খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

খাদিজার (রা.) যে ৪ গুণ নারীদের জন্য অনুসরণীয়

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৩০ পিএম
খাদিজার (রা.) যে ৪ গুণ নারীদের জন্য অনুসরণীয়

ইসলামী ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন খাদিজা (রা.)। মহানবী (সা.)-এর স্ত্রী ও উম্মাহাতুল মুমিনীন হজরত খাদিজা (রা.)-কে নিয়ে গর্ব করার যথেষ্ট কারণ আছে। ঘরের কাজ–কর্ম কিংবা সংসার পরিচালনার কৌশল মেয়েরা যেভাবেই শিখুক, শেষ পর্যন্ত আদর্শ হিসেবে তারা মাকেই অনুসরণ করে। নবীজির স্ত্রীরা মুসলিম জাতির জন্য মায়ের মতো। তাই তাদের উম্মাহাতুল মুমিনীন বলা হয়। সেই সেই দৃষ্টিতে মা খাদিজা নারীজীবনের শ্রেষ্ঠ রোল মডেল।

নিচে খাদিজা (রা.)-এর দাম্পত্য জীবনের কয়েকটি গুণ তুলে ধরা হলো, যা আজকের নারীদের জন্যও অনুসরণীয়।

১. চরিত্রবান জীবনসঙ্গী নির্বাচন করেছিলেন

উম্মাহাতুল মুমিনীন খাদিজা (রা.) মক্কার সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী নারী ছিলেন। তার প্রথম স্বামী মারা যায়। এরপর বিয়ের জন্য একাধিক প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সবগুলো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ তার লক্ষ্য শুধু বিয়ে করা ছিল না। বরং তিনি একজন চরিত্রবান ও নীতিবান মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চেয়েছিলেন। আল্লাহ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার জন্য সেই মানুষ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। স্বামী নির্বাচনে এই বিচক্ষণতা পরবর্তীতে তাদের দাম্পত্যকে সুখী ও দৃঢ় করেছিল।

ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও পরস্পর সহযোগিতা ও ভালোবাসাপূর্ণ জীবন গড়ার প্রথম শর্ত হলো সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়া। কারণ প্রকৃত ভালোবাসা সেই মানুষকেই দেওয়া যায়, যাকে আপনি মন থেকে সম্মান করেন।

২. বিপদের সময় সান্ত্বনা ও অভয় দিয়ে স্বামীর পাশে ছিলেন

হেরা গুহায় জিবরাঈল (আ.) যখন প্রথমবার ওহী নিয়ে আগমন করেছিলেন মহানবী (সা.)-এর কাছে। তখন জিবরাঈলের বিশালাকৃতি দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন। এই সময় আতঙ্কিত মন নিয়ে নবীজি (সা.) নিজের চাচা বা বন্ধু আবু বকরের কাছে যাননি, বরং গিয়েছিলেন স্ত্রী খাদিজার কাছে।

তিনি খাদিজাকে বিস্তারিত জানিয়ে বললেন, আমি নিজের জন্য আশঙ্কা করছি। খাদিজা (রা.) সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, এমনটা হতে পারে না। আপনি আনন্দিত হোন। আল্লাহ কখনো আপনাকে বিপদে ফেলবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন, মানুষের দায়িত্ব বহন করেন, অসহায়দের সাহায্য করেন, অতিথি আপ্যায়ন করেন এবং বিপদাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।

নবীজি (সা.) যখন আতঙ্কিত ছিলেন, সেই মুহূর্তে এই বাক্যগুলোর মধ্যে ছিল ভালোবাসা, সান্ত্বনা ও দৃঢ় আশ্বাস। যা একজন মানুষ তার আপনজনের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে।

এই ঘটনা শিক্ষা দেয় একজন স্ত্রী হতে পারে স্বামীর সবচেয়ে বড় মানসিক ভরসা।

৩. প্রজ্ঞাসম্পন্ন পরামর্শদাতা ছিলেন তিনি

শুধু সান্ত্বনা দিয়েই থেমে যাননি খাদিজা (রা.)। সমাধানের জন্য তিনি ওয়ারাকা ইবন নওফেলের কাছে যাওয়ার পরামর্শ নবীজিকে। ওয়ারাকা ছিলেন জ্ঞানী ও ধর্মশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ। তিনি পুরো ঘটনা শুনে বিশ্লেষণ করলেন এবং ভবিষ্যতবাণীও করে দিলেন।

তাই একজন স্ত্রী হিসেবে জ্ঞানসমৃদ্ধ হওয়া জরুরি। ইসলাম, সমাজ, চলমান বিষয় সব বিষয়ে একজন নারী জ্ঞান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে যেন তিনি স্বামীকে বুদ্ধিদীপ্ত, বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন পরামর্শ দিতে পারবেন খাদিজা (রা.)-এর মতো।

৪. স্বামীর পাশে ছিলেন শক্ত দেয়ালের মতো

নবী মুহাম্মদ (সা.) স্ত্রী খাদিজা (রা.) সম্পর্কে বলেছেন, যখন সবাই অবিশ্বাসী ছিলো, তখন তিনি (খাদিজা) আমার প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন। অন্যরা আমাকে সম্পদ দেয়নি, অথচ তিনি তার সব সম্পদ আমাকে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাকে তার মাধ্যমেই সন্তান দান করেছেন, অন্য কারও মাধ্যমে নয়।

ওহী নাজিলের পর থেকেই শুরু হয়েছিল নবীজি (সা.)-এর কষ্টের ধারা। তাকে সমাজ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, তার সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, এমনকি অনাহারে থাকতেও বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু এই কঠিন মুহূর্তগুলো খাদিজা (রা.) কখনো পিছিয়ে যাননি। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নবীজির শক্ত স্তম্ভ হয়ে পাশে ছিলেন।

স্বামীর প্রতি আস্থা রাখা, গুজবে কান না দেওয়া, কঠিন সময়ে পাশে থাকা এগুলো খাদিজা (রা.)-এর গুণ এবং তার শিক্ষা। তার জীবন নারীদের এই শিক্ষা দেয় যে, পৃথিবী যদি স্বামী বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবুও স্ত্রীর উচিত তার প্রতি সমর্থন দিয়ে যাওয়া।

ফরিদপুরে পুলিশের ‘ডাবল হিট’: ফেন্সিডিলসহ আটক, বেরিয়ে এলো অস্ত্র রহস্য

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
ফরিদপুরে পুলিশের ‘ডাবল হিট’: ফেন্সিডিলসহ আটক, বেরিয়ে এলো অস্ত্র রহস্য

ফরিদপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ কলিন্স রায় ওরফে রাফসান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার ভাড়াবাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৫৮, তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামি রাফসানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেখানো মতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৬০০ মিলিলিটার ফেন্সিডিল ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জ্যোতির্ময় মল্লিকসহ পুলিশের একটি দল। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রাফসান স্বীকার করেন, তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে ফরিদপুর শহরের তার বাসায় মজুদ রাখতেন এবং পরে তা খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, ২১ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে রাফসানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তরিকুল ইসলাম জনি নামে আরেক ব্যক্তির দেখানো মতে একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জনি ও রনি নামে আরও দুইজনকে আসামি করে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

রবিবার (২২ মার্চ) বিকালে কোতোয়ালি থানার এসআই হিরামন বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।