খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরে খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরে খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন

সার বিক্রয় সংক্রান্ত ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা বাতিল করে ২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন খুচরা সার বিক্রেতারা। নতুন নীতিমালার কারণে সারা দেশের হাজার হাজার খুচরা বিক্রেতা তাদের ব্যবসা ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে ফরিদপুর জেলা খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা খুচরা সার বিক্রেতারা অংশ নেন এবং নতুন নীতিমালার প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক আশরাফ জোমাদ্দার, ক্রীড়া সম্পাদক আফতাব হোসেন বাবুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব শিকদারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী সারা দেশে সরকার অনুমোদিত প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এই নীতিমালার আওতায় তারা কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের নীতিমালা বাতিল করে ২০২৫ সালে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর ফলে পূর্বের অনেক খুচরা বিক্রেতার লাইসেন্স বাতিল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তাদের দাবি, নতুন নীতিমালার কারণে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হঠাৎ করেই ব্যবসা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। এতে করে প্রায় ৪৪ হাজার বিক্রেতা এবং তাদের পরিবার জীবিকা সংকটে পড়েছে। অনেকেই ব্যাংক ঋণ ও দেনার বোঝা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তারা আরও বলেন, খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের নিকটতম পর্যায়ে সার সরবরাহ করে থাকেন। ফলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে কৃষকরাও সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহে সমস্যায় পড়তে পারেন, যা কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা বাতিল করে ২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহালের দাবি জানান। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স পুনরায় বহাল করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে খুচরা সার বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জীবিকা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অনেকটাই বিবস্ত্র ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকার ভুবনেশ্বর নদে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সদরপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে নদীর পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান কয়েকজন জেলে ও এলাকাবাসী। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে।

সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক ও সিআইডি টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত নিহত কিশোরীর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লন্ডনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ফরিদপুরের শামসুল আজম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
লন্ডনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ফরিদপুরের শামসুল আজম

লন্ডনের মাটিতে লাল-সবুজের আরও একটি গর্বের পতাকা উড়ল। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লন্ডনের মেইজব্রুক ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃতী সন্তান এম. এম. শামসুল আজম। বৃটেনের রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ২০০৩ সালে লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন শামসুল আজম। পড়াশোনা শেষ করার পর লন্ডনেই চাকরি আর ব্যবসার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন সমাজসেবামূলক কাজে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন। এবার মেইজব্রুকের বাসিন্দারা ব্যালটের মাধ্যমে তাঁর সেই সেবার প্রতিদান দিলেন।

নির্বাচনে জয়লাভের পর শামসুল আজম বলেন, ‘এই বিজয় আমার একার নয়, এটি মেইজব্রুকের সকল বাসিন্দার বিজয়। আমি আপনাদের সেবা করতে এবং এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিদেশের মাটিতে বড় এই সাফল্যের পরও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি নবনির্বাচিত এই কাউন্সিলর। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শামসুল আজম বলেন, ‘আমি যেখান থেকে এসেছি—বোয়ালমারী, ফরিদপুর—সেই মাটির প্রতি আমার গভীর মমতা রয়েছে। প্রবাসে থেকেও আমি বাংলাদেশের মান-সম্মান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাব।’

শামসুল আজমের এই সাফল্যে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তায় ভাসছেন তিনি। এদিকে তাঁর এই বড় অর্জনের খবর বোয়ালমারী ও ফরিদপুরে পৌঁছালে সেখানেও মিষ্টি বিতরণ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। দূর পরবাসে দেশের মুখ উজ্জ্বল করায় তাঁকে নিয়ে গর্ব করছেন এলাকাবাসী।

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টিভি

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানহা (১৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তানহাকে। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।