খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরের পদ্মার চরাঞ্চলে নিরাপদ সবজি চাষে নতুন দিগন্ত

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০১ পিএম
ফরিদপুরের পদ্মার চরাঞ্চলে নিরাপদ সবজি চাষে নতুন দিগন্ত

পরিবেশবান্ধব কৃষিপ্রযুক্তি ও এগ্রো ইকোলজিক্যাল চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের কৃষকদের নিরাপদ সবজি উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে এনে যথাসময়ে বাজারজাত করায় আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় কৃষকরা রাসায়নিকনির্ভরতা কমিয়ে জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে দক্ষ হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত সবজি সরবরাহ হচ্ছে।

জেলার সদর ও চরভদ্রাসন উপজেলার ডিক্রিরচর ও গাজীরটেক ইউনিয়ন। এ দুটি ইউনিয়নই মূলত পদ্মা নদীতীরবর্তী প্রাকৃতিক চরাঞ্চল। প্রতিবছর বন্যা, ভাঙন, মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও নদীর গতি-প্রকৃতির পরিবর্তনে এখানকার কৃষিজমি ও মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা লেগেই থাকে। নদীর চরে গড়ে ওঠা এই এলাকাগুলোর কৃষকদের জীবিকা নির্ভর করে মূলত মৌসুমি ফসলের ওপর। কিন্তু অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও বাজারজাতকরণ জ্ঞানের অভাব, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে স্বল্প ধারণা– সব মিলিয়ে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ছিল অনেকাংশেই পশ্চাৎপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের জুনে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা আমরা কাজ করি (একেকে), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ইফাদ এবং ডানিডার সহযোগিতায় চরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে চালু করে ‘চরাঞ্চলে এগ্রো ইকোলজিক্যাল ফার্মিং পদ্ধতিতে মিশ্র ও আন্তঃফসল চাষের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপপ্রকল্প।

এটি শুধু একটি কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি সমন্বিত সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মডেল। প্রকল্পের প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যাচ্ছে কৃষকদের আয়, মাটির উর্বরতা, উৎপাদন ব্যয়, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বাজার সংযোগে। ফরিদপুরের চরাঞ্চল এখন একটি নতুন কৃষি সম্ভাবনার ক্ষেত্র, যেখানে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি দেশের বাজারে নিরাপদ খাদ্য হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
১৬ মাস আগে এক হাজার ১৫০ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের চাষিকে অন্তর্ভুক্ত করে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে এগ্রো ইকোলজিক্যাল পদ্ধতি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক প্রস্তুত, মিশ্র ও আন্তঃফসল চাষ পদ্ধতি, বাজারজাতকরণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১০০ কৃষকের মাটি পরীক্ষা করে তাদের জমির জন্য উপযুক্ত ফসল নির্বাচন ও সার প্রয়োগের পরামর্শ প্রদান করা হয়।

কৃষকদের জৈব সার উৎপাদনে উৎসাহিত করতে পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের ওই দুটি ইউনিয়নে ১৫টি কেঁচো সার প্লান্ট ও ছয়টি টাইকো কম্পোস্ট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। সেচের জন্য ছয়টি সোলার প্যানেলচালিত সেচ ব্যবস্থা ও ৪০টি ডিজেলচালিত পাম্প বসানো হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি সবজি চারা উৎপাদনের জন্য নেট হাউস ও চারা উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে এখন অনেক কৃষকই জৈব ও এগ্রো ইকোলজিক্যাল পদ্ধতিতে কৃষি চর্চা করছেন।

গত ১০ নভেম্বর সরেজমিন দেখা যায়, ডিক্রিরচর ও গাজীরটেক ইউনিয়নের চরের বিভিন্ন গ্রামে কৃষকরা মিশ্র ও আন্তঃফসল চাষে সফলতা অর্জন করেছেন। কিষানি রাহেলা বেগম বলেন, আগে আমরা বুঝতাম না কোন সার বা কীটনাশক কতটুকু ব্যবহার করা দরকার। এখন প্রশিক্ষণ পেয়েছি, বাড়িতেই কেঁচো সার তৈরি করি, জৈব বালাইনাশক বানাই। এতে মাটি উর্বর থাকে, ফসলও ভালো হয়। আগে শুধু খরচ হতো, এখন আয় হচ্ছে।

কৃষক সাগর মিয়া বলেন, আমি এখন কোকোপিটে সবজি চারা উৎপাদন করি। এতে মানসম্মত চারা তৈরি হয়, যা অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করি। এতে নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি অন্য কৃষকরাও ভালো ফল পাচ্ছেন। একসময় ভাবতাম চর থেকে কেউ ব্যবসা করতে পারে না, এখন পারছি।
প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর ফুয়াদ হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের সরাসরি সহায়তায় চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষকের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা এখন পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন এবং জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে দক্ষ হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ৪০ শতাংশ কৃষক ও উদ্যোক্তার সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে; উচ্চমূল্যের সবজি ও আগাম ফসল উৎপাদনে তারা দক্ষ হয়েছেন। উৎপাদন ব্যয় ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে সোলার সেচ, কম খরচে ডিজেল ইঞ্জিন এবং জৈব সার ব্যবহারের কারণে। বাজারে নিরাপদ সবজি বিক্রয় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি আউটলেট ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে জৈব সবজি বিক্রি হচ্ছে।

আমরা কাজ করির (এ.কে.কে) নির্বাহী পরিচালক এম এ জলিল বলেন, পিকেএসএফ, ইফাদ ও ডানিডার এই সহযোগিতায় চরের কৃষি ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এগ্রো ইকোলজিক্যাল ফার্মিং চর্চার মাধ্যমে কৃষকরা যেমন প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করছেন, তেমনি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখছেন। এটি একটি টেকসই উন্নয়নের দৃষ্টান্ত, যা দেশের অন্যান্য চরাঞ্চলেও সম্প্রসারণযোগ্য।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।