খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে ৪৬০০ লিটার ডিজেলের মজুদ রেখে পাম্প বন্ধ, জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৪৬০০ লিটার ডিজেলের মজুদ রেখে পাম্প বন্ধ, জরিমানা

ফরিদপুরে ৪৬০০ লিটার ডিজেল মজুদ রেখে পাম্প বন্ধ রাখা ও ড্রামে করে ৩০ লিটার অকটেন বিক্রয়ের সময় হাতেনাতে ধরার পর একটি পেট্রোল পাম্পকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর মেসার্স শেখ সাদ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও আরও একটি পাম্পে অভিযান চালানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স শেখ সাদ ফিলিং স্টেশনে ড্রামে ৩০ লিটার অকটেন বিক্রয়ের সময় হাতেনাতে ধরা হয় এবং বিক্রয় বন্ধ অবস্থায় ৪৬০০ লিটার ডিজেলের মজুদ পাওয়া যায়। এছাড়াও ডিজেল-২ স্টোরেজ ট্যাংকের ক্যালিব্রেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ পাওয়ায় ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড আইনে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সদর উপজেলার বাহেরদিয়া এলাকায় মেসার্স ইব্রাহিম ফিলিং স্টেশনে ২২০০ লিটার পেট্রোল মজুূদ রেখে পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়। পরে তেল বিক্রয় চালুর নির্দেশ প্রদান করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী বলেন, পেট্রোল পাম্পে ডিজেল মজুদ রেখে পাম্প বন্ধ রাখা ও ড্রামে করে ৩০ লিটার অকটেন বিক্রয়ের সময় হাতেনাতে ধরার পর একটি পাম্পটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও আরেকটি পেট্রোল পাম্পে তেল মজুদ রেখে বন্ধ রাখায় পেট্রোল পাম্পটি চালু করে তেল বিক্রি করা হয়।

ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার’ প্রলোভনে বিধবাকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার’ প্রলোভনে বিধবাকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় নারীকে (৪৩) আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল সকালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে তার বসবাস। ঘরের চালা দিয়ে বৃষ্টি নামলেই পানি পড়ে, নেই ন্যূনতম আসবাবপত্র—মানবেতর জীবনই যেন তার নিত্যসঙ্গী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার বাসিন্দা সুজন শেখ (৩৫) তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় তিনি সুজনের কথায় বিশ্বাস করেন। ঘটনার দিন সকালে সুজন তাকে উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রিকশায় করে শহরের দিকে নিয়ে যায়। পরে গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাসটার্মিনাল সংলগ্ন একটি স্থানে নামিয়ে কিছুদূর হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নিয়ে যায়।

সেখানে পৌঁছে সুজন ওই নারীকে জানায়, সেটিই নাকি কার্ড করার অফিস। সরল বিশ্বাসে তিনি তার সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর কৌশলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ৬ এপ্রিল তিনি বাড়ি ফেরেন।

পরদিন, ৭ এপ্রিল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, “আমি কোনো অফিস চিনতাম না। বিশ্বাস করে তার সঙ্গে গিয়েছিলাম। আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সে আমার সর্বনাশ করেছে। আমি এর বিচার চাই।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, ওই নারী পূর্বেও বিভিন্ন সময় তার বাড়িতে আসতেন এবং ঘটনার দিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি তাকে লাথি মারেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

“জনগণের সেবা সবার আগে”—চরভদ্রাসনে নতুন ইউএনও সুরাইয়া মমতাজের দৃঢ় অঙ্গীকার

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
“জনগণের সেবা সবার আগে”—চরভদ্রাসনে নতুন ইউএনও সুরাইয়া মমতাজের দৃঢ় অঙ্গীকার

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান, গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফখরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি মো. অহিদুজ্জামান মোল্যা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। বিশেষ করে নদীভাঙন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, নবাগত ইউএনওর নেতৃত্বে চরভদ্রাসন উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

নবাগত ইউএনও সুরাইয়া মমতাজ তার বক্তব্যে বলেন, “জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান।

তিনি তার কর্মজীবনের শুরুতে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় প্রায় চার মাস ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত ৭ এপ্রিল চরভদ্রাসন উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সভা শেষে তিনি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সালথায় অবৈধ জ্বালানি তেল ব্যবসায় অভিযান, যুবককে জরিমানা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
সালথায় অবৈধ জ্বালানি তেল ব্যবসায় অভিযান, যুবককে জরিমানা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল ক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহনের অভিযোগে জুবায়ের হোসেন (২২) নামে এক যুবককে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন এবং সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খানের নেতৃত্বে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি ইজিবাইক তল্লাশি করে ১৯৩ লিটার পেট্রোলসহ জুবায়েরকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার কাঠিয়ার গট্টি গ্রামের আলেপ শেখের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জুবায়ের দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে তা পরিবহন ও বিক্রি করে আসছিলেন। এতে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘনের পাশাপাশি জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলেই তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই সঙ্গে জব্দকৃত পেট্রোল স্থানীয় একটি পেট্রোল পাম্পে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও পরিবহন শুধু আইনবিরোধীই নয়, এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করে। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের দাহ্য পদার্থ বহন করলে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মো. দবির উদ্দিন বলেন, “জনস্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কেউ অবৈধভাবে জ্বালানি তেল ব্যবসা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের তথ্য পেলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।