খুঁজুন
, ,

যুদ্ধ থামাতে নয়, দারিদ্র্য দূর করলেই আসবে শান্তি

মোহাম্মদ ফাছিহ-উল ইসলাম শাইয়্যান
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ থামাতে নয়, দারিদ্র্য দূর করলেই আসবে শান্তি

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলতে আমরা কী বুঝি? সীমান্তে সেনা, আকাশে যুদ্ধবিমান, সমুদ্রে নৌবহর—এ দৃশ্যই আমাদের মানসচক্ষে ভাসে। জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, যা নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়— ক্ষুধার্ত, বেকার ও হতাশ জনগোষ্ঠী নিয়ে কি কোনো রাষ্ট্র নিরাপদ থাকতে পারে?

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বাস্তবতা বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির ওপর নির্ভরশীল। আর এ স্থিতিশীলতার ভিত্তি হলো দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবিকার নিরাপত্তা।

বাজেটের আয়নায় নিরাপত্তা নীতি: প্রতিরক্ষা বনাম কৃষি

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার ১৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। অন্যদিকে, একই বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৭ হাজার ২১৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ৩.৮ শতাংশ।

এ পরিসংখ্যান আমাদের সামনে একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে—রাষ্ট্র নিরাপত্তার ধারণা এখনো প্রধানত সামরিক খাতে কেন্দ্রীভূত। অথচ দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিনির্ভর।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দের অংশ প্রায় ৫.৮-৬ শতাংশের কাছাকাছি, যা বিশেষজ্ঞদের মতে প্রয়োজনের তুলনায় কম। অর্থাৎ, বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভাগ বাড়ছে না।

কৃষি বাজেট কমে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে

বাজেটে কৃষির অংশ কমে গেলে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। কৃষিতে বিনিয়োগ কমে গেলে উৎপাদন ঝুঁকি বাড়ে, গ্রামীণ দারিদ্র্য বাড়ে, শহরমুখী অভিবাসন বাড়ে এবং সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। ইতিহাস বলছে, খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বহু দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণঅভ্যুত্থান ও সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে গ্রামীণ দারিদ্র্য বাড়া মানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। অর্থনৈতিক হতাশা, রাজনৈতিক চরমপন্থা, সামাজিক বিভাজন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, যা কোনো যুদ্ধবিমান দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

যৌথ কৃষি অবকাঠামো: নতুন ধরনের নিরাপত্তা বিনিয়োগ

এ প্রেক্ষাপটে একটি নতুন নীতিধারণা সামনে আসছে—যৌথ কৃষি অবকাঠামো (Shared Agricultural Infrastructure)। এটি শুধু কৃষি প্রযুক্তি নয়; এটি একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসন কাঠামো, যেখানে সরকার, আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও কৃষকরা যৌথভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তোলে।

এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

ক. স্যাটেলাইটভিত্তিক রোগ ও আবহাওয়া পূর্বাভাস

খ. ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ ও ডেটা প্ল্যাটফর্ম

গ. স্মার্ট কৃষি ভ্যালু চেইন ও বাজার তথ্য ব্যবস্থা

ঘ. আন্তর্জাতিক কৃষি ডেটা শেয়ারিং অবকাঠামো

বাংলাদেশে GEOPOTATO প্রকল্প দেখিয়েছে, স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে আগাম সতর্কতা দিলে ফসল ক্ষতি কমে এবং কৃষকের আয় বাড়ে। অর্থাৎ, কৃষিতে প্রযুক্তি বিনিয়োগ মানে দারিদ্র্য হ্রাস আর দারিদ্র্য হ্রাস মানে সামাজিক স্থিতিশীলতা।

আন্তর্জাতিক ব্যবসা: ভূরাজনৈতিক অংশীদার

আন্তর্জাতিক কৃষি ও প্রযুক্তি কোম্পানির কাছে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি, মূলধন ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। তারা কৃষি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করলে তা শুধু CSR নয়, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশল। স্থিতিশীল কৃষি অর্থনীতি মানে স্থিতিশীল বাজার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মানে বিনিয়োগ নিরাপত্তা। সামাজিক শান্তি মানে সরবরাহ চেইনের ধারাবাহিকতা। অতএব, কৃষি অবকাঠামোতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ একটি নতুন ধরনের শান্তি কূটনীতি।

শান্তি: সামরিক ভারসাম্য নয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা

শান্তি সাধারণত সামরিক ভারসাম্য বা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অর্জিত হয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু ইতিহাস দেখিয়েছে, অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হলে রাজনৈতিক চুক্তি টেকে না। আফগানিস্তান, ইরাক বা দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলোতে রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হয়েছে মূলত অর্থনৈতিক পুনর্গঠন দুর্বল থাকার কারণে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, শান্তি একটি উদ্ভূত সামাজিক অবস্থা, যা দারিদ্র্য হ্রাস, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা থেকে জন্ম নেয়। অর্থাৎ, শান্তি সামরিক বাজেটের মাধ্যমেই শুধু নয়, মানুষের জীবিকার মাধ্যমেও।

বাংলাদেশের জন্য নীতিগত প্রশ্ন

বাংলাদেশ কি প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াবে, নাকি কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৌশলগত বিনিয়োগ করবে? প্রশ্নটি সামরিক বনাম কৃষি নয়; প্রশ্নটি স্বল্পমেয়াদি নিরাপত্তা বনাম দীর্ঘমেয়াদি শান্তি। যদি কৃষি অবকাঠামো, ডিজিটাল কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় আকারে বিনিয়োগ করা হয়, তবে তা—ক. দারিদ্র্য কমাবে; খ. গ্রামীণ স্থিতিশীলতা বাড়াবে; গ. শহরমুখী অভিবাসন কমাবে; ঘ. সামাজিক বিভাজন হ্রাস করবে; ঙ. দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। এগুলোই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রকৃত ভিত্তি।

রাজনৈতিক অর্থনীতির নতুন দর্শন

এ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের প্রচলিত রাজনৈতিক অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে। আমরা দারিদ্র্যকে মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখি; কিন্তু বাস্তবে এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভূরাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি ক্ষুধার্ত রাষ্ট্র কখনো নিরাপদ রাষ্ট্র হতে পারে না, যত যুদ্ধবিমানই থাকুক না কেন।

নিরাপত্তার নতুন সংজ্ঞা

একবিংশ শতাব্দীতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞা বদলাতে হবে। নিরাপত্তা শুধু সীমান্তে নয়; নিরাপত্তা মানুষের পেটে, কৃষকের জমিতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে। যদি বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কৃষি অবকাঠামোকে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তা শুধু উন্নয়ন নয়, একটি টেকসই শান্তি রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে তুলবে। সামরিক বাজেট প্রয়োজন; কিন্তু শান্তির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ।

লেখক: আইটি উদ্যোক্তা

 

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”