খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭ মাঘ, ১৪৩২

হাড় কাপাঁনো শীতে জবুথবু ফরিদপুরের জনজীবন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০০ এএম
হাড় কাপাঁনো শীতে জবুথবু ফরিদপুরের জনজীবন

হঠাৎ করে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় হাড় কাপাঁনো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের জনজীবন। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা।

সকালে শহরের সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম। অনেকেই গরম কাপড় জড়িয়ে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শীতের প্রভাব পড়েছে কর্মজীবী মানুষের আয়ে। ভ্যানচালক ও রিকশাচালকরা জানান, সকালবেলা যাত্রী কম থাকায় আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। দিনমজুরদের অনেকেই কাজ না পেয়ে বসে আছেন। নদী ও চরাঞ্চলের মানুষ শীতের প্রকোপে আরও বিপাকে পড়েছেন। পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

শীতের কারণে জেলার হাট-বাজারগুলোতেও আগের মতো ভিড় নেই। সবজির বাজারে কিছুটা দাম বাড়তির দিকে, কারণ ভোরের কুয়াশায় কৃষকরা সময়মতো পণ্য আনতে পারছেন না। তবে শীতের সবজি উঠতে শুরু করায় ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি ঠান্ডা এড়িয়ে চলা ও শিশু-বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও অপ্রতুল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত আরও শীতবস্ত্র বিতরণ ও মানবিক সহায়তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

হাড় কাপাঁনো এই শীতে ফরিদপুরবাসী এখন তাকিয়ে আছে একটু উষ্ণতার আশায়, যেন স্বস্তি ফিরে আসে।

বোয়ালমারীতে জামায়াতের প্রচারণা করায় ভ্যানচালকের চোখে হাতুড়ি হামলার অভিযোগ

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
বোয়ালমারীতে জামায়াতের প্রচারণা করায় ভ্যানচালকের চোখে হাতুড়ি হামলার অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার মজুরদিয়া এলাকায় রাজনৈতিক প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এক ভ্যানচালকের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই ভ্যানচালককে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মজুরদিয়া বাজারে। আহত ভ্যানচালকের নাম মো. জাহিদ। তিনি ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বাচ্চু শেখের ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভ্যান চালিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট ও প্রচারণার কাজ করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফরিদপুর-১ আসনের এমপি প্রার্থীর প্রচারণা চালাতে ভ্যান নিয়ে মজুরদিয়া বাজারে আসেন জাহিদ। এ সময় বাজারে অবস্থিত একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ভাই মো. আনোয়ার ও মো. মনোয়ার তাকে আটকান। তারা বেড়াদিয়া গ্রামের মৃত রাজ্জাক শেখের ছেলে এবং বিএনপি মনোনীত ফরিদপুর-১ আসনের এমপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দোকান থেকে হাতুড়ি বের করে জাহিদের ওপর হামলা চালান আনোয়ার ও মনোয়ার। চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর একজন অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমন শেখ বলেন, “জাহিদ খুব সাধারণ একজন ছেলে। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। সে কোনো দল করে না। যার কাছ থেকে কাজ পায়, তারই প্রচারণা করে। চোখের সামনে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়েছে, এটা খুবই নির্মম।”

মজুরদিয়া বাজারের এক দোকান কর্মচারী তারিকুল ইসলাম বলেন, “দুই ভাই মিলে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে। একজন মারধর করে দ্রুত পালিয়ে যায়। বাজারে তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”

ঘটনার খবর পেয়ে সাতৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, “একজন ভ্যানচালকের ওপর হামলার বিষয়টি জানতে পেরে আমি সঙ্গে সঙ্গে এখানে এসেছি। বর্তমানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

আহত জাহিদকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুর-৪: নিক্সন চৌধুরীর ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন বিএনপি প্রার্থী বাবুল

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ পিএম
ফরিদপুর-৪: নিক্সন চৌধুরীর ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন বিএনপি প্রার্থী বাবুল

সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী ও স্থানীয় সাবেক একজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার বিষয়ে মুখ খুললেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় এ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ভিডিওবার্তায় শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশে আমাকে হেয় করার জন্যই নিক্সন চৌধুরী বিভিন্নভাবে ফোনালাপের মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে একজন চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত ফোনালাপ যদি নিরাপদ না হয়? তাহলে লাখ লাখ মানুষ কিভাবে নিরাপদ হবে? এমন ঘটনাটি তার জন্য একটা ধৃষ্টতা।’

তিনি জানান, আলগি ও হামিরদী ইউনিয়ন কর্তনের বিষয়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তার অর্থদাতা তিনি নিজেই সেই বিষয়টিও তিনি (নিক্সন চৌধুরী) নিজেই স্বীকার করেছেন।

বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘নিক্সন চৌধুরী দুটি ইউনিয়নকে কিভাবে ফেরত এনে দিয়েছেন বিষয়টি পারলে জনসম্মুখে প্রকাশ করুক। আর আমি তার প্রমাণ নিজেই ফেরত এনে দিয়েছি, তার প্রমাণ হচ্ছে-আমি নিজেই হাইকোর্টে রিটকারী এবং রিট না করলে আদৌ ফেরত আনা সম্ভব হতো না। আমি জনগণকে ওয়াদা দিয়েছিলাম সেই ওয়াদা আমি পূরণ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ফোনালাপে আমাকেও জড়িয়েছেন। আমার পরিবার থেকে তুই-তুকারি একজনকে অসম্মান করে কথা বলা, এসব আমি পরিবার থেকে শিখি নাই। আমার জীবনে এক হাজারের বেশি টকশো করেছি, হাজার হাজার ফোনালাপ করেছি, ব্যক্তিগত কারো ফোনালাপ নিয়ে অসম্মান করা শিখি নাই। জনগণ ভোট দিলে সেবা করব, না দিলে নাই। প্রতিহিংসার রাজনীতি আমি করি না। ফরিদপুর-৪ আসনের জনগণের জ্ঞাতার্থে আমার এই বার্তা।’

যার সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে সেই সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে যে কথা ভেসে বেড়াচ্ছে, সেগুলা সুপার এডিট করা, আমার সঙ্গে এক দুই মাসের মধ্যে কোনো কথা হয় নাই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আগে আমি তার দল করেছি, কথা বলতেই পারি। কিন্তু বর্তমান যে কথাগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ সুপার এডিট।’

 

সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকরা ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন: ইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকরা ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন: ইসি

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না।

এর আগে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কেবল তিন শ্রেণির কর্মকর্তা মোবাইল ফোন বহনের অনুমতি পাবেন। তারা হলেন— সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এবং ‘ইলেকশন সিকিউরিটি ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজন আনসার সদস্য (এম্বডিড আনসার/জেনারেল আনসার/ভিডিপি)।

চিঠির মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রার্থী ও সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের জন্য মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানায়।