খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরের পদ্মার চরাঞ্চলে নিরাপদ সবজি চাষে নতুন দিগন্ত

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০১ পিএম
ফরিদপুরের পদ্মার চরাঞ্চলে নিরাপদ সবজি চাষে নতুন দিগন্ত

পরিবেশবান্ধব কৃষিপ্রযুক্তি ও এগ্রো ইকোলজিক্যাল চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের কৃষকদের নিরাপদ সবজি উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে এনে যথাসময়ে বাজারজাত করায় আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় কৃষকরা রাসায়নিকনির্ভরতা কমিয়ে জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে দক্ষ হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত সবজি সরবরাহ হচ্ছে।

জেলার সদর ও চরভদ্রাসন উপজেলার ডিক্রিরচর ও গাজীরটেক ইউনিয়ন। এ দুটি ইউনিয়নই মূলত পদ্মা নদীতীরবর্তী প্রাকৃতিক চরাঞ্চল। প্রতিবছর বন্যা, ভাঙন, মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও নদীর গতি-প্রকৃতির পরিবর্তনে এখানকার কৃষিজমি ও মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা লেগেই থাকে। নদীর চরে গড়ে ওঠা এই এলাকাগুলোর কৃষকদের জীবিকা নির্ভর করে মূলত মৌসুমি ফসলের ওপর। কিন্তু অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণ জ্ঞানের অভাব, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে স্বল্প ধারণা– সব মিলিয়ে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ছিল অনেকাংশেই পশ্চাৎপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের জুনে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা আমরা কাজ করি (একেকে), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ইফাদ এবং ডানিডার সহযোগিতায় চরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে চালু করে ‘চরাঞ্চলে এগ্রো ইকোলজিক্যাল ফার্মিং পদ্ধতিতে মিশ্র ও আন্তঃফসল চাষের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপপ্রকল্প।

এটি শুধু একটি কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি সমন্বিত সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মডেল। প্রকল্পের প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যাচ্ছে কৃষকদের আয়, মাটির উর্বরতা, উৎপাদন ব্যয়, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বাজার সংযোগে। ফরিদপুরের চরাঞ্চল এখন একটি নতুন কৃষি সম্ভাবনার ক্ষেত্র, যেখানে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি দেশের বাজারে নিরাপদ খাদ্য হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
১৬ মাস আগে এক হাজার ১৫০ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের চাষিকে অন্তর্ভুক্ত করে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে এগ্রো ইকোলজিক্যাল পদ্ধতি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক প্রস্তুত, মিশ্র ও আন্তঃফসল চাষ পদ্ধতি, বাজারজাতকরণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১০০ কৃষকের মাটি পরীক্ষা করে তাদের জমির জন্য উপযুক্ত ফসল নির্বাচন ও সার প্রয়োগের পরামর্শ প্রদান করা হয়।

কৃষকদের জৈব সার উৎপাদনে উৎসাহিত করতে পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের ওই দুটি ইউনিয়নে ১৫টি কেঁচো সার প্লান্ট ও ছয়টি টাইকো কম্পোস্ট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। সেচের জন্য ছয়টি সোলার প্যানেলচালিত সেচ ব্যবস্থা ও ৪০টি ডিজেলচালিত পাম্প বসানো হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি সবজি চারা উৎপাদনের জন্য নেট হাউস ও চারা উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে এখন অনেক কৃষকই জৈব ও এগ্রো ইকোলজিক্যাল পদ্ধতিতে কৃষি চর্চা করছেন।

গত ১০ নভেম্বর সরেজমিন দেখা যায়, ডিক্রিরচর ও গাজীরটেক ইউনিয়নের চরের বিভিন্ন গ্রামে কৃষকরা মিশ্র ও আন্তঃফসল চাষে সফলতা অর্জন করেছেন। কিষানি রাহেলা বেগম বলেন, আগে আমরা বুঝতাম না কোন সার বা কীটনাশক কতটুকু ব্যবহার করা দরকার। এখন প্রশিক্ষণ পেয়েছি, বাড়িতেই কেঁচো সার তৈরি করি, জৈব বালাইনাশক বানাই। এতে মাটি উর্বর থাকে, ফসলও ভালো হয়। আগে শুধু খরচ হতো, এখন আয় হচ্ছে।

কৃষক সাগর মিয়া বলেন, আমি এখন কোকোপিটে সবজি চারা উৎপাদন করি। এতে মানসম্মত চারা তৈরি হয়, যা অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করি। এতে নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি অন্য কৃষকরাও ভালো ফল পাচ্ছেন। একসময় ভাবতাম চর থেকে কেউ ব্যবসা করতে পারে না, এখন পারছি।
প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর ফুয়াদ হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের সরাসরি সহায়তায় চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষকের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা এখন পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন এবং জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে দক্ষ হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ৪০ শতাংশ কৃষক ও উদ্যোক্তার সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে; উচ্চমূল্যের সবজি ও আগাম ফসল উৎপাদনে তারা দক্ষ হয়েছেন। উৎপাদন ব্যয় ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে সোলার সেচ, কম খরচে ডিজেল ইঞ্জিন এবং জৈব সার ব্যবহারের কারণে। বাজারে নিরাপদ সবজি বিক্রয় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি আউটলেট ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে জৈব সবজি বিক্রি হচ্ছে।

আমরা কাজ করির (এ.কে.কে) নির্বাহী পরিচালক এম এ জলিল বলেন, পিকেএসএফ, ইফাদ ও ডানিডার এই সহযোগিতায় চরের কৃষি ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এগ্রো ইকোলজিক্যাল ফার্মিং চর্চার মাধ্যমে কৃষকরা যেমন প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করছেন, তেমনি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখছেন। এটি একটি টেকসই উন্নয়নের দৃষ্টান্ত, যা দেশের অন্যান্য চরাঞ্চলেও সম্প্রসারণযোগ্য।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর