খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

নগরকান্দায় থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়!

মিজান বাবু, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:২৬ পিএম
নগরকান্দায় থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়!
ফরিদপুরের নগরকান্দায় থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দিন-রাত চলছে মাটি বহনকারী ট্রলিগাড়ি। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রলি গাড়ির সাহায্যে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। জমির মালিকদের নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে ফসলি জমির মাটি কিনে, এক শ্রেণীর অসাধু মাটি ব্যবসায়ী বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে। এছাড়াও ফসলি জমিতে বাড়ি নির্মাণ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেও কেনা হচ্ছে এসব মাটি।
মাটি ব্যবসায়ী নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের মৃত সত্তার শেখের ছেলে কামরুল শেখ জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে লস্করদিয়া ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রাম ও আশেপাশের এলাকার ফসলী জমি ও হালট নষ্ট করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রলিগাড়ির সাহায্যে এলাকার প্রভাবশালী এক ব্যক্তির ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ কোনো অজ্ঞাত ক্ষমতায় দীর্ঘদিন ধরে কামরুল তার অবৈধ ব্যবসা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে। নগরকান্দা -ফরিদপুর সড়কের কালীবাড়ি বাজার, লস্করদিয়া ইউনিয়নের ঝপরখালী মোড়, হাসনহাটি, নতুনবাজার, তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানের সড়কে মাটি বোঝাই ট্রলি চলাচল করছে। প্রশাসনসহ সবার নাগের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাটি ব্যবসা চলছে তো চলছেই। এসব যেন দেখার কেউ নেই।
মাটি ব্যবসায়ী কামরুল ছাড়াও, হান্নান মাতুব্বর, পাপ্পু, রিজাউল, রমজান, ওহিদ, ওলিউর, বসার, মারুফ, ফরহাদ সহ একাধিক ব্যক্তি  নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ভেকু ও ট্রলি দিয়ে মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, নগরকান্দা উপজেলার প্রায় সব জায়গাতেই অবাধে চলছে অবৈধ ভেকু ও ট্রলিগাড়ী। এতে এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায়, অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় চলছে ভেকু ও ট্রলি গাড়ি। ট্রলির সাহায্যে মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। ট্রলি গাড়ি চলাচলের সময় গ্রামের সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ট্রলির মাটি সড়কের উপর পড়ে থাকায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক পিচ্ছিল হয়ে ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা।
 সারাদিন ভেকু ও ট্রলি চলতে থাকায় ধুলোবালি চার পাশে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। ভেকু ও ট্রলি গাড়ির শব্দে এলাকায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিন্তু এলাকার সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেও, অদৃশ্য কোনো কারণে সমাধান পাচ্ছে না। তাইতো, থামছেই না মাটি ব্যসায়ীদের দৌরাত্ম্য!
নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।