খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে কেন বাদ গেল বাংলাদেশ?

খেলা ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৬ এএম
এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে কেন বাদ গেল বাংলাদেশ?

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য চরম দুঃসংবাদ এলো। ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের পরিবর্তে এখন গ্রুপ ‘সি’-তে খেলবে স্কটল্যান্ড। 

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী (সিইও) সঞ্জোগ গুপ্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড সদস্যদের জানিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের দাবিগুলো আইসিসি-র নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে কপি দিয়ে পাঠানো সেই চিঠিতে জানানো হয়, আইসিসি বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্ত মানতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে টুর্নামেন্টের মর্যাদা রক্ষায় অন্য কোনো দেশকে (এক্ষেত্রে স্কটল্যান্ড) আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ইতিমধ্যে এডিনবার্গে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

বর্তমান টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা এবং পূর্ববর্তী আইসিসি ইভেন্টগুলোতে দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে স্কটল্যান্ড এই সুযোগ পেয়েছে।

বিশেষ করে ২০২১ বিশ্বকাপে তারা বাংলাদেশকেও হারিয়েছিল।

নতুন সূচি অনুযায়ী, স্কটল্যান্ড এখন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৭ ফেব্রুয়ারি), ইতালি (৯ ফেব্রুয়ারি) এবং ইংল্যান্ডের (১৪ ফেব্রুয়ারি) মুখোমুখি হবে। এরপর তারা মুম্বাই যাবে নেপালের বিপক্ষে লড়তে।

আইসিসি’র এমন কঠোর হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা ছিল ‘মডারেট টু লো’ (সহনীয় থেকে কম)।

কিন্তু বিসিবি দাবি করে আসছিল এই ঝুঁকি ‘মডারেট টু হাই’ (সহনীয় থেকে উচ্চ)। মজার ব্যাপার হলো, গত বছর পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বর্তমান ভারতের পরিস্থিতির চেয়েও বেশি ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দল পাঠিয়েছিল বিসিবি।

গত বুধবার আইসিসি বিসিবি’কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। কিন্তু বিসিবি সেই সময়ের মধ্যে ইতিবাচক কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো আইসিসি’র নিরাপত্তা রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

শুক্রবার বিপিএল ফাইনাল চলাকালীন বিসিবি কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে তারা তাদের দাবিতে অনড় ছিল।

সময়সীমা পার হওয়ার অনেক পরে বিসিবি আইসিসিকে চিঠি লিখলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

আইসিসি মনে করে, বিসিবি’র দাবি মেনে নিলে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশ যখন-তখন ভেন্যু সরানোর দাবি তুলে টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নষ্ট করবে। তবে আইসিসি’র কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বিসিবি’র কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র : ক্রিকবাজ

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।