খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ইরানে হামলায় কেন প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাম্পের নীতি?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
ইরানে হামলায় কেন প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাম্পের নীতি?

গত শুক্রবার সকালবেলা ইরানের ওপর ইসরায়েল যেই আক্রমণ চালিয়েছে, সেই আক্রমণে ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির অনেক বেসামরিক ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ। এ কারণে ইসরায়েলের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালাতে বাধ্য হয়েছে ইরান সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা এরই মধ্যে যথেষ্ট অস্থিতিশীল ছিল, বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল পরিচালিত নিরবচ্ছিন্ন গণহত্যার কারণে। এখন ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের এ সংঘর্ষ নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক অস্থিরতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করল।

অশান্তিকর পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং গণহত্যা চলমান রাখার মাধ্যমে ইসরায়েল তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু হাস্যকর ব্যাপার হলো, যাদের সঙ্গে এ রাষ্ট্রটি আক্রমণাত্মক আচরণ করে, তাদের আগে গোটা বিশ্বের কাছে আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং নিজেদের অসহায় পক্ষ হিসেবে উপস্থাপনের কৌশল অবলম্বন করে। এই একই কৌশল তারা প্রয়োগ করেছে ইরানের ক্ষেত্রেও। ইরানের ওপর আক্রমণ চালানোর আগে বহুকাল ধরেই তারা ইরানকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। ইরানের কাছে আদতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে কি না, তা প্রমাণ না করেই তারা দাবি করেছে যে ইরানের এই পারমাণবিক অস্ত্র সরাসরি ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ইসরায়েলের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো ধরনের হুমকি ইরান দেয়নি। তার পরও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ ঘোষণা করেছেন।

দুশ্চিন্তার একটা কারণ হলো এই যে, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলেও ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে। আর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে সমর্থন দেয়, তাতে এটা মনে করা দোষের কিছু নয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশের চরম আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ না থাকলেও ইসরায়েলের সেই সুযোগ আছে। দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগের ঘূর্ণিপাকে কোণঠাসা নেতানিয়াহু পরিত্রাণের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বকে। প্রতিরক্ষার নামে ইসরায়েলকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘর্ষে জড়িয়ে রাখলে দেশের ভেতরে জনগণ তার ওপর গদি ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এ হামলায় কোনো সক্রিয় ভূমিকা পালন করার কথা অস্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অথচ আক্রমণের ঠিক এক দিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ওপর যে কোনো সময় ইসরায়েলের হামলা চালানোটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘গাজায় ইসরায়েলের কাজ সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করছেন’ বলে বড়াই করে বক্তৃতা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি নেতানিয়াহুর অসন্তোষের কারণ হয়ে ওঠেন যখন ট্রাম্প ইসরায়েলকে যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করে ইরানের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।

ইরানের ওপর তথাকথিত ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ চালিয়ে ইসরায়েল কার্যত যে কোনো ধরনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ইরানকে বেসামরিক পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ কর্মসূচি চালানোর অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে যে বহুপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই সুযোগও নষ্ট করে দিয়েছে তারা। এরই মধ্যে বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘এটি বিপজ্জনক এলাকা হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’ এর থেকে বোঝা যায় যে, নিকট ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের ওপর চালানো এ হামলার ঘটনায় হোয়াইট হাউস খুব বেশি বিচলিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। আক্রমণের এক দিন পর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও উপস্থিত ছিলেন। তাও সেই জরুরি বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল সকাল ১১টায়, যেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বস্তিতে সকালের নাশতা সেরে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। এসব কর্মকাণ্ড দেখে বোঝা যায় যে, ইরানের দুর্দশা নিয়ে মোটেই তাড়াহুড়ো করছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। বরং আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানের ওপর চালানো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে। আমি স্পষ্ট করে সাবধান করে দিতে চাই, ইরান যেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থকে লক্ষ্য করে আক্রমণ না চালায় এবং আমেরিকান কর্মীদের যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।’

অথচ ইরানের স্বার্থ ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংকোচ বোধ করেনি। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর কুদস্ ফোর্সের প্রধান কাসেম সুলায়মানির প্রাণ যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এমন দ্বিমুখী নীতি তাদের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষার দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়ে গেছে। ট্রাম্পের প্রথম দফার শাসনামলে সুলায়মানির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে সেজন্য কোনো খেসারত দিতে হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বৈদেশিক নীতির ব্যত্যয় ঘটানো এবং নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা কোনো বিরল ঘটনা নয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থি গণমাধ্যম, যারা আন্তর্জাতিক আইন মান্য করার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করে থাকে, তাদের একাংশ কাসেম সুলায়মানির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যথেষ্ট উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল। যেমন—‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কলামিস্ট এ ঘটনার পর ইতিবাচক সাড়া দিয়ে লিখেছিলেন যে, ‘যা হয়েছে ভালো হয়েছে। এই কাজের জন্য একদিন তেহরানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামে হয়তো কোনো সড়কের নামকরণ করা হবে।’

এমনটা অবশ্য ঘটেনি। ট্রাম্পের প্রতি তেহরানবাসীর মনোভাব এখনো বৈরীই রয়ে গেছে। তবে ট্রাম্প যদি তার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী প্রচারণার মূলনীতি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-এ অটল থাকতেন, তাহলে হয়তো তার প্রতি তেহরানের বিদ্বেষের মাত্রা কিছুটা লোপ পেত। আমেরিকা ফার্স্ট নীতির নাম থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থ ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য; অন্য দেশের সাধারণ জনগণের ওপর বোমাবর্ষণ করা নয়। কিন্তু ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের নীরব সমর্থন এই নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মনে হয়েছে, যেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নয়; বরং ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করতে উদ্যত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে নিজস্ব স্বার্থের ঊর্ধ্বে ইসরায়েলের নীতিগত উদ্দেশ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। যুগে যুগে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় রাজনৈতিক দলের প্রশাসন ইসরায়েলের পেছনে কোটি কোটি ডলার অর্থ খরচ করে আসছে, যার প্রায় পুরোটাই গেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অবকাঠামো তৈরিতে এবং ইসরায়েলকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করতে। অথচ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি স্বল্পমূল্যের আবাসন প্রকল্প নির্মাণ এবং সুলভ স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বিনিয়োগ করা হতো, তবে সাধারণ মার্কিন নাগরিক আরও সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত জীবনযাপন করতে সক্ষম হতো।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এমন অভিযোগ উঠছে যে, ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান নীতি নির্ধারণের ওপর ইসরায়েলের অনেক বড় প্রভাব এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু দিনশেষে সত্যিটা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী প্রধান প্রধান খাত ইসরায়েলের আঞ্চলিক নৃশংসতার সুবাদে বিপুল পরিমাণ মুনাফা লুটে নিচ্ছে। যেমন—যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রশিল্প পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি ইরানের ওপর ইসরায়েলের আক্রমণের প্রতি অসমর্থন জানাবে না। কারণ এই আক্রমণ তাদের জন্য উন্মোচন করে দিচ্ছে ব্যবসার নতুন দ্বার।

হামলার ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘ইসরায়েল ও তার মিত্র শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে এই হামলার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, নিশ্চয়ই এ অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তেল আবিবকে সম্পূর্ণ সহায়তা দিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি। তবে যে মূল্যই তাদের দিতে হোক না কেন, এর ভেতর থেকে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ঠিকই ফায়দা আদায় করে নেবে বলে ধরে নেওয়া যায়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘর্ষগুলোতে দিনশেষে আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর পরাশক্তিগুলো নিজেদের লভ্যাংশটা যথাযথই বুঝে নেয়।

লেখক: আমেরিকান সাংবাদিক, কলামিস্ট ও লেখক। নিবন্ধটি আলজাজিরার মতামত বিভাগ থেকে অনুবাদ করেছেন অ্যালেক্স শেখ

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”