খুঁজুন
, ,

যে বটগাছ জানে আমার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
যে বটগাছ জানে আমার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর কথা

গ্রামের বটের ছায়ায় বসে থাকা হারানো শৈশব
বিকেলের আলোটা আজও ঠিক আগের মতোই নরম হয়ে আসে। হালকা সোনালি রোদ ধানের ক্ষেতে পড়ে যেন একরাশ স্মৃতি ঝলমল করে ওঠে।

গ্রামের সেই পুরোনো বটগাছটা—যার শেকড়গুলো মাটিতে নেমে এসে যেন আরেকটা পৃথিবী তৈরি করেছে—আজও দাঁড়িয়ে আছে ঠিক আগের মতোই। শুধু বদলে গেছে সময়, বদলে গেছে মানুষ, আর হারিয়ে গেছে এক টুকরো শৈশব।

রফিক আজ অনেক বছর পর গ্রামে ফিরেছে। শহরের ব্যস্ততা, চাকরি, সংসার—সব মিলিয়ে সে যেন ভুলেই গিয়েছিল এই মাটির গন্ধ। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই মনে হলো, একবার ফিরে দেখা দরকার। সেই জায়গাগুলোকে, যেগুলো তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলোকে আগলে রেখেছিল।

বটগাছটার নিচে এসে দাঁড়াতেই বুকের ভেতর কেমন একটা হাহাকার উঠে গেল। কতদিন, কত বছর পরে সে এখানে এসেছে! অথচ জায়গাটা যেন ঠিক আগের মতোই আছে—শুধু নেই সেই মানুষগুলো, নেই সেই হাসির শব্দ।

ছোটবেলায় এই বটগাছটার নিচেই ছিল তাদের আস্তানা। বিকেল হলেই সে, বাবু, করিম, লিপি—সবাই একসাথে জড়ো হতো এখানে। কখনও গোল্লাছুট, কখনও কাবাডি, আবার কখনও শুধু গল্প আর হাসাহাসি। সময় যেন তখন থেমে থাকতো তাদের জন্য।

রফিক ধীরে ধীরে গাছটার একপাশে বসে পড়ল। হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখল গাছের খসখসে গা। মনে হলো, গাছটা যেন তাকে চিনে ফেলেছে। যেন বলছে—“এতদিন কোথায় ছিলি?”

হঠাৎ করেই তার মনে পড়ল এক বিকেলের কথা।
সেদিন আকাশে মেঘ ছিল, হালকা বাতাস বইছিল। তারা সবাই মিলে লুকোচুরি খেলছিল। রফিক লুকিয়ে ছিল বটগাছের পেছনে। তখন লিপি এসে বলেছিল— “এই, তুই এখানে! আমি তোকে খুঁজেই পাচ্ছিলাম না।”

রফিক তখন মুচকি হেসে বলেছিল— “তুই খুঁজে পাবি না, আমি খুব ভালো লুকাই।”
লিপি হেসে বলেছিল— “বড় হয়ে তুই নিশ্চয়ই গুপ্তচর হবি!”

সেই হাসির শব্দটা আজও যেন বাতাসে ভাসে। কিন্তু লিপি এখন কোথায়? কেমন আছে? হয়তো সংসার নিয়ে ব্যস্ত, হয়তো এই গ্রাম ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে।

রফিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
শৈশবের বন্ধুরা একে একে হারিয়ে গেছে জীবনের স্রোতে। কেউ শহরে, কেউ বিদেশে, কেউ বা এই পৃথিবী ছেড়েই চলে গেছে। শুধু এই বটগাছটা রয়ে গেছে, সব স্মৃতি আগলে রেখে।
তার চোখের কোণে জল এসে গেল। সে চুপচাপ বসে রইল।

হঠাৎ দূর থেকে একটা বাচ্চার হাসির শব্দ ভেসে এলো। সে তাকিয়ে দেখল—কয়েকটা ছোট ছেলে-মেয়ে খেলছে ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে একসময় তারা খেলত।

একটা ছোট ছেলে দৌড়ে এসে গাছটার পাশে দাঁড়াল, ঠিক যেভাবে রফিক দাঁড়াত ছোটবেলায়। ছেলেটা হাসতে হাসতে বলল— “ধরতে পারবি না!”
এই দৃশ্যটা দেখে রফিকের বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠল। সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, কিন্তু শৈশব—সে তো একই থাকে, শুধু মানুষ বদলে যায়।
সে উঠে দাঁড়াল। ধীরে ধীরে ছেলেগুলোর দিকে এগিয়ে গেল।

“তোমরা কী খেলছো?”—সে জিজ্ঞেস করল।
একটা মেয়ে উত্তর দিল— “লুকোচুরি!”
রফিক হেসে বলল— “আমরাও এই গাছটার নিচে এই খেলাটাই খেলতাম।”

ছেলেমেয়েগুলো অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। যেন তারা বুঝতে পারছে না—এই মানুষটা কীভাবে তাদের মতোই একসময় এখানে খেলেছে।
একটা ছেলে বলল— “আপনি এখানে থাকতেন?”
রফিক মাথা নেড়ে বলল— “হ্যাঁ, অনেক দিন আগে।”

ছেলেটা বলল— “তাহলে আপনি আমাদের সাথে খেলবেন?”

প্রশ্নটা শুনে রফিক একটু থমকে গেল। কত বছর হয়ে গেছে সে এমন করে খেলেনি! কিন্তু আজ কেন যেন মনে হলো—আবার একবার ফিরে যাওয়া যাক সেই সময়ে।

সে মুচকি হেসে বলল— “খেলব।”
খেলা শুরু হলো। রফিক দৌড়াচ্ছে, লুকাচ্ছে, হাসছে—ঠিক যেমনটা করত ছোটবেলায়। কিছুক্ষণ জন্য সে ভুলেই গেল যে সে এখন বড় হয়ে গেছে, তার দায়িত্ব আছে, তার বাস্তবতা আছে।
সেই মুহূর্তে সে শুধু একজন শিশু—একজন হারানো শৈশব ফিরে পাওয়া মানুষ।

খেলা শেষ হওয়ার পর সে হাঁপাতে হাঁপাতে বটগাছটার নিচে বসে পড়ল। ছেলেমেয়েগুলোও তার পাশে এসে বসলো।
একটা মেয়ে জিজ্ঞেস করল— “আপনি আবার আসবেন?”

রফিক একটু চুপ করে থেকে বলল— “হ্যাঁ, আসব।”
কিন্তু সে জানে—জীবনের ব্যস্ততা তাকে আবার টেনে নিয়ে যাবে। হয়তো আবার অনেক বছর কেটে যাবে।

তবুও সে একটা প্রতিজ্ঞা করল—এই জায়গাটা, এই বটগাছটা, এই স্মৃতিগুলো—সে আর ভুলে যাবে না।
সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ছে। আকাশ লাল হয়ে উঠেছে। পাখিরা বাসায় ফিরছে।
রফিক উঠে দাঁড়াল। একবার শেষবারের মতো গাছটার দিকে তাকাল।

তার মনে হলো—এই গাছটা শুধু একটা গাছ নয়। এটা তার শৈশব, তার স্মৃতি, তার হারানো সময়।
সে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল। পেছনে পড়ে রইল বটগাছটা—কিন্তু তার ভেতরে থেকে গেল এক টুকরো শৈশব।

হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হলো—শৈশব কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। সেটা কোথাও না কোথাও থেকে যায়—একটা গাছের ছায়ায়, একটা বিকেলের রোদে, বা কোনো পুরোনো হাসির শব্দে।
আর যখনই মানুষ একটু থেমে ফিরে তাকায়—সেই শৈশব আবার ফিরে আসে, খুব নীরবে, খুব গভীরভাবে।

রফিকের চোখে তখন আর জল নেই। আছে একরাশ শান্তি।
কারণ সে জানে—তার হারানো শৈশব পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
সে এখনো বসে আছে—গ্রামের বটের ছায়ায়। 🌿

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফরিদপুরে মাদ্রাসার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে মাদ্রাসার আবাসিক ১১ বছর বয়সী এক শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মো. সাহেদ আলী (৭৭) নামে এক বৃদ্ধকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী ওই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ জুন রাত ১টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীদের কক্ষে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাহেদ আলী। তিনি ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও এক শিক্ষকের বাবা। এ সময় শিশুটির চিৎকারে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

​ঘটনার কয়েক দিন পর শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানালে, ৭ জুলাই শিশুটির মা বাদী হয়ে সাহেদ আলীকে একমাত্র আসামি করে মধুখালী থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দীন ফকির।

​আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শিশুটির সঙ্গে আসামি যে অপরাধ করেছেন, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—এ রায়ে সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে।”

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি আচ্চু, সম্পাদক তামিম

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি আচ্চু, সম্পাদক তামিম

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তামিম আহমেদ মিলন নির্বাচিত হয়েছেন।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান।

​ঘোষিত ফলাফলে জানা যায়, ২১ জন ভোটারের মধ্যে ১৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সভাপতি পদে সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু ৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সেকেন্দার শেখ পেয়েছেন ৮ ভোট (১৮টি ভোটের মধ্যে ১৭টি বৈধ)।

​সহ-সভাপতি পদে ১টি ভোটে তাজমিনউর রহমান তুহিন নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান দুলাল পেয়েছেন ৭ ভোট।

​সাধারণ সম্পাদক পদে তামিম আহমেদ মিলন ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম আজম মনি পেয়েছেন ৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ তিনটি পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তামিম আহমেদ মিলন। বাকি পদগুলোতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

​নির্বাচন শেষে আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি এনায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করেন।

​নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক তামিম আহমেদ মিলন প্রেসক্লাবের উন্নয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

​প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান জানান, সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

ফরিদপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে জাইকার অর্থায়নে নির্মিতব্য একটি এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ড) সড়কের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সামান্য কিছু অংশ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে প্রায় অর্ধেক টাকা। দীর্ঘসূত্রতায় চরম ভোগান্তিতে পড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

​দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় ‘এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়নের নন্দলালপুর ঘাট থেকে ওয়াহেদ মোল্যার কান্দি (কালা মিয়া শিকদারের দোকান) পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার (৪,৭১২ মিটার) দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

​উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্ধারিত মেয়াদের দীর্ঘ সময় পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৭০০ মিটার কাজ সম্পন্ন করেছে। অথচ এরই মধ্যে তারা তুলে নিয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বাকি কাজ ফেলে রাখায় থমকে আছে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি।

​পদ্মাবেষ্টিত এই ইউনিয়নটি যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে এমনিতেই পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের আশা ছিল, সড়কটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সেই আশা ম্লান হয়ে গেছে।

​বিশ্বনাথপুর আকন গ্রামের বাসিন্দা আমিন শেখ বলেন, ‘সড়কটির কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অনেক আশাবাদী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, আমাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অবসান হবে। কিন্তু সাড়ে চার বছর পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। সামান্য কিছু কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষার সময় আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।’

​দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সড়কটি এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাজটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

​এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. কামরুজ্জামান টিটুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু এহসান মিয়া বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের অগ্রগতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখে বিস্তারিত বলা যাবে।’

​বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বেগম জানান, ‘প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ এবং বাকি কাজের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’