খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১২ চৈত্র, ১৪৩২

‘একমুঠো জোনাকি নীরব বারান্দায়’

হারুন আনসারী রুদ্র
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৮ এএম
‘একমুঠো জোনাকি নীরব বারান্দায়’

আবরার রাহাদের জীবনের প্রতিটি সকাল শুরু হতো একটা চাপা হুং’কার দিয়ে। সেটা তাঁর নিজের ভেতরে নয়, তাঁর পত্রিকার হেডলাইনে। চল্লিশোর্ধ্ব এই জীবনে সে এখন আর সাধারণ কোন রিপোর্টার নয়; বরং সিস্টেমের কাঁ’টা, সমাজের র’ন্ধ্রে র’ন্ধ্রে ঢুকে পড়া অনৈ’তিক’তা, দু’র্নী’তি আর গড’ফা’দারদের প্রতি’পক্ষ সে।

তাঁর তী’ক্ষ্ণ লেখনী শহরের কর্তাবাবু থেকে বড় অফিসার আর প্রভাবশালী ঠিকাদারদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। ​প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও, গোপন ফিসফিসানি আর ঈ’র্ষা তাঁর পিছু ছাড়ে না। সাংবাদিকতার ভেতরের মহলও তাঁকে হিং’সা করে—কেউ কেউ তো সরাসরি শ’ত্রু।

​তবু রাহাদ থামেনা। থামতে পারেনা। তাঁর প্রেরণা আসে সেই ‘মানুষের জিম্মা’ থেকে, যাদের জন্য সে লড়ে যায়। ​তাঁর এই কণ্ট’কা’কীর্ণ পথ বড় পিচ্ছিল। মাঝে মাঝে যখন চারপাশের সব বন্ধুত্বের মুখোশ খসে পড়ে, তখন আরো শক্তি জুগিয়ে এগোতে থাকে।

মাঝেমধ্যে নিজের কাছেই নিজেকে অচেনা লাগে। তখন তাঁর হৃদয় একটু উষ্ণতা খুঁজে ফিরে। যে অনুভব তাঁর এই পথ চলার সব ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে নিমিষেই।

এজন্য মনের প্রশান্তি পেতে রাহাদ তাঁর স্রষ্টার দরবারে নিরবে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে কখনো। গভীর আকুতি নিয়ে প্রার্থনা করে। সবকিছু তাঁর পালনকর্তার কাছে খুলে বলে নিজেকে হালকা করে নেয়। তা নাহলে হয়তো বইপত্রের মধ্যে নিবিষ্ট হয়ে মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টা করে।

​বর্তমানের এই ইন্টারনেট আর ফেসবুকের আমলে পেশাগত কারণেই তাঁকে ফেসবুকের দিকে নজর রাখতে হয়। আর সেখানেই, ফেসবুকে, একদিন তাঁর চোখ আটকে যায় একটি পোস্টে।
মনে হচ্ছিলো- ওই পোস্টের শব্দগুচ্ছের এমন ভারী আর মোলায়েম সৃজন যেনো তাঁরই জবাবের প্রতিধ্বনি ছিল। এমন কিছুই কি খুঁজছিলো সে মনে মনে।

​তাহমিনা জেরান তখন থেকেই তাঁর কাছে যেন নীরবতার আলপনা হয়ে গেছে। যার লেখার সীমা হিমালয়ের মতো উঁচু, কিন্তু সেখানে কি যেন এক নিচু, শান্ত এবং একাকী একটি অবমূর্তির ছায়া। ঠিক ঠাউরে উঠতে পারেনা তাঁকে।

​তাঁর মধ্যে স্থিতিশীলতা থাকলেও এক ধরনের অজানা শূন্যতা রয়েছে। প্রেম আর অপ্রাপ্তির মিশেলের এই বহিঃপ্রকাশ অবশ্য পাঠকের বেশ খ্যাতি পেয়েছে; কিন্তু কি যেন একটা অপূর্ণতা রয়েছে তাতে। তাহমিনা জেরানের এই দুর্বোধ্যতাই তাঁর কাছে ‘দোয়াপড়া দরজার’ মতো হয়ে উঠেছে।

​রাহাদ প্রথমদিনেই তাহমিনার লেখা পড়ে ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলো। শব্দের এমন গভীর আর গম্ভীর বুনন সচরাচর বন্ধুদের কারো মাঝে দেখেনি সে। তবে সংকোচ থেকে সেখানে কোনো মন্তব্য করতে পারেনি সেদিন। এরও পরে একদিন তাহমিনার লেখার নিচে মন্তব্যের ঘরে দু’লাইনের একটি অভিব্যক্তি লিখে দেওয়ার পর প্রথম সেই জড়তা কাটলো।

মনে হলো- এই প্রতুত্তরের অপেক্ষা ছিলো। তাহমিনা সেই মন্তব্য পড়ে ধন্যবাদ জানিয়ে একটা হার্টের রিঅ্যাক্ট দিলো। সেই থেকে তাঁদের মধ্যে এক ধরনের অদেখা যোগাযোগ। রাহাদের বিপদসংকুল একঘেয়ে জীবনে এই প্রাপ্তিটুকু প্রশ্রয় পেয়ে ভাললাগার একটা নিরাপদ বারান্দা হয়ে উঠলো। যেখানে রয়েছে উপমা আর ইঙ্গিতের নীরব চালুনির বর্ণমালা।

​রাহাদ লিখলো: “যে আলোটুকু ছুঁতে বারণ, সেটুকু দেখাই জীবনের শেষ বিলাসিতা।”
​তাহমিনার জবাব এল: “আপনার কাব্য-কুসুমগুলো এমন এক দুর্লভ বাগানে ফোটে, যার চাবি আপনার কাছে থাকলেও দরজায় তালা দেওয়া।”

​রাহাদ বুঝলো, তাহমিনা তাঁর জীবনের এই ঝুঁ’কি ও একাকীত্বকে ইঙ্গিত করছে। ​সে জবাব দিলো: “আমি হলাম সেই পুরোনো সেতুর মতো, তাহমিনা, যার নীচে জলের ধারা বয়ে গেলেও উপরে শুধু দায়িত্বের ভার।”
​তাহমিনা জানতো, রাহাদের এই ভার আসলে তাঁর জীবনের আপসহীন ল’ড়াই। তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

একরাতে, রাহাদ তাঁর পত্রিকার অফিস থেকে বেরিয়ে বাসার পথে হাঁটছিলো। হাতে কেবলই ছাপা হওয়া একটি পত্রিকার কপি, হেঁটে যেতে পথে যখন বাসার কাছের মোড়টি ঘুরতে যাবে রাহাদ, একটি মোটরসাইকেলে চড়ে হেলমেট পরা দুই হা’ম’লাকারী আ’ক’স্মিক তাঁর কাছাকাছি চলে এলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর ঘাড়ের পেছনে স’জো’রে কিছু দিয়ে আ’ঘা’ত করলো। তী’ব্র য’ন্ত্র’ণায় রাহাদের পা টলে উঠলো। সাথে সাথেই আবার দ্বিতীয় আ’ঘা’তে কাবু করার চেষ্টা।

এমনিতেই সারাদিনের ক্লান্তিতে অবসন্ন শরীর। ভারসাম্য রাখতে না পেরে রাহাদ রাস্তার পাশে ড্রেনের উপর পড়ে গেল। এরপর ইচ্ছেমতো চললো বেধ’ড়ক মা’রপি’ট। তাঁর শরীর যেন নি’থ’র হয়ে এলো। আর তাকে এভাবে আ’ঘা’ত করার পর ওরা যেভাবে এসেছিলো, সেভাবেই মোটরসাইকেল চালিয়ে দ্রুতই আবার অন্ধকার পথে অদৃশ্য হয়ে গেলো।

আচমকা এমন আ’ক্র’মণের শিকার রাহাদ বেশ কিছুক্ষণ পড়ে থাকলো রাস্তায়। এর কিছুক্ষণ পর কোনোমতে একটু ধাতস্থ হলো সে। শরীরের শক্তি সঞ্চয় করে নিজেই নিজেকে টেনে তুললো। হাটতে হাটতে বাসার সামনে যেয়ে পকেট থেকে চাবি বের করে দরজা খুললো। তারপর এক গ্লাস পানি খেয়ে সোজা বিছানায় গা এলিয়ে দিলো।

শুয়ে পড়ার সময় ব্য’থা’য় কু’কড়ে উঠলো তাঁর শরীর। আ’ঘা’ত এতটাই তী’ব্র ছিল যে শ্বাস নিতেও তাঁর ক’ষ্ট হচ্ছিল। সে দ্রুত বন্ধু মানুকে ফোন করলো। বিপদের বন্ধু মানু এসে সব জেনে এই মুহুর্তে আগে তাঁকে সুস্থ হয়ে উঠার পরামর্শ দিলো। শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে কাপড় বদলাতে সাহায্য করলো তাঁকে। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা খাবার গরম করে খাওয়ালো। ব্যথার জন্য একটি প্যা’রা’সিটা’মল ওষুধও খাইয়ে বিদায় জানিয়ে চলে গেলো।

এই মুহুর্তে আবার রাহাদ একা হয়ে গেছে। এতো রাতে আর কাউকে ফোন দিয়ে বির’ক্ত করতে ইচ্ছে হলোনা তাঁর। বিছানায় শুয়ে পড়লো কিন্তু শ্বাস নিতে ক’ষ্ট হচ্ছে তাঁর। শরীরে আ’ঘা’তের স্থান জুড়ে ব্যথা করছে। এই একাকী মুহূর্তে, সে যেন এক মমতার আশ্রয় খুঁজতে চাইলো। মোবাইল হাতে নিতেই মনে পড়লো তাহমিনার কথা।
জীবনের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তের স্বীকারোক্তিটুকু আপন মনেই বেরিয়ে এলো তাঁর আঙুলের টোকায়।

রাহাদ তাঁকে ম্যাসেজে লিখলো: “আমার পথে আজ র’ক্তে’র দাগ, তাহমিনা। আজ মনে হচ্ছে, এই যাত্রাপথে ফিরে আসার কোনো রাস্তা আর অবশিষ্ট রইলো না!”
তাহমিনা, গভীর রাতেও কি জেগে ছিলো? রাহাদ জানেনা। ম্যাসেজটি আরো অনেকক্ষণ পরে সিন হলো। রাহাদের জীবন যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা সে জানতো।

তাহমিনা কিছুটা শান্তভাবে আঙুল চালিয়ে লিখলো: “আপনার পথে অনেক আঘাত আসে, তা জানি। এই জীবন কি কখনও আপনাকে থামতে বলে না?” এটুকু কথাতেই সে শব্দের আড়ালে ঢেলে দিলো তাঁর গভীর ভালবাসা ও উদ্বেগ।

রাহাদ হাতের দুর্বল নখে অক্ষর টিপে লিখলো: “থামতে বললেও থামি না। কারণ, যে পথে সত্যের ইশারা আছে, সে পথে থামলেও পথ ফুরায় না। এই পথ তো আমি শুধু ‘মানুষের জিম্মায়’ পেয়েছি।”
সে আরও লিখলো: “আমি শুধু লিখে যাই। মনে হয়— এই ক’ঠিন যাত্রা শেষে কোথাও একটা নিরাপদ ‘বারান্দা’ আছে, যেখানে অপেক্ষমাণ কোন চোখ আমাকে দেখে, যা আমাকে শক্তি জোগায়।”

ম্যাসেজটি পড়ে তাহমিনার চোখ ভরে জল এলো।
সে রাহাদের জবাবে লিখলো: “এই পথে জানি আছে অনেক বাধা। কিন্তু আপনিও আ’পোষ করতে জানেন না। আপনাকে ল’ড়তেই হয় তাই। আমি আপনার বারান্দায় এক মুঠো জোনাকি রেখে গেলাম। কখনও পথ খুব অন্ধ’কার হলে, তা দিয়ে আলো খুঁজে নেবেন।”

রাহাদ তাকে যত্নের রিঅ্যাক্ট দিয়ে সেই বার্তার নীরবতা গ্রহণ করলো।
তাঁর মনে হলো— এই এক মুঠো জোনাকি যেনো একটি অপ্রকাশিত আশ্বাস। যা তাঁর শরীরের আ’ঘা’তের চেয়েও প্রবল হয়ে তাঁকে সাহস জোগায়।
আর তাহমিনা জানলো, রাহাদের এই নীরব বারান্দা হলো এক অব্যক্ত জগত, যা তাঁদের নিজ নিজ জীবনের ‘গোপন চুক্তির’ বাইরে এসে মুক্তভাবে বাঁচতে শেখায়।

[ডিসক্লেইমার: গল্পের এই চরিত্র ও তথ্যগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই। যদি কারো চরিত্র বা ঘটনার সাথে কোনভাবে কোথাও সাদৃশ্য থাকে তবে সেটি হবে কাকতালীয়।]

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, ফরিদপুর

ফরিদপুরে জ্বালানি সংকট: ১০০ টাকার পেট্রোলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে বাইকাররা

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৫ এএম
ফরিদপুরে জ্বালানি সংকট: ১০০ টাকার পেট্রোলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে বাইকাররা

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়েছে ফরিদপুর। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল সংগ্রহের জন্য তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে ফরিদপুর ফিলিং স্টেশন ও প্রগতি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই সকাল থেকে অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমিত সরবরাহের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণে—প্রতি মোটরসাইকেলে মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। এতে করে স্বল্প পরিমাণ জ্বালানি নিতে গিয়েও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

ভুক্তভোগী হৃদয় মুন্সী নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তারপরও নিশ্চিত না পেট্রোল পাব কি না। ১০০ টাকার তেল দিয়ে তো দূরে যাওয়া সম্ভব না।”

করিম শেখ নামের আরেকজন চালক জানান, এই সংকটের কারণে তার দৈনন্দিন কর্মজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। অনেকেই জরুরি কাজে বের হতে পারছেন না, আবার যারা পেশাগতভাবে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল—যেমন ডেলিভারি কর্মী বা রাইড-শেয়ার চালক—তারা পড়েছেন সবচেয়ে বড় বিপাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন, পরিবহন সমস্যা কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জ্বালানি বিতরণে সীমাবদ্ধতা থাকলে এমন সংকট তৈরি হতে পারে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমন আশাই করছেন ভুক্তভোগীরা।

যেসব ফল-সবজি একসঙ্গে রাখলেই বিপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪০ এএম
যেসব ফল-সবজি একসঙ্গে রাখলেই বিপদ

ব্যস্ত জীবনের চাপে প্রতিদিন বাজারে যাওয়ার সময় হয় না অনেকের। তাই একদিনে সপ্তাহের বাজারটা সেরে রাখেন তারা। একসঙ্গে বাজার থেকে প্রচুর পরিমাণে ফল ও সবজি কিনে বেশ কয়েকদিন ফ্রিজে রেখে দেন।

কিন্তু সমস্যা এখানেই। কারণ অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে, কিছু সবজি ও ফল এমন আছে, যা কখনও একসঙ্গে রাখা উচিত নয়। এতে দ্রুত তা নষ্ট হতে পারে। কারণ এসব সবজি বা ফল থেকে নির্গত গ্যাস অন্য সব্জির জন্য ক্ষতিকারক।

চলুন তাহলে জেনে নিই, কোন কোন সবজি ও ফল একসঙ্গে রাখা উচিত নয়

১. আলু-পেঁয়াজ

অনেক পরিবার পেঁয়াজ ও আলু একই ঝুড়িতে রাখেন। তবে, এই কাজ উচিত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরায। তাদের দাবি, পেঁয়াজ থেকে নির্গত গ্যাসের কারণে আলুতে দ্রুত অঙ্কুরোদগম হয়ে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, আলুর আর্দ্রতার কারণে পেঁয়াজ দ্রুত পচে যায়। তাই, এগুলোকে ঠান্ডা, শুষ্ক এবং ভালো ভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় আলাদা ভাবে সংরক্ষণ করাই ভালো।

২. টমেটো ও শসা

টমেটো এবং শসাও একসঙ্গে রাখা উচিত নয়। টমেটো থেকে ইথিলিন গ্যাস নির্গত হয়, যার কারণে শসা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। টমেটো ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখাই সবচেয়ে ভালো। শসার সতেজতা বজায় রাখতে সেগুলোকে কাগজে মুড়ে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। এতে তা দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

৩.আপেল এবং গাজর

আপেল ও গাজর একসঙ্গে রাখা চলবে না। আপেল থেকে নির্গত গ্যাসের কারণে গাজর দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এর স্বাদও বদলে যেতে পারে। দুটোই ফ্রিজে রাখা যায়, তবে আলাদা পাত্রে বা ড্রয়ারে রাখাই সবচেয়ে ভালো।

৪. কলা-পিচ-স্ট্রবেরি এবং ব্লুবেরি

এছাড়াও কলা এবং পিচ একসঙ্গে রাখলে সেগুলো দ্রুত পেকে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, কারণ কলা থেকে প্রচুর পরিমাণে ইথিলিন গ্যাস নির্গত হয়। স্ট্রবেরি এবং ব্লুবেরিও আলাদা ভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ স্ট্রবেরির চাপে ব্লুবেরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, দ্রুত নরম হয়ে যেতে পারে।

সূত্র : এই সময়

কথায় কথায় হেসে লুটোপুটি খান? শরীরে তখন ঠিক কী কী ঘটে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩২ এএম
কথায় কথায় হেসে লুটোপুটি খান? শরীরে তখন ঠিক কী কী ঘটে জানুন

ব্যস্ত শহুরে জীবন, কাজের চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা; সব মিলিয়ে আজকের মানুষের জীবনে হাসি যেন দিন দিন কমে আসছে। অথচ আমাদের আশপাশেই এমন কিছু মানুষ থাকেন, যারা ছোট্ট কোনো কথাতেই হেসে ওঠেন, আড্ডাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন, নিজেরাও থাকেন হালকা মেজাজে।

অনেকেই তাদের দেখে মজা করে বলেন, ‘কথায় কথায় হাসে!’ কিন্তু এই সহজাত অভ্যাসটাই যে শরীর ও মনের জন্য কতটা উপকারী, তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, প্রাণ খুলে হাসা শুধু আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি শরীরের ভেতরে এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপির মতো কাজ করে। হাসির প্রতিটি মুহূর্তে শরীরের ভেতরে শুরু হয় একের পর এক ইতিবাচক পরিবর্তন, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, আপনি যখন হাসেন তখন আপনার শরীরে ঠিক কী কী ঘটে।

১. পেশি শিথিল হয়, ব্যথা কমে

আপনি যখন প্রাণ খুলে হাসেন, তখন শরীরের শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসির সময় শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক নির্গত হয়, যা প্রাকৃতিক ‘পেইনকিলার’ হিসেবে কাজ করে। ফলে দীর্ঘদিনের ব্যথা বা অস্বস্তির ক্ষেত্রে সহ্যশক্তি বেড়ে যায়। যারা বেশি হাসেন, তাঁদের শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাভাবিক ও কম জড়তাপূর্ণ থাকে।

২. হার্টের জন্য উপকারী

কথায় কথায় হাসলে সবচেয়ে বেশি উপকার পায় হৃদপিণ্ড। হাসির ফলে রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, যার কারণে রক্ত চলাচল আরও মসৃণ হয়। এতে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। সহজভাবে বলতে গেলে, হাসি আপনার হার্টের জন্য এক ধরনের অদৃশ্য সুরক্ষা কবচের মতো কাজ করে।

৩. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়

হাসি শুধু ঠোঁটের ব্যায়াম নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্যও অত্যন্ত কার্যকর। হাসলে মস্তিষ্কে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে মানসিক চাপ ও অবসাদ দূরে থাকে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে। যারা নিয়মিত হাসিখুশি থাকেন, তাঁদের মনে রাখার ক্ষমতা এবং কাজে মনোযোগ অন্যদের তুলনায় বেশি, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মেদ ঝরানোর সহজ উপায়

জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে যাদের অনীহা, তাদের জন্য সুখবর হলো, হাসিও হতে পারে শরীরচর্চার একটি বিকল্প। সমীক্ষা বলছে, টানা এক মিনিট প্রাণ খুলে হাসলে যে পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হয়, তা প্রায় দশ মিনিট ব্যায়ামের সমান। পাশাপাশি হাসি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বাড়ায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।

৫. ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে

যারা বেশি হাসেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হয়। লাফিং থেরাপির মাধ্যমে শরীরে অ্যান্টিবডির উৎপাদন বাড়ে, যা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়া যারা অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য হাসি হতে পারে একটি প্রাকৃতিক সমাধান। হাসি মনকে প্রশান্ত করে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করে।

শেষ কথা

কথায় কথায় হাসেন বলে কেউ যদি আপনাকে মজা করে, তাতে মন খারাপ করার কিছু নেই। বরং গর্বের সঙ্গেই বলতে পারেন, এই হাসিই আপনার সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘ জীবনের একটি বড় শক্তি। কারণ, আপনি যখন হাসছেন তখন আসলে আপনি নিজের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার কাজটাই করে যাচ্ছেন।

সূত্র : টিভি নাইন বাংলা