খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার’ প্রলোভনে বিধবাকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার’ প্রলোভনে বিধবাকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় নারীকে (৪৩) আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল সকালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে তার বসবাস। ঘরের চালা দিয়ে বৃষ্টি নামলেই পানি পড়ে, নেই ন্যূনতম আসবাবপত্র—মানবেতর জীবনই যেন তার নিত্যসঙ্গী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার বাসিন্দা সুজন শেখ (৩৫) তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় তিনি সুজনের কথায় বিশ্বাস করেন। ঘটনার দিন সকালে সুজন তাকে উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রিকশায় করে শহরের দিকে নিয়ে যায়। পরে গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাসটার্মিনাল সংলগ্ন একটি স্থানে নামিয়ে কিছুদূর হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নিয়ে যায়।

সেখানে পৌঁছে সুজন ওই নারীকে জানায়, সেটিই নাকি কার্ড করার অফিস। সরল বিশ্বাসে তিনি তার সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর কৌশলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ৬ এপ্রিল তিনি বাড়ি ফেরেন।

পরদিন, ৭ এপ্রিল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, “আমি কোনো অফিস চিনতাম না। বিশ্বাস করে তার সঙ্গে গিয়েছিলাম। আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সে আমার সর্বনাশ করেছে। আমি এর বিচার চাই।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, ওই নারী পূর্বেও বিভিন্ন সময় তার বাড়িতে আসতেন এবং ঘটনার দিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি তাকে লাথি মারেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

ফরিদপুরে পরকীয়ার অপবাদে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটলো দুই যুবক, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে পরকীয়ার অপবাদে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটলো দুই যুবক, ভিডিও ভাইরাল

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে আটকে রেখে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর সেই দৃশ্য ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

​ঘটনাটি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের। নির্যাতিতা গৃহবধূ রিক্তা বেগম (২৮) ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী।

​রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিক্তা বেগমকে একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তাঁর দু’হাত চেপে ধরে রেখেছেন। আর চেক টি-শার্ট পরা অন্য এক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে তাঁর মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন। এ সময় ওই নারী আকুতি-মিনতি ও চিৎকার করে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত যুবকরা তা উপেক্ষা করে চুল কাটতে থাকেন। ভিডিওর শেষ দিকে গৃহবধূর মুখে থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।

​১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে ওই নারী ও এক যুবককে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ওই সময়ও গৃহবধূকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তাঁর কক্ষে এক যুবককে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দুজনকে আটক করেন। তখন ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলেন।

​পরদিন রবিবার বিকেলে গৃহবধূর চুল কেটে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং আটক যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। রিক্তা বেগমের বাবার বাড়ি পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা নির্যাতনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

​নির্যাতনে সরাসরি জড়িত হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামে দুই যুবকের নাম উঠে এসেছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে একাধিক পুলিশ দল অভিযানে নেমেছে।

​ওসি বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য প্রচলিত আইন রয়েছে। ভিডিও ধারণকারী ও নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

সালথায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
সালথায় বরাদ্দকৃত সার অন্যত্র বিক্রি, ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

ফরিদপুরের সালথায় কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামে মজুত না রেখে অন্যত্র বিক্রির দায়ে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত ডিলার হলেন মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোমরেজ খান।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সার সরবরাহের আগমনী বার্তা (অ্যারাইভাল রিপোর্ট) পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিলারের গুদাম পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এ সময় দেখা যায়, অক্টোবর মাসে ডিলারের অনুকূলে বরাদ্দ করা ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার গুদামে মজুত রাখার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ২০০ বস্তা। বাকি ২০০ বস্তা সার অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে বলে যাচাইয়ে উঠে আসে।

পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজভী আহমেদ সবুজের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডিলার মোমরেজ খান বরাদ্দের ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার অন্যত্র বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী তাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে সার বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যথাযথভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা এবং সারের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের নজরদারি ও তদারকিমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত নিয়মে গুদামে মজুত রাখা ও কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বরাদ্দের সার অন্যত্র বিক্রি করে অনিয়মের আশ্রয় নিলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফরিদপুরের মাঠে নন্দিতা সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ফরিদপুরের মাঠে নন্দিতা সুরক্ষা

সাম্প্রতিক সময়ে ১৩ বছর বয়সী কন্যা শিশু তাজনিমের হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা কন্যা শিশুর নিরাপত্তা, অধিকার এবং সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও কন্যা শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে নারী উন্নয়ন সংস্থা- নন্দিতা সুরক্ষা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের মোতলেব হোসেন হাই স্কুলে  আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে ১০০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডা ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় নন্দিতা সুরক্ষার RWVL-B প্রকল্পের আওতায় করা হয় ওই আয়োজন।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীরা হাতে সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেয়। “বাল্যবিবাহ বন্ধ করো! শিশুর অধিকার রক্ষা করো!”—এমন স্লোগান দিতে দিতে তারা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ভাঙ্গী ডাঙ্গী ও কাজেম মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

নন্দিতা সুরক্ষা বিশ্বাস করে, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবার নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তাদের মতামত ও স্বাধীনতাকে সম্মান করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

আলোচনা সভায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাল্যবিবাহ কীভাবে কন্যাশিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়। পাশাপাশি কিশোরীদের নিরাপদ চলাচল, তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কন্যা শিশুর সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আয়োজক প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা মুক্ত সমাজ গড়ে উঠুক – এই প্রত্যয়ে নন্দিতা সুরক্ষা সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেঁচে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ এবং মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি । তাজমিনের মতো শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্ট দেখলেই বোঝা যায়, কীভাবে ভুক্তভোগী শিশুর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক করার এবং অপরাধের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। একটি শিশুর পোশাক, চলাফেরা, আচরণ কিংবা বয়স- কোনোটিই তার প্রতি যৌন সহিংসতা বা হত্যাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। তাই আমরাও এই মানসিকতার পরিবর্তন ও কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি।”