খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

পৃথিবীর গভীরে কী রয়েছে

জাহিদ হোসাইন খান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৮:৩৬ পিএম
পৃথিবীর গভীরে কী রয়েছে

আপনার পায়ের নিচে কী? সহজ উত্তরে বলবেন, মাটি। তার নিচে কী? এভাবে যেতে থাকলে আমরা একসময় পৃথিবীর কেন্দ্রে চলে যাব তা–ই না? সেই কেন্দ্রের পরিবেশের কথা আমরা অনেকেই জানি। গলিত লাভা আর উত্তপ্ত এক পরিবেশ বিরাজ করছে সেখানে। সেই এলাকার অবস্থা নিয়ে নতুন এক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় জানা যাচ্ছে, পৃথিবীর কেন্দ্রের আশপাশে সব গলিত অংশ পৃথিবীর অংশ নয়। সেখানে বহুকালে আগে অন্য মহাজাগতিক বস্তুর অংশবিশেষ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একদল বিজ্ঞানী বলছেন, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে প্রাচীন প্রোটোপ্ল্যানেট থিয়া ও প্রোটো-আর্থের মধ্যে একটি বিশাল সংঘর্ষ ঘটেছিল। সেই সংঘর্ষে চাঁদের পাশাপাশি দুটি বিশাল মহাদেশ তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৃথিবীর আবরণের মধ্যে এই অঞ্চলগুলো আটকা পড়েছে।

সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ থেকেই চাঁদ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। থিয়ার আকার মঙ্গল গ্রহের সমান ছিল বলে অনুমান করা হয়। সাধারণভাবে বলা যায়, থিয়া ঘুরতে ঘুরতে আদি পৃথিবীর সীমানায় চলে এলে পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়ে। আর এতে ধ্বংসাবশেষ নিয়ে চাঁদের বিকাশ ঘটে। আশির দশকে প্রথমবার বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কেন্দ্রের গভীরে অস্বাভাবিক পদার্থের সন্ধান পান। দুটি মহাদেশ-আকারের এই ব্লককে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ব্লব বলছেন তাঁরা। দুটি ব্লবের একটি আফ্রিকা মহাদেশের নিচে ও অন্যটি প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে রয়েছে। একেকটি ব্লব চাঁদের আকারের দ্বিগুণ। পৃথিবীর কেন্দ্র যেসব উপাদানে তৈরি, এসব ব্লব তার চেয়ে ভিন্ন উপাদানে তৈরি। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী কিয়ান ইউয়ান বলেন, চাঁদের মতো উপগ্রহ ও মঙ্গল গ্রহের মতো বড় গ্রহগুলো তৈরির কোনো না কোনো পর্যায়ে এমন সংঘর্ষের মুখে পড়েছিল। আমরা গবেষণায় দেখেছি, প্রোটোপ্ল্যানেট থিয়া ও প্রোটো-আর্থের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়েছিল। গবেষণার জন্য সংগৃহীত নানা তথ্য কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।’

আফ্রিকা মহাদেশের নিচে ও অন্য একটি প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে প্রাপ্ত উপাদানগুলো আশপাশের আবরণের তুলনায় ২ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ বেশি ঘন। আবরণের এই অংশগুলো থিয়ার উপাদানকে প্রতিনিধিত্ব করে। থিয়ার ধ্বংসাবশেষ ১০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পৃথিবীর প্রথম দিকের বিবর্তনের সময় এসব পদার্থের কী পরিণতি হয়েছিল, তা নিয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে। সাংহাই অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির গবেষক অধ্যাপক হংপিং ডেং বলেন, নতুন অনুসন্ধান পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। সংঘর্ষের কারণে পৃথিবী প্রথম দিকে আকৃতি পেতে শুরু করে বলে মনে করা হতো।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী অধ্যাপক স্টিভেন ডেশ বলেন, নতুন তথ্য বলছে, চাঁদ তৈরির আগেও পৃথিবীতে থিয়ার উপাদান থাকতে পারে। কোটি কোটি বছর ধরে থিয়ার অংশ পৃথিবীর ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে বলা যায়। পৃথিবীর মধ্যে থিয়ার কোনো অংশবিশেষ এখনো যদি থাকে, তা ধীরে ধীরে পৃথিবীর কেন্দ্রে মিশে যাবে বা মুছে যাচ্ছে বলা যায়। কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী ঘূর্ণনের মাধ্যমে নিজের কেন্দ্রে থিয়ার অংশগুলোকে গিলে ফেলছে। এটিই প্রথম গবেষণা, যা সেই ঘটনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই গবেষণা দাবি করছে, থিয়ার অংশবিশেষ এখনো পৃথিবীর মধ্যে মূল-ম্যান্টল বা কেন্দ্রের সীমানায় অবস্থান করছে।

গবেষণাটি নেচার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী অধ্যাপক এড গার্নেরো বলেন, ‘নতুন গবেষণা অনুসারে বলা যায়, পৃথিবীর ব্লব অন্য গ্রহের সংঘর্ষের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে সংঘর্ষে আমাদের চাঁদ তৈরি হয়েছে। অন্য কথায়, বর্তমানে পৃথিবীর গভীরে থাকা বিশাল ব্লব আসলে বহির্জাগতিক বস্তুবিশেষ। পৃথিবীর মধ্যে সাধারণ কোনো ব্লব নেই, সব বহির্জাগতিক ব্লব আছে পায়ের নিচে। বিস্তৃত পরিসরের শিলা নমুনার সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। আদিম পৃথিবী, গাইয়া ও থিয়ার বস্তুগত গঠন ও কক্ষপথের গতিশীলতা অনুমান করতে পারছি আমরা। সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ গঠনের ইতিহাসকে বোঝার চেষ্টা করছি। সৌরজগতের বাইরে এক্সোপ্ল্যানেটের গঠন ও বাসযোগ্যতা বোঝার জন্য এ গবেষণার ফল কাজে আসবে।’

সূত্র: ফিজিস ডট অর্গ

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।