খুঁজুন
, ,

তিতুমীর: স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়

মোহাম্মদ হাসান শরীফ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
তিতুমীর: স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়

তিতুমীর নামেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার পুরো নাম মীর নিসার আলী। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ১৮২৭ সালে শুরু হয়ে ১৮৩১ সালে শেষ হয় এ আন্দোলন। সময়ের হিসাবে খুব একটা বড় নয়। কিন্তু এ আন্দোলন যে প্রভাব রেখে গেছে, তা এখনো অনুভূত হয়। তিতুমীরের আন্দোলন এবং কাছাকাছি সময়ে গড়ে ওঠা ফরায়েজি আন্দোলন মিলে যে গণজাগরণের সৃষ্টি করেছিল, তার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

তিনি ১৭৮২ সালে চব্বিশ পরগনার বারাসারের চাঁদপুর নামের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ২৭ জানুয়ারি। আর ১৮৩১ সালে তিনি শাহাদতবরণ করেন। তিনি নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কিন্তু তিনি যে ভালো কুস্তিগিরও ছিলেন, সেটা খুব বেশি প্রচার হয়নি। মনে রাখতে হবে, অনেক পরে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী যুবকরা নানা প্রশিক্ষণে শরীর চর্চার ওপর যে গুরুত্বারোপ করত, সেটা কিন্তু তিতুমীরেরই দান।

গৌতম ভদ্র অভিমত প্রকাশ করেছেন, তিতুর মূল সামাজিক আবেদন ছিল গ্রামের নিম্নকোটির মানুষদের কাছে। যারা জাতিতে তারা যুগী, জোলা আর কৃষক। প্রায় সবাই গরিব। কলভিন বলেছেন, যাদের কিছু হারানোর আছে, তারা তিতুর দলে যোগ দিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি। লক্ষণীয় হিন্দুদের পাশাপাশি তিতুর আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে অত্যাচারী মুসলিম জমিদাররাও। সুতরাং এ আন্দোলন শুধু হিন্দুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল এ অতিশয়োক্তি। যারা গো-হত্যা ইত্যাদির মতো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ খুঁজে পান, তারা পুরোটা দেখছেন না বা দেখতে চাইছেন না। ড. ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন, জমিদারদের শোষণ উৎপীড়নই তিতুমীরের ‘শান্তিপূর্ণ ধর্মসংস্কার আন্দোলনকে ব্যাপক বিদ্রোহে রূপান্তরিত করেছিল। পরে বিদ্রোহ দমিত হলে যে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল তাতে হিন্দু জমিদারদের সঙ্গে মুসলিম জোতদার, মহাজনরা শামিল হয়।

দাড়ি রাখা, লুঙ্গি পরার মাধ্যমে এ আন্দোলনের সদস্যরা তাদের স্বাতন্ত্র্য জাহির করত। তিতু যখন তার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলেন, তখন নিম্নবর্গীয় মুসলমান সমাজের ভেতরেও কাছা দিয়ে ধুতি পরাটাই ছিল সাধারণ দস্তুর। এভাবে ধুতি পরাতে নামাজ আদায়ে কিছু সমস্যা তৈরি হতো। তাই তিতু তহবন্দের আকারে তা পরার অভ্যাসটি চালু করেন। এমন আদেশ বাংলার কৃষক আন্দোলনের আরেক পথিকৃৎ হাজী শরিয়তউল্লাহও দিয়েছিলেন। স্বকীয়তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দাড়িও ছিল একটি উপাদান। এ দাড়ি ঘিরে তিতুমীর এবং তার সহমর্মীদের ওপর ‘দাড়ি ট্যাক্স’ বসানো হয়েছিল। জমিদারি আইনকে ব্রিটিশ কেবল যে হিন্দু-মুসলমানের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরিতেই ব্যবহার করেছিল, তেমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানকে, বিশেষ করে প্রাচীনপন্থিদের সঙ্গে আধুনিকচেতনা, মানসিকতাসম্পন্ন মানুষদের সংঘাত তৈরি করতেও এ জমিদারি আইনকে ব্রিটিশরা ব্যবহার করে।

তিতুমীর বা হাজী শরীয়তুল্লাহরা কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়টি কেন জুড়ে দিয়েছিলেন? তিতুমীরের বিদ্রোহের নাম ছিল ‘তারিক-ই-মুহম্মদিয়া’ আর হাজী শরীয়তুল্লাহটির নাম ছিল ফরায়েজি আন্দোলন। নামকরণকে ব্যবহার করে আন্দোলন দুটিকে এমনভাবে প্রচার করা হয়, উভয়টিই ছিল নিছক ধর্মীয় শুদ্ধি আন্দোলন। ধর্ম অবশ্যই ছিল। তবে এ ব্যাপারে গৌতম ভদ্রের মন্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার ইমান ও নিশানে দেখিয়েছেন, সমাজের নিম্নবর্গের মানুষ চরম নির্যাতনের মধ্যে মসজিদ আর ইসলামের মধ্যেই তাদের অভয়ের জায়গা পেয়েছিল। আন্দোলনের নেতারাও এটাকে হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

অবশ্য মনে রাখতে হবে, ধর্মকে ব্রিটিশরাও ব্যবহার করত। তারা কিন্তু কেবল শোষণ, লুণ্ঠন করতেই এখানে আসেনি। তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্ম প্রচার ও প্রসার। সেই যে প্রথম ইউরোপিয়ান হিসাবে ভাস্কো ডা গামা উপমহাদেশের এসেছিলেন, তার সঙ্গেও ছিল বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্ট প্রচারক। ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের প্রধান কারণই ছিল খ্রিষ্টধর্ম। মহাবিদ্রোহ নিয়ে ব্রিটিশদের প্রশ্নের জবাবে স্যার সৈয়দ আহমদ পর্যন্ত স্বীকার করেছিলেন, ভারতবর্ষের বিদ্রোহের মূলে ছিল ওই ব্যাপক জনবিশ্বাস যে, ব্রিটিশরা জনসাধারণকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করতে এবং তাদের ওপর ইউরোপীয় রীতিনীতি চাপিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে গৌতম ভদ্রের মন্তব্যটির দিকেও নজর রাখতে হবে। তিনি তার ইমান ও নিশানে দেখিয়েছেন, তিতুমীর-সম্পর্কিত চালু বইগুলোতে প্রচলিত একটি ভুল ধারণার উল্লেখ করতে হয়। তা হলো, তিতুমীরকে ‘ওহাবি’ বলা। এ নামটি তিতুমীরের সময় বড় একটা চালু ছিল না। উনিশ শতকের অষ্টম দশকে উইলিয়াম হান্টারই এ নামটি ব্যাপকভাবে চালু করেন। যে কোনো ইংরেজবিরোধী মুসলিমের প্রতি শব্দটি প্রয়োগ করা হতো, গোঁড়া ধর্মান্ধ আর বিদ্রোহী মুসলমানের বদলি শব্দ হিসাবে গৃহীত হতো।

ব্রিটিশদের খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের আগ্রহ নিয়ে রেজা আসলান নো গড বাট গড গ্রন্থে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে প্রকৃতপক্ষে, ১৮৫৭ সালে যে বাঙালি সৈন্যরা ভারতবর্ষে বিদ্রোহের সূচনা করেছিল, তারা শুধু তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনকারী উপনিবেশিক নীতির কারণেই ক্ষুব্ধ ছিল না। বরং, তারা নিশ্চিত ছিল এবং তা যথার্থই ছিল, যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তাদের জোর করে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে। তাদের কমান্ডিং অফিসার সব সামরিক ক্লাসে প্রকাশ্যে সুসমাচার (গসপেল) প্রচার করতেন, যা ছিল উদ্বেগের একটি কারণ। কিন্তু, সিপাহিরা যখন জানতে পারল, তাদের রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মাখানো হয়েছে, যা হিন্দু ও মুসলিম উভয়কেই অপবিত্র করে দেবে, তখন তাদের সেই চরম আশঙ্কা সত্যে পরিণত হলো। নাগরিক অবাধ্যতার নিদর্শন হিসাবে একদল সৈন্য ওই কার্তুজ ব্যবহার করতে অস্বীকার করে। এর জবাবে ব্রিটিশ কমান্ডাররা তাদের শিকলবন্দি করেন, সামরিক কারাগারে নিক্ষেপ করেন। ব্রিটিশরা যে ‘সভ্যকরণ মিশন’ চালু করেছিল বিশ্বজুড়ে, সেটাও কার্যত ছিল খ্রিষ্টকরণ মিশন। ডি বিয়ার্স ডায়মন্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং এক সময়কার আধুনিক দক্ষিণ আফ্রিকার কার্যত একনায়ক সেসিল যেমনটি ঘোষণা করেছিলেন : ‘আমরা ব্রিটিশরা পৃথিবীর প্রথম জাতি এবং আমরা বিশ্বের যত বেশি অংশে বাস করব, মানবজাতির জন্য তা তত বেশি মঙ্গলজনক হবে।’

এই তথাকথিত ‘সভ্য করার মিশন’-এর অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল, এটি যতটা না সদিচ্ছা থেকে প্রণোদিত ছিল, তার চেয়েও বেশি এটি একটি ‘খ্রিষ্টান করার মিশন’ দিয়ে আচ্ছন্ন ছিল। মাদ্রাজের গভর্নর স্যার চার্লস ট্রেভেলিয়ানের ভাষায়, যার মূল লক্ষ ছিল ‘স্থানীয়দের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’ ভারতবর্ষে খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকদের সরকারের সর্বোচ্চ পদগুলোতে বসানো হয়েছিল। এমনকি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি স্তরেও তাদের উপস্থিতি ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক চার্লস গ্র্যান্ট (১৮৫৮ সাল পর্যন্ত যার হাতে সরকারের প্রায় সব ক্ষমতা ছিল) নিজে একজন সক্রিয় খ্রিষ্টান মিশনারি ছিলেন। তিনি এবং তার বেশিরভাগ দেশবাসী বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর ব্রিটেনকে ভারতবর্ষের শাসনভার দিয়েছেন, যাতে এ দেশকে পৌত্তলিকতার অন্ধকার থেকে বের করে এনে খ্রিষ্টের আলোর পথে পরিচালিত করা যায়। উপমহাদেশের প্রায় অর্ধেক স্কুল পরিচালনা করত গ্র্যান্টের মতো মিশনারিরা, যারা স্থানীয়দের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার জন্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য পেত।

অবশ্য সব ঔপনিবেশিক শাসক ব্রিটেনের এ মিশনারি এজেন্ডার সঙ্গে একমত ছিলেন না। ১৮৪২-১৮৪৪ সাল পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করা লর্ড এলেনবরো বারবার তার দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন, সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের এই উৎসাহ শুধু সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি ব্যাপক জনরোষ এবং সম্ভবত প্রকাশ্য বিদ্রোহের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও এলেনবরোও সম্ভবত ট্রেভেলিয়ানের সঙ্গে একমত হতেন, যিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ভারতবর্ষের ধর্ম ‘এত বেশি অনৈতিকতা এবং শারীরিক অসারতার সঙ্গে জড়িত, ইউরোপীয় বিজ্ঞানের আলোর সামনে এটি মুহূর্তেই ভেঙে পড়বে।’

তিতুমীর তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হননি। তবে তাই বলে তার বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছে, তাও বলা যাবে না। তার এবং অন্যদের আন্দোলনের রেশ ধরেই ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্রিটিশরাজকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আর এর রেশ ধরেই আরও পরে আমাদের স্বাধীনতা আসে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে কৃষক বিদ্রোহের যে অল্প কয়েকজন নেতা অবহেলিত নন, তাদের মধ্যে তিতুমীর একজন। স্কুলপাঠ্য ইতিহাসে তার জায়গা আছে, তাকে ঘিরে লেখা হয়েছে নাটক, উপন্যাস। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ইবনে মিজান ‘শহীদ তিতুমীর’ নামে সিনেমাও বানিয়েছিলেন। তবে একটু খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যাবে, তিতুমীর সম্পর্কে জানি আমরা সবচেয়ে কম। এ অভাবটাই আমাদের পূরণ করতে হবে।

মোহাম্মদ হাসান শরীফ : সাংবাদিক

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।

সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামে টয়লেট থেকে ফেরার পথে সাপের কামড়ে সরস্বতী মণ্ডল (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সরস্বতী মণ্ডল ওই গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের টয়লেট থেকে ফেরার সময় সরস্বতী মণ্ডল অসাবধানতাবশত একটি ইঁদুরের গর্তে পা দেন। এ সময় গর্তে থাকা একটি সাপ তাঁকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সকাল আটটার দিকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এ মৃত্যুর ঘটনায় পিসনাইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।