খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

জনপ্রশাসনে সংস্কার: বৈষম্য ঘোচাতে কী রূপরেখা থাকছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:৫৯ এএম
জনপ্রশাসনে সংস্কার: বৈষম্য ঘোচাতে কী রূপরেখা থাকছে

সরকারকে জনমুখী করতে জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একগুচ্ছ সুপারিশ রাখছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন।

সরকারি চাকরিতে প্রচলিত ‘ক্যাডার’ শব্দ বাদ দিয়ে সিভিল সার্ভিস রাখার পাশাপাশি বৈষম্য দূর করতে পদোন্নতিতে ভারসাম্য ও সমানুপাতিকভাবে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর মত সুপারিশ রাখা হচ্ছে কমিশনের প্রতিবেদনে।

দীর্ঘমেয়াদের জন্য টেকসই পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সব সার্ভিসের জন্য সুবিচারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্য সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।

জনপ্রশাসনে ‘ভারসাম্য রাখতে’ রূপরেখা তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানান সংস্কার কমিশনের আরেক সদস্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

জেলা-উপজেলায় গিয়ে মতামত নেওয়া, জনমত ও অনলাইনে মতামত নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রতিবেদন জমার কথা ছিল গত মাসে, কিন্তু আমরা আমাদের কাজের কারণে তা করতে পারেনি। এগুলোর ভিত্তিতে আজকে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে স্বাক্ষর করা হবে। প্রতিবেদনে ১০০টির বেশি সুপারিশ থাকছে। এখন এর বাইরে আমি কিছু জানাতে পারব না।”

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীকে প্রধান করে গত ৩ অক্টোবর ১১ সদস্যের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। ৯০ দিনের মধ্যে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমার কথা ছিল। পরে কমিশনের মেয়াদ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

জনপ্রশাসনে পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও যৌক্তিক মনে করেন না সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার।

বৈষম্য নিয়ে তোলপাড়

উপসচিব পদে পদোন্নতির একটি নতুন বিধান চালুর সুপারিশ থাকতে পারে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে, যেখানে প্রশাসন ক‌্যাডার থেকে ৫০ ও অন‌্য ক‌্যাডার থেকে ৫০ শতাংশ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতির বিধান রাখার কথা বলা হতে পারে।

বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারের ৭৫ শতাংশ এবং অন্য সব ক্যাডার থেকে ২৫ শতাংশ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ নিয়ে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য পরিষদ আন্দোলনও করছে। তারা কোটা ব্যবস্থার বিলোপ চায়।

গত ১৭ ডিসেম্বর এক সভায় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী ‘পরীক্ষার মাধ্যমে’ জনপ্রশাসনে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোটা ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলেন।

তার বক্তব্যের প্রতিবাদে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এ নিয়ে প্রশাসন ও বাকি ২৫ ক্যাডারের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়লে ‘সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান’ ঘটবে।

দৃষ্টিভঙ্গি সবার প্রতি জাস্টিস: আইয়ুব মিয়া

মঙ্গলবার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্য সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে বুধবার জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রতিবেদন জমার আগে ‘কী ধরনের সংস্কারের সুপারিশ রয়েছে সে বিষয়ে খুঁটিনাটি তুলে ধরতে চাননি তিনি।

এ সদস্য বলেন, সংস্কার কমিশন এ পর্যন্ত অন্তত ৫০টি বৈঠক করেছে। মাঠ পর্যায় ও নানা মহল থেকে সুপারিশ, বক্তব্য পাওয়া গেছে। ডেটা অ্যানালাইসিস করা হয়েছে, জনমত নেওয়া হয়েছে; জনমতকে (জরিপ) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসচিব পদে পদোন্নতিতে প্রশাসন ক্যাডারের কোটা কমিয়ে ৫০ শতাংশ করতে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সম্ভাব্য প্রস্তাবের প্রতিবাদে ডিসেম্বরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিক্ষোভ দেখান কর্মকর্তারা। ফাইল ছবি

বর্তমান বাস্তবতায় প্রশাসনে অস্থিরতার বিষয়ে কোনো সুপারিশ রয়েছে কি না জানতে চাইলে আইয়ুব মিয়া বলেন, “সাম্প্রতিক যেসব প্রবলেম, সেগুলো তো আমরা ডিল করিনি। আমরা দীর্ঘমেয়াদের জন্য সাসটেইনেবল পরামর্শ দেওয়ার দিকে নজর রেখেছি। তাৎক্ষণিক কী প্রমোশন হল, পদোন্নতি হল- এগুলো আমাদের এখতিয়ার নয়, আমাদের কাজ নয়। এগুলো গভার্নমেন্ট আলাদাভাবে দেখছে।”

আন্তঃক্যাডার বৈষম্যের নানা দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, সবার মধ্যে সুইটেবল জাস্টিস-সেটার একটা বিষয় রেখেছি। সবার প্রতি জাস্টিস- আমরা এ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সুপারিশ রাখার চেষ্টা করেছি।”

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরীক্ষা, প্রশাসনিক প্রদেশের বিষয়ে সুপারিশ থাকার ইঙ্গিত দেন তিনি।

বৈষম্য ঘোচাতে ভারসাম্য আনতে একটা রূপরেখা রয়েছে: হাফিজুর রহমান

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের আরেক সদস্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান প্রশাসনে ভারসাম্য আনা, প্রশাসনিক প্রদেশের সুপারিশের বিষয়ে বলেছেন, “চ্যাপ্টার বাই চ্যাপ্টার থাকবে প্রতিবেদনে। রিপোর্ট আজ বাঁধাই হবে। এগুলো আমাদের রিপোর্টের মধ্যে মোটামুটিভাবে অ্যানালাইসিস করে, একটা আলোচনা-পর্যালোচনা করে একটা মতামত দেওয়া রয়েছে।”

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং খুলনা- চারটি প্রশাসনিক প্রদেশে বিভক্ত করার সুপারিশ থাকতে পারে কমিশনের প্রতিবেদনে।

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে দীর্ঘমেয়াদে এই সুপারিশের বিষয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, “প্রদেশ- এটা তো অনেক বড় ব্যাপার। শুনছি-রিপোর্ট পাওয়ার পরে পলিটিক্যাল পার্টি, সবার সাথে আলোচনা করে উনারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জনসংখ্যা আগে ছিল ৭ কোটি, এখন ১৮ কোটি। সুবিধা-অসুবিধা অনেকগুলো বিষয়। এ নিয়ে বিতর্ক আলোচনার মধ্যে আছে, আরও কিছু বিষয় আছে।”

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর ও পদোন্নতি সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে সুপারিশ থাকছে বলে জানান এ সদস্য।

তিনি বলেন, “আমরা একটা পরামর্শ রেডি করেছি- যাতে সমানুপাতিকভাবে সবাই সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে। সরকারের কাজ করাই তো ব্যাপার; সুযোগ-সুবিধা নেওয়া তো ব্যাপার নয়; সবাই তো বেতন পায়। দেশের উন্নয়নের জন্য, মানুষের উপকারের জন্য যেভাবে চালাবে সেভাবে চলবে। সবার মতামত কম্বাইনড করে মোটামুটিভাবে একটা সুপারিশ থাকছে।”

পদোন্নতির ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “…এদেশের যারা মালিক তাদের কাজ করতে গিয়ে, আমারও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একটা স্বীকৃতির দরকার। স্বীকৃতিটা সবাই চায়, স্বীকৃতির চাহিদা আছে সবার। সব বিবেচনা করে মোটামুটিভাবে একটা রূপরেখা দিয়েছি আমরা।”

সাবেক এ আমলা বলেন, “কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকারের আলাদা এক্সপার্ট রয়েছে, তারা দেখবেন, পর্যালোচনা করবেন, বিবেচনা করবেন এবং অনেকের সাথে কথা বলবেন। যেটা বাস্তবায়ন করার করবেন।”

গতবছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার ‘প্রাণকেন্দ্র’ হয়ে ওঠে সচিবালয়। ফাইল ছবি

‘ক্যাডার’ নয়, ‘সার্ভিস’ হবে

সরকারি চাকরিতে ‘ক্যাডার’ শব্দটি তুলে দেওয়ার সুপারিশ থাকছে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে।

কমিশন সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, “সবগুলো সার্ভিস করার চিন্তাভাবনা করা আছে।…ক্যাডার শব্দটি আমরা (বাদ) দেওয়ার সুপারিশ করতে চাচ্ছি। ক্যাডার শব্দ দিয়ে অন্য কিছু বোঝায়। ক্যাডারটা না করে সার্ভিস রাখতে বলছি। বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস, এগ্রিকালচার সার্ভিস- নানা সার্ভিস হবে। এভাবে নামকরণের চিন্তা করছি।”

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) সব মিলিয়ে ক্যাডার রয়েছে ২৬টি।

বিসিএস (ক্যাডার) পদে নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি বিষয়ে পিএসসির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রণীত বিসিএস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪ অনুযায়ী বিসিএস-এর ২৬টি ক্যাডারে উপযুক্ত প্রার্থী নিয়োগের উদ্দেশ্যে কমিশনে ৩ স্তরবিশিষ্ট পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

এক মত বিনিময় সভায় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী

প্রশাসনিক প্রাদেশ ‘সম্ভব না’, ৫০-৫০ কোটায় আপত্তি বিশ্লেষকের

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে প্রাদেশিক প্রশাসন ও পদোন্নতিতে ৫০-৫০ বণ্টনের যে সুপারিশ করা হচ্ছে, তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন প্রশাসন বিষয়ে গবেষক এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার। তবে ‘ক্যাডার’ শব্দটি উঠিয়ে দেওয়ার প্রশংসা করেছেন তিনি।

সাবেক এই সচিব বলেন, “এরকম পৃথিবীর কোথাও নেই। আফ্রিকা, ইউরোপ কোথাও বিসিএস ব্র্যাকেটে খাদ্য, বিসিএস ব্র্যাকেটে প্রশাসন- এসব কোথাও নেই। ভারত, পাকিস্তান, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য সব জায়গায় যেখানে সিভিল সার্ভিস টাইপের আছে, সবখানে সার্ভিস। কমিশন ব্র্যাকেট তুলে দিয়ে ভালো কাজ করেছে।

“১৯৭৯ সালে মাজেদুল হক সাহেব করেছিলেন; আমাদের এখানেও এটা আগে ছিল সার্ভিস। সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান, পুলিশ সার্ভিস অব পাকিস্তান, পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস- এরকম। এ কারণে উনারা এটা সার্ভিস করে দিয়েছেন, এটা যুক্তিসঙ্গত করেছেন।”

তবে পদোন্নতিতে ৫০-৫০ কোটার বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে সাবেক এ আমলার।

নিজেকে জনপ্রশাসন বিষয়ক একজন ছাত্র, গবেষক হিসেবে বর্ণনা করে আব্দুল আউয়াল বলেন, “ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া-সব জায়গায় এনট্রান্সে যে যেখানে যাচ্ছেন, সেখানেই গড়ে উঠছেন। এখন ৪০তম ব্যাচ থেকে তো আর কোটা নেই। তাই যিনি যেখানে ঢুকবেন, সেখানে তৈরি হওয়ার বিষয় রয়েছে। ১০/১২/১৪ বছর পরে একজন কর্মকর্তা হঠাৎ উপসচিব হয়ে এসে তৈরি হওয়া খুব ডিফিকাল্ট।”

বিশ্ব এখন দুই ধরনের সিভিল সার্ভিস রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া-একরকম; এগুলো হলো লাইন প্রমোশন। আমেরিক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া-সেখানে ওপেন সিলেকশন। একটা পদ খালি হলে তখন দরখাস্ত আহ্বান করা হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে ভেতরে-বাইরের সবাই দরখাস্ত করতে পারেন।

“ধরেন ঢাকার অধ্যক্ষ বা এসপির পদ খালি হবে যখন, তখন অ্যাডভারটাইজমেন্ট হবে, যোগ্যরা আবেদন করতে পারবে। ইনডিপেন্ডেন্ট কমিশন বা কমিটি করা থাকে, সাক্ষাৎকার নিয়ে তারা বাছাই করবে। এটা ওপেন সিলেকশন। লাইন প্রমোশন হচ্ছে- সহকারী কমিশনার হিসেবে ঢুকলেন, প্রমোশন পেয়ে পেয়ে সেখান থেকে ডিসি, কমিশন, সেক্রেটারি হবেন।”

এখন আর কোটা নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আগে কোটার কারণে হয়ত কুমিল্লার একজন বেশি নম্বর পেয়ে পেছনের দিকের ক্যাডার পেত; লালমনিরহাটের একজন কম নম্বর পেয়ে সামনের দিকের ক্যাডার পেত। সে কারণে ২৫% রাখার একটা ভিত্তি ছিল।

“কিন্তু এখন যেহেতু আর ওরকম কোটা নেই; মেধার ভিত্তিতে নম্বরের ভিত্তিতে পছন্দের ভিত্তিতে একটি ক্যাডারে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি তৈরি হবেন।”

প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, “শুধু অ্যাডমিনে যারা জয়েন করবে, তারা সচিবালয়ের পদগুলোর জন্য তৈরি হবে। ফিল্ডে, সচিবালয়ে কাজ করে তৈরি হবে, যেভাবে সিএসপিরা তৈরি হয়েছে। অন্য ক্যাডারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেন। অন্য ক্যাডার থেকে এভাবে আসে না। প্রেসিডেন্টের হাতে ১০% আছে, তিনি মনে করলে যোগ্য লোকদের আনেন।”

অন্য ক্যাডারদের সুবিধা বাড়িয়ে দিলে আন্তঃক্যাডারের প্রশ্ন আসবে না বলে মনে করেন তিনি।

পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও যৌক্তিক মনে করেন না সাবেক এ সচিব। তার মতে, যার যার ক্যাডারে পদোন্নতির বিধান থাকতে পারে।

বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং খুলনা- এ চার প্রদেশ গঠনের মত যোগ্যতা এখনও বাংলাদেশে অর্জন করেনি বলে মন্তব্য করেন এ সাবেক আমলা।

“এতে দুর্নীতি বাড়বে। ওভারহেড কস্ট বাড়বে। মানুষের কোনো কল্যাণ হবে বলে আমি মনে করি না। কিছু লোকের হয়ত চাকরি হবে, ভোগ-উপভোগ করবে। কিন্তু মানুষের কল্যাণ হবে না।”

–বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন