খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

গুলশানে ফ্ল্যাট থাকলেও ‘নেই’ বলে পূর্বাচলে প্লট নেন টিউলিপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৬ এএম
গুলশানে ফ্ল্যাট থাকলেও ‘নেই’ বলে পূর্বাচলে প্লট নেন টিউলিপ

গুলশান ইস্টার্ন হাউজিংয়ে প্লটের মালিক ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহেনার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। তদুপরি ঢাকা বা তার আশপাশে কোনো ফ্ল্যাট বা প্লট নেই দেখিয়ে পূর্বাচলে ১০ কাঠা প্লট নেন তিনি।

 

 

এ সংক্রান্ত মামলায় রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কয়েকজন সাক্ষী একথা জানান।

এদিন আদালতে সাক্ষ্য দেন ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফরহাদুজ্জামান, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের অপারেটর শেখ শমশের আলী, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ সদস্য হিমেল চন্দ্র দাস এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার জাহান।

জবানবন্দিতে তারা আরও বলে, টিউলিপ সিদ্দিক ফ্ল্যাটটি পরবর্তীতে তার বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তিকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হস্তান্তরের দাবি করেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনবিহীন দলিল দিয়ে হস্তান্তর আইনগতভাবে কার্যকর নয়। তাই এখনো তিনি এই ফ্ল্যাটের মালিক।

আসামিরা পলাতক থাকায় জেরা হয়নি। আদালত ৬ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মঈনুল হাসান (লিপন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৩ আগস্ট তিনটি মামলার তিনজন বাদীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

এর আগে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ছয় মামলা করে দুদক। যার মধ্যে শেখ রেহানা ও তার সন্তানদের নামে তিনটি মামলা হয়। চার্জগঠন শুনানির সময়ে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

তিন মামলার একটিতে টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জন, আরেকটিতে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তি, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ জন এবং আরেকটিতে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।

গত ৩১ জুলাই এসব মামলায় একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

এনটিআরসিএতে বড় নিয়োগ: ১৩,৫৯৯ পদে আবেদন শুরু আজ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৭ এএম
এনটিআরসিএতে বড় নিয়োগ: ১৩,৫৯৯ পদে আবেদন শুরু আজ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সুপারসহ ১৩ হাজার ৫৯৯টি প্রশাসনিক পদে ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬’- এর অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে।

নতুন প্রকাশিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের প্লাটফরম হালনাগাদ করার সুবিধার্থে এ সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

এনটিআরসিএ’র পরিচালক (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটি মঙ্গলবার এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট নতুন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে।

জারিকৃত এ নতুন নীতিমালার আলোকে এনটিআরসিএ’র নিয়োগ পরীক্ষার অনলাইন আবেদন গ্রহণের প্লাটফরমটি হালনাগাদ করার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

অনিবার্য কারণে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এনটিআরসিএ’র তথ্য অনুযায়ী, মাউশির স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে মোট শূন্যপদ ১০ হাজার ২৭৮টি। এরমধ্যে স্নাতক (পাস) কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪, উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ পদে শূন্যপদ রয়েছে ৭৬৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ তিন হাজার ৯২৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ তিন হাজার ৮৭২টি। এছাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ ৫০৪টি।

এনটিআরসিএ আরো জানিয়েছে, মাদরাসা অধিদফতরের আওতাধীন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষের শূন্যপদ ৩৪টি এবং উপাধ্যক্ষ পদে শূন্য রয়েছে ৫৩টি। ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদ ২০২টি, ফাজিলের উপাধ্যক্ষ পদ ৩৪৩টি, আলিমের অধ্যক্ষ পদ শূন্য ২১৯টি, উপাধ্যক্ষ পদ ৩৭৭টি। এছাড়া দাখিল মাদরাসায় সুপার পদ শূন্য ৮৯১টি এবং সহকরী সুপারের এক হাজার চারটি শূন্যপদ রয়েছে। সবমিলিয়ে মাদরাসায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্যপদ তিন হাজার ১৩১টি।

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীন ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য অধ্যক্ষ পদ ১১০টি, ভোকেশনালে শূন্য সুপার পদ ৪০টি এবং সহকারী সুপার ৪০টি। সবমিলিয়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদ শূন্য ১৯০টি বলে জানায় এনটিআরসিএ।

এনটিআরসিএ’র অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীদের http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট https://ntrca.gov.bd এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে।

ইশতেহার প্রকাশ করল জামায়াত, অগ্রাধিকার পেল যে ২৬ ইস্যু?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৪ পিএম
ইশতেহার প্রকাশ করল জামায়াত, অগ্রাধিকার পেল যে ২৬ ইস্যু?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঘোষিত ইশতেহারে সরকার গঠন করলে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছে দলটি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ ২৬টি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে।

এছাড়া ৪১টি ভিশন বিষয়েও ইশতেহারে সামগ্রিক আলোচনা করেছে জামায়াত।

অগ্রাধিকার পাবে ২৬ বিষয়

১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।

২ বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন।

৩. যুবকদের ক্ষমতায়ণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া।

৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।

৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ।

৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।

৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।

৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ।

৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ।

১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।

১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা।

১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।

১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা।

১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া।

১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি।

১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ; বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা।

১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।

১৯. আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা।

২১. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা।

২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সঙ্গে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা।

২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা।

২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা।

২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা।

‘নারী জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে’ – তারেক রহমান

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম
‘নারী জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে’ – তারেক রহমান

ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

ভাষণে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়—তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।

তারেক রহমান ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙনের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষিখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক পাওয়া যাবে।

নারী ও শিশুদের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী—এই জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পানির সংকট নিরসনে ফরিদপুর অঞ্চলে পদ্মা ব্যারেজ (সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো) নির্মাণের আশ্বাস দেন ‘তারেক’। ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।

একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এক গুপ্ত দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। ইতিহাস সাক্ষী—১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক।”

ভাষণে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে ‘তারেক রহমান’ বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ—অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও।”

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের এই জনসমাগমই প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়।

জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ফরিদপুরের জনসমাগম প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়। শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন পর ফরিদপুরে এমন বড় রাজনৈতিক সমাবেশ নতুন গতি এনে দিয়েছে।