে অত্যন্ত মহৎ গুণ। নবী করিম (সা.) বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন আবি কাতাদাহ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি-‘যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনের বিপদ ও কষ্ট থেকে রক্ষা করুন, সে যেন কোনো বিপদগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় অথবা তার ঋণ মাফ করে দেয়।’
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৫৫৯)

৮. মানুষের উপকার করা
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন যে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় তারা, যারা মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো কোনো মুসলিমকে আনন্দ দেওয়া, তার কষ্ট দূর করা, তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া অথবা ক্ষুধার সময় তাকে আহার করানো।’
(তবারানি, হাদিস : ৬০২৬)

৯. আল্লাহর স্মরণ (জিকির) করা
আল্লাহর স্মরণ পাপ মোচনের পথ, হৃদয়ের প্রশান্তি, তাকওয়া বৃদ্ধি এবং মর্যাদা উন্নীত করার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা পুরুষ, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং যারা নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে—আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৫)

মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে কোন আমলটি সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বলেন, ‘এভাবে মৃত্যুবরণ করা যে তোমার জিহ্বা আল্লাহর স্মরণে সিক্ত থাকবে।’
(সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৫১৬)

১০. রাতে ইবাদত করা ও নফল রোজা রাখা
রাতের বেলা ইবাদত করা এবং নফল রোজা রাখা—উভয়ই আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে বললেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা; তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং পরদিন রোজা ভাঙতেন। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সালাত হলো দাউদ (আ.)-এর নামাজ; তিনি রাতের অর্ধেক অংশ ঘুমাতেন, এরপর এক-তৃতীয়াংশ সময় তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং শেষ এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৩১)

এ দুটি মহৎ অভ্যাস—রোজা ও রাতের ইবাদত বান্দাকে তার প্রভুর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে।

আলসেমি দূর করবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
আলসেমি দূর করবেন যেভাবে

অলসতা মানবজীবনের নীরব অভিশাপ। এটি ব্যক্তির সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়, থামিয়ে দেয় উন্নতির গতি।

দীর্ঘদিন অলসতায় অভ্যস্ত থাকলে শুধু কাজের প্রতি অনীহাই নয়, ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও। ফলে মানসিক ও শারীরিক, উভয় দিক থেকেই ব্যক্তি চলে যায় অবক্ষয়ের পথে।

তবে চাইলে কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে অলসতাকে জয় করে গড়ে তোলা যায় কর্মচঞ্চল ও ইতিবাচক জীবন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অলসতা দূর করতে প্রথমেই প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম।

প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুম শরীর ও মনকে রাখে সতেজ। ঘুম থেকে উঠে মুখে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাস শরীরে এনে দেয় তাৎক্ষণিক সজীবতা।

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম অলসতা দূর করার অন্যতম কার্যকর উপায়। প্রতিদিন ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা হাঁটা, দৌড় বা হালকা ব্যায়াম শরীরকে চাঙ্গা রাখে এবং কাজে মনোযোগ বাড়ায়। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসও হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল ও আঁশজাতীয় খাবার বেশি খেলে শরীর থাকে হালকা ও কর্মক্ষম। এ ক্ষেত্রে তৈলাক্ত ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

নিজের বাড়ি ও কর্মক্ষেত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা মানসিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজের আগ্রহ বাড়ে এবং কর্মোদ্যম তৈরি হয়। একই সঙ্গে প্রতিদিনের শুরুটা হওয়া উচিত ইতিবাচক মনোভাব দিয়ে। নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে, ‌‌‘আমি পারবো।’

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনুপ্রেরণামূলক গান বা সুর শোনা মনকে রাখে ফুরফুরে। একঘেয়ে পরিবেশ ভাঙতে ঘরের ভেতর সবুজ গাছ, প্রিয় ছবি বা শোপিস সাজানো যেতে পারে। এতে কাজের পরিবেশ হয় প্রাণবন্ত।

অলসতা কাটাতে ইতিবাচক মানুষের সঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ। যারা সব সময় সাহস, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেন, তাদের সান্নিধ্যে থাকলে নিজের মধ্যেও তৈরি হয় কাজের শক্তি। পাশাপাশি যেকোনো বিষয় সহজভাবে ভাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সহজ চিন্তা ও সহজ সমাধানই অনেক সময় সাফল্যের পথ দেখায়।

কাজের ক্ষেত্রে কর্মতালিকা প্রণয়ন অত্যন্ত কার্যকর। কোন কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি আগে নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত। সহজ কাজ দিয়ে শুরু করলে ধীরে ধীরে কঠিন কাজেও আগ্রহ তৈরি হয়। বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিলে কাজটি আর কঠিন মনে হয় না।

সময় ব্যবস্থাপনাও অলসতা দূর করার বড় হাতিয়ার। প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে এবং এক কাজের সময় অন্য কাজে মনোযোগ নষ্ট করা যাবে না। অবসর সময়েও এমন কাজে যুক্ত থাকা ভালো, যা অনুপ্রেরণা জোগায়, যেমন বই পড়া, লেখালিখি বা ছবি আঁকা।

সবশেষে বলা যায়, অলসতা কোনো জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়, এটি একটি অভ্যাস। আর অভ্যাস বদলানো সম্ভব। সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত চর্চা ও ইতিবাচক মানসিকতাই পারে অলস জীবনকে বদলে দিতে কর্মমুখর ও সফল জীবনে।

ওজন কমাতে সেরা ৫ খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমাতে সেরা ৫ খাবার

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই লক্ষণীয় বিষয় হলো আপনি ক্যালরি কতটা নিচ্ছেন তা খেয়াল করা। বাড়তি ওজন কমাতে হলে শুধু খাদ্যতালিকা থেকে ফ্যাটজাতীয় খাবার বাদ দেওয়াই মূল কথা নয়।

স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যতালিকা তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যথাযথ ও নিয়ন্ত্রিত ডায়েটের মধ্যে রয়েছে কিনা। একইসঙ্গে দৈনিক কোন কোন খাদ্য উপাদান শরীরে প্রবেশ করছে এবং তা আপনার সঠিক ওজন ধরে রাখতে কতটুকু সহায়তা করছে, তা জানা জরুরি।

বাড়তি ক্যালরি পোড়াতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। আবার যেসব খাবারে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কম, সেগুলো রক্তের শর্করা ও ইনসুলিনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্যকারী এসব উপাদান শরীর থেকে চর্বি দূর করে। একবার দেখে নিন, ওজন কমাতে ও ক্যালরি পোড়াতে কোন কোন খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন:

প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার
পরিপাক প্রক্রিয়া চলাকালে প্রোটিন এক ধরনের তাপ উৎপন্ন করে।

ফলে শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যালরি ভেঙে যায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ, কম ফ্যাট-উচ্চ ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ মটরশুটি এবং প্রয়োজনীয় চর্বি ও ফাইবারসমৃদ্ধ বাদামে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। এগুলো শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট অপসারণ করে ওজন কমাতে সাহায্য করে। অনেকের অজানা তথ্য হলো—ডিমও ক্যালরি পোড়াতে সহায়ক।

শস্যদানা
প্রতিদিনের খাবারে শস্যদানা রাখা প্রয়োজন। ভিটামিন বি, ই, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবারসমৃদ্ধ শস্যদানা চর্বি কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখে। শস্যদানা হিসেবে ওটমিল, জোয়ার, বাজরা, রাগি ইত্যাদি উপকারী। ওটমিলে রয়েছে বিটা গ্লুকেন, যা চর্বি শুষে নেয়। ধীরে হজম হওয়ায় দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগে না।

আপেল
আপেলে রয়েছে পেকটিন নামক এক ধরনের জেলজাতীয় উপাদান। পানি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ ফাইবারের সংমিশ্রণে এটি দীর্ঘসময় ক্ষুধা নিবারণে সহায়ক।

দারুচিনি
দারুচিনি চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। এটি রক্তের শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। সকালে চায়ের কাপে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া অথবা হালকা গরম জলে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া ও মধু মিশিয়ে খাওয়া উপকারী।

সবুজ পাতাযুক্ত শাক-সবজি
উচ্চ ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সবুজ শাক-সবজি ক্যালরি কমায়। এসব শাক-সবজির জুস শরীরকে শুদ্ধ করে (বডি ক্লিনজিং) এবং বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে চর্বি কমায়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট