খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

জীবন-জীবিকায় উন্নতি লাভের ১০ আমল

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
জীবন-জীবিকায় উন্নতি লাভের ১০ আমল

পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও তাতে স্বস্তি ও স্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা জীবন ও জীবিকার পেরেশানি মানুষকে অনেক সময় ইবাদতে মনোযোগী হতে দেয় না, এমনকি মানুষকে আল্লাহবিমুখ করে। এ জন্য কোরআন ও হাদিসে মানুষকে জীবিকা বৃদ্ধির দোয়া ও আমল শেখানো হয়েছে।

জীবিকায় উন্নতি লাভের আমল
কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত জীবিকা বৃদ্ধির ১০টি আমল বর্ণনা করা হলো।

 

১. আল্লাহভীতি : জীবিকা বৃদ্ধি ও আয়-উপার্জনে বরকত লাভের একটি মাধ্যম হলো তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন। আর তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে দান করবেন জীবিকা। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

(সুরা : তালাক, আয়াত : ২-৩)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি সেসব জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মুক্ত করতাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৬)

২. তাওবা করা : মানুষ স্বভাবগতভাবে দুর্বল। তাই জীবনচলার পথে সে ভুলত্রুটি করতে থাকে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তার পাপ হয়ে যায়।

আর পাপ জীবন-জীবিকাকে সংকীর্ণ করে এবং মানুষকে আল্লাহর বরকত থেকে বঞ্চিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই বান্দা তার কৃত পাপের জন্য জীবিকা থেকে বঞ্চিত হয়।’ (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস : ৬১৬৭) আর যখন বান্দা তাওবা করে তখন জীবনের সংকট আল্লাহ দূর করে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকে ফিরে আসো। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।

তিনি তোমাদের আরো শক্তি দিয়ে তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৫২)
আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লেখেন, ‘তাওবার মাধ্যমে আগের গুনাহ মাফ হয়। যে বান্দা তাওবার গুণে গুণান্বিত হবে আল্লাহ জীবিকাকে সহজ করেন, তার বিষয়গুলো সহজ করেন এবং তার স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করেন।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)

৩. আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা : আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে আল্লাহ জীবিকায় বরকত দান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তাঁর জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৬৭)
হাদিসবিশারদরা বলেন, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার মধ্যে আছে তাদের প্রতি দয়া করা, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, অন্তরে ভালোবাসা পোষণ করা, তাদের খোঁজখবর রাখা, প্রয়োজনে সাহায্য করা, দুর্দিনে পাশে থাকা, সুখ-দুঃখের ভাগিদার হওয়া এবং অনুপস্থিতিতে দোয়া করা ইত্যাদি।

৪. আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা : প্রশস্ত জীবিকা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অর্থ ব্যয় করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো, আমার প্রতিপালক তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা জীবিকা বর্ধিত করেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা সীমিত করেন। তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার প্রতিদান দেবেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ৩৯) হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি ব্যয় করো, আমি তোমার জন্য ব্যয় করব (তোমাকে দান করব)।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৫২)

৫. দুর্বলের প্রতি দয়া করা : দুর্বল ও অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে আল্লাহ জীবিকায় বরকত দান করেন। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার জন্য দুর্বলদের অন্বেষণ করো। কেননা তোমরা রিজিক পাচ্ছ এবং সাহায্য পাচ্ছ তোমাদের দুর্বলদের অসিলায়।’
(সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩১৭৯)

৬. মনোযোগসহ ইবাদত করা : মুমিন যখন মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করে, তখন আল্লাহ তাকে জীবিকার পেরেশানি থেকে মুক্ত করে দেন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করো, আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। তুমি তা না করলে আমি তোমার দুই হাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব-অনটন রহিত করব না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৬৬)

৭. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় : আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করলে তাঁর নিয়ামত ও অনুগ্রহ বৃদ্ধি পায়। উমর ইবনুল আবদুল আজিজ (রহ.) বলতেন, ‘আল্লাহর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে তাঁর নিয়ামতগুলো আটকে রাখো। কৃতজ্ঞতা নিয়ামত বহাল থাকা ও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ।’ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

৮. বিয়ে করা : বিয়ে মানুষের জীবনের অস্থিরতা দূর করে এবং জীবিকায় প্রশস্তি আনে। আল্লাহ তাআলা বিয়ে করলে জীবিকা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা আয়্যিম (সঙ্গীহীন পুরুষ বা নারী) তাদের বিয়ে সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩২)

৯. হজ ও ওমরাহ করা : হজ ও ওমরাহ জীবিকা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধারাবাহিকতার সঙ্গে হজ ও ওমরাহ পরস্পর পালন করবে (হজের পর ওমরাহ বা ওমরাহর পর হজ)। কেননা হজ-ওমরাহ অভাব-অনটন ও পাপকে দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে থাকে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৬৩০)

১০. জীবিকার অনুসন্ধান : জীবিকার জন্য শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং দোয়া করাই যথেষ্ট নয়, বরং এ জন্য যথাযথভাবে পরিশ্রম করতে হবে। সম্ভাব্য উপায়গুলোতে চেষ্টা-তদবির করা। কোরআন ও হাদিসে অসংখ্যবার বান্দাকে জীবিকার অনুসন্ধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ১০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায় না। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৭২)
আল্লাহ তাআলা সবাইকে উত্তম জীবিকা দান করুন। আমিন।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২৩ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের মো. লিটন মোল্লা (৩৩), একই ইউনিয়নের কটুরাকান্দি গ্রামের সবুজ মোল্লা (২৩) ও টাবনী গ্রামের আলী শরীফ (২০)।

ভুক্তভোগী নারীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে মো. লিটন মোল্লার গত দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লিটন মোল্লা বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে সবুজ মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে লিটন, সবুজ ও আলী শরীফ ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে ওই তরুণী বাদী হয়ে ওই তিন ব্যক্তিকে আসামি মামলা দায়ের করেন। পরে বিকেলের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘

ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

শরিফুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

একসময় গ্রামবাংলার সন্ধ্যা ছিলো অন্যরকম এক পরিবেশ। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার নেমে এলে মানুষ একে একে জড়ো হতো কারও বাড়ির উঠোনে। শুরু হতো গানের আসর – কখনও ভাটিয়ালি, কখনও পালাগান, আবার কখনও মুর্শিদী গানে। আপন মুর্শিদের প্রতি আবেগে ঝড়তো চোখের জল।

সেই আসর ছিল না শুধু বিনোদনের জায়গা, বরং ছিল ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সংযোগস্থল। দিনভর ক্লান্তি, দুঃখ-কষ্ট, অভিমান – সব কিছু মিলিয়ে যেত একসাথে বসার আনন্দে।

আজ প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেক এগিয়েছি, কিন্তু সেই উঠোনভরা সম্প্রীতি যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুতের আলো আমাদের ঘর আলোকিত করেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মন যান্ত্রিক ও স্বার্থের আখরা বানিয়েছে । এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ মোবাইল বা টেলিভিশনের পর্দায় ডুবে থাকে; পাশের মানুষের সাথে কথা বলার সময়ও যেন কমে গেছে।

গ্রামের সেই সন্ধ্যার গান আমাদের শিখিয়েছে – সম্পর্ক গড়তে বড় আয়োজন লাগে না, দরকার শুধু আন্তরিকতা আর একসাথে থাকার ইচ্ছা। সমাজে ভেদাভেদ, হিংসা, দূরত্ব কমাতে আবারও দরকার এমন ছোট ছোট উদ্যোগ।

হয়তো আমরা পুরোপুরি সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু চেষ্টা করলে অন্তত মানুষের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারি।

লেখক: সাংবাদিক, ফরিদপুর

‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ দেশের সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কোর্সটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ‘ফেলো অব দ্য ক্যাপস্টোন কোর্স’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন, যা দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা কোর্সটির গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল এমডি ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নায়াব ইউসুফ জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত নেতৃত্ব, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিরাই বেশি থাকেন, ফলে এখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তব নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সটি মূলত দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কোর্স চলাকালে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, গ্রুপ আলোচনা, কেস স্টাডি এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান। এছাড়া নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নায়াব ইউসুফ এই প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন। সহপাঠী ও প্রশিক্ষকদের মূল্যায়নেও তিনি একজন মনোযোগী ও দক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নায়াব ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই নতুন অর্জন ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।