খুঁজুন
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ, ১৪৩২

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বর্ষপূর্তিতে সালথায় জামায়াতের গণমিছিল

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ৮:২৩ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বর্ষপূর্তিতে সালথায় জামায়াতের গণমিছিল

ফরিদপুরের সালথায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সালথা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপুর্তি উপলক্ষে বিজয় মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫ টায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে মিছিলটি শুরু করে সদর বাজার এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাইপাস সড়কে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রফেসর আবুল ফজল মুরাদের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী (দাড়িপাল্লা) মাওলানা সোহরাব হোসেন, ফরিদপুর জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, জেলা জামায়াতের মজলিসে সুরা সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন, উপজেলা জাময়াতের নায়েবে আমীর মো. আজিজুর রহমান মজনু, সেক্রেটারী তরিকুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি চৌধুরী মাহবুব আলী নসরু সহ জামায়াত ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর আবুল ফজল মুরাদ বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪ বছর কিন্ত আমরা এই ৫৪ বছরে আমরা অর্থনৈতিক মুক্তি পাইনি। এই ৫৪ বছরে আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা পাইনি, এই ৫৪ বছরে আমরা প্রকৃত স্বাধীন হতে পরিনি। আমরা যদি প্রকৃত স্বাধীনতা পেতে চাই, আমরা যদি শান্তিতে বসবাস করতে চাই, এদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খিৃষ্টান মুসলিম সহ যত শ্রেণি পেশার মানুষ আছে সকল মানুষ যদি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যবসায়ীক স্বাধীনতা, সকল প্রকার স্বাধীনতা পেতে চাই তাহলে আমাদের কোরআনের দিকে ফিরে আসতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি ক্ষমতায় যায়, এদেশের ১৮ কোটি মানুষ ৩৬ কোটি হাত। সকলকে কাজের ব্যবস্থা করা হবে, কোন মানুষ বেকার থাকবে না, শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারি করা হবে, চিকিৎসা ব্যবস্থা সরকারি করা হবে। আমরা এদেশে অনেক শাসন দেখেছি বর্তমানে দেশের ৮০% মানুষ ইসলামের পক্ষে রায় দিচ্ছে।

ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের মাঠে হামলার অভিযোগ, কাফনের কাপড় পরে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪১ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের মাঠে হামলার অভিযোগ, কাফনের কাপড় পরে ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ তুলে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় জোট।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্যতিক্রমধর্মী এই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাফনের কাপড় পরিধান করেন।

সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত রিকশা মার্কার এমপি প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওরফে ‘ধলা হুজুর’-এর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ তুলে ধরে জোটের নেতারা বলেন, এটি শুধু একজন প্রার্থীর ওপর হামলা নয়, বরং নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী। তিনি বলেন, “গত ৭ ফেব্রুয়ারি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় সিংহপ্রতাপ বাজার এলাকায় পৌঁছালে পরিকল্পিতভাবে আমার গাড়িবহরে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।”

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিপক্ষের কিছু নেতাকর্মী উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। এতে করে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ি এবং স্বাভাবিক প্রচারণা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, “নির্বাচনী মাঠে ভয় দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতা এমন অপতৎপরতাকে উৎসাহিত করছে।” তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ করার দাবি জানান।

কাফনের কাপড় পরে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে
আকরাম আলীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। তাঁদের ভাষায়, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু যদি আমাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করবো—এই বার্তাই আমরা দিতে চেয়েছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা। বক্তারা বলেন, ফরিদপুর-২ আসনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

সেনা বাহিনী সূত্র জানায়, ঘটনার দিন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন সেনাবাহিনী। এ ঘটনার পর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই-পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, “মাওলানা আকরাম আলী নির্বাচনী কাজে সিংহপ্রতাপ বাজারে লিফলেট বিতরণ করছিলেন। বাজারের পাশে বিএনপির একটি অফিস থাকায় সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ধলা হুজুরকে দেখে ধানের শীষের মিছিল দেন, ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ধলা হুজুর সেনা ক্যাম্পে ফোন করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাঁর গাড়ির ওপর সরাসরি হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও ধানের শীষের কিছু নেতাকর্মী তখন উত্তেজিত ছিলেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সালথা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ভোটের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টহল অব্যাহত আছে। এই নির্বাচন নিয়ে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ স্লোগান, মিছিল ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে যায়।

১১ দলীয় জোটের নেতারা দাবি করেন, নির্বাচনের মাঠে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু একটি পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে বলা হয়, “আমরা সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। কিন্তু যদি আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে রাজপথে থাকবো।”

‎‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়তে চাই’ : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১০ এএম
‎‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়তে চাই’ : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ধানের শীষ হচ্ছে উন্নয়নের প্রতীক। এই প্রতীকে জয়ী হলে সালথা–নগরকান্দা এলাকায় শিল্পায়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামে নুরুদ্দীন মাতুব্বরের বাড়িতে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেন, “আপনাদের বোন হিসেবে আমি ওয়াদা করছি—রাস্তা হবে, ব্রিজ ও কালভার্ট হবে, হাসপাতাল হবে। আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে এবং এই অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে, যাতে আমার ভাই-বোনেরা এখানেই চাকরি পায়।”

‎ভোটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাতে ১২টার পর গ্রামে যেসব লোক ঢোকে, তারা সাধারণত ভালো উদ্দেশ্যে আসে না। তাই ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পাহারা দিতে হবে। ১১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত—রেজাল্ট শিট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত—ধানের শীষের একটি ভোটও কবজের মতো করে রক্ষা করতে হবে।”

‎তিনি আরও বলেন, “আমি সংসদ সদস্য হতে পারলে এলাকার জনগণই হবে উন্নয়নের প্রধান শক্তি। এলাকার মানুষই সমস্যার সমাধান করবে। জনগণই সালথা–নগরকান্দা পরিচালনা করবে। আমরা চাই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সালথা–নগরকান্দা।”

‎গট্টি ইউপি সদস্য নুরুদ্দীন মাতুব্বরের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ডা. এইচ এম শামসুদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদাররেস আলী ইছা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, সাবেক গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন তারা মিয়া, রেজাউর রহমান চয়ন মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু, গট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বিল্লাল মাতুব্বর, বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ নুরু, আব্দুর রব, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, মিরান হুসাইনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তরুণ ভোট থেকে নৌকার সমর্থন—যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৮ এএম
তরুণ ভোট থেকে নৌকার সমর্থন—যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব?

“আমরা একটা সুরক্ষিত বাংলাদেশ চাই। নারী পুরুষ জনগণ সবার জন্য ভাল চাই। জামায়াত আসুক, এনসিপি আসুক, স্বতন্ত্র কেউ হোক বা বিএনপি আসুক যেটাই হোক- আমাদের সবগুলো অধিকার যাতে পুরণ হয়।”

এই মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তারের। এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন তিনি।

এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী হবে, এ প্রশ্নে বিবিসি বাংলাকে ফারজানা বলেন, “নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য এবং দেশের সংস্কার। এছাড়া আমাদের যে বাক স্বাধীনতা, ওইটা যেন এখনের মত ঠিক থাকে- এটাই আমরা চাই। আর আমাদের যাতে মেয়ে হিসেবে নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা হয়।”

এবার নির্বাচনে ফারজানার মতো ভোটার আছে মোট ভোটের তিনভাগের একভাগ। বিগত তিনটি নির্বাচনে অনিয়ম এবং একতরফা ভোটের কারণে এবার তরুণ ভোটারদের একটা বড় অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফারাজানার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আড্ডায় ছিলেন ফারহানা খানম। তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী এ প্রশ্নে স্বল্প কথায় তার জবাব ছিল-

“যাতে নারীদেরকে সুন্দর চোখে দেখে, সেইফ থাকে, দুর্নীতি যাতে কম হয়, রেইপ যাতে কম হয়।”

দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্র বলছেন, “বেকার যারা আছে, তাদের চাকরির সুযোগ, যারা ব্যবসা করতে চায় তরুণ, তাদের উদ্বুদ্ধ করা, ঋণ দেয়া। সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত চাইতেছে তরুণরা এরপর ঘুষ ছাড়া চাকরি।”

ভোটের আগে বাংলাদেশে এগুলোই মোটামুটি সার্বজনীন ইস্যু। শিক্ষার্থীদের কথায় দেশের আপামর মানুষের প্রত্যাশারই একটা প্রতিফলন রয়েছে। এই তরুণরাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তরুণদের একটা আক্ষেপ দেখা গেল অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে। অনেকে বলছেন, এ সরকার তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানার কথায়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে পদক্ষেপগুলা ওইটার মধ্যেও বেশি একটা পরিবর্তন দেখা গেল না। সবাই এমন একটা ভাব করতেছে যে আমলা, সচিব বা সামরিক বাহিনীর কারণে চেঞ্জগুলো হলো না। ইন দ্য এন্ড রাষ্ট্রের অবকাঠামো ভেতরের দিক থেকে আমাদের যে ন্যায্য দাবিটা ছিল, ভেতর থেকে সংস্কারটা হবে সেটা হলো না।”

তরুণ ভোট ফ্যাক্টর

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এই তরুণ ভোটারদের ভাবনায় কী আছে, সেটি নির্বাচন ছাড়া বোঝা অসম্ভব। কারণ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটের প্রকৃত চিত্র সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ তরুণ ভোট নিয়ে বলেন, এই ভোট নির্বাচনে জয় পরাজয়ে প্রধান নিয়ামক হবে।

“তারা বিপুল সংখ্যায়, তারা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে এবং তাদের মনে কী আছে আমরা জানি না। বিএনপির মধ্যে অনেক তরুণ আছে, জামায়াতের মধ্যেও অনেক তরুণ আছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলিতে আমরা একধরনের প্রবণতা আমরা দেখেছি। মাদ্রাসাগুলিতে এক ধরনের প্রবণতা আছে। কাজে তরুণ ভোটাররা তাদের টার্ন আউটটা বেশি হবে।”

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারাতো (তরুণ ভোটার) আগে ভোট দেন নাই অতএব তাদের ভোটিং প্যাটার্ন নিয়ে কোনো ধারণা কারো নেই।

“সেইজন্যই এইবারের নির্বাচনটা সবথেকে বেশি আনসার্টন সবার কাছে মনে হচ্ছে। কারণ তারা হচ্ছে থার্টি পার্সেন্ট অব ভোটারস, এবং তাদের ভোটিং পার্সেন্টেজ অনেক বেশি হবে, তাদের ভোটিং রেকর্ডজ কিছু নাই কোনদিকে তারা ভোট দিবে। এছাড়া তাদের খুবই হাই এক্সপেকটেশন আছে এবং তারা নতুন বাংলাদেশ করতে চান।”

নারী ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকই হলো নারী। এই ভোট বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিশেষ গরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মহিউদ্দিন আহমদের কথায়, নারীরাও কিন্তু একটা সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।

“তাদের বিপুল উপস্থিতি যদি হয় এবং সেভাবে যদি একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায় তাহলে এটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। এখন নারীদের উপস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে। গোলমালের আশঙ্কা থাকলে তারা অনেকেই যাবেন না। হ্যারাসড হতে চান না কেউ।”

ভোটের দিন পরিস্থিতি কেমন হয়, সেটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। ভোটার উপস্থিতিতেও নিরাপত্তার ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যাচ্ছে যা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান।

” অলরেডি যেসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে আপনারা সকালে গিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেন। এখন যদি দুইটা বড় অ্যালায়েন্স তাদের দুই দলেরই কর্মী যদি গিয়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে যায় চেষ্টা করে এবং করবে হয়তো বা তখন যে একটা মুখোমুখী সংঘর্ষ হবে না সেটাতো বলা যাচ্ছে না। আর যদি সকালের দিকে এরকম একটা সংঘর্ষ হয় তাহলে তো নারী ভোটাররা ভয়ের চোটে আসতে চাইবে না।”

বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা দন্দ্বে জড়িয়ে পরছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান মনে করেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে এবং সহিংসতা নিয়ে দুটি গ্রুপের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। প্রথমত নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

ফ্যাক্টর নৌকার ভোট

এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাদের ভোটব্যাংক নিয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। নৌকার ভোটাররা অনেক আসনে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলেও বিশ্লেষণ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। তবে সমর্থকরা যাবেন সেক্ষেত্রে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিবেচনাই কাজ করবে।

“আওয়ামী লীগকে আগে যারা ভোট দিত মনে করেন আওয়ামী লীগকে যারা ২০০৮ পর্যন্ত ভোট দিয়েছে এর পরেতো ভোট হয় নাই। তো তারা দেখবে অনেকে নানান বিবেচনা কাজ করবে, আমরা যদি ম্যাক্রো লেভেলে চিন্তা করি তাইলে হয়তো তারা চিন্তা করবে যে কম ক্ষতিকর তাকে হয়তো তারা ভোট দিবে। এখন তাদের চোখে যদি মন্দের ভালো হয় বিএনপি তাকে তারা ভোট দিবে যদি তারা যদি মনে করে মন্দের ভালো জামায়াতে ইসলামী তাকে তারা ভোট দেবে।”

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহানের মত, নৌকার সমর্থক ভোটারদের ভোট কিছু কিছু আসনে জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তার মূল্যায়ন নৌকার সঙ্গে প্রবাসী ভোট ক্ষেত্র বিশেষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

“যদি বিশ হাজার ভোটের মারফতে সিট এদিক সেদিক হতে পারে সেক্ষেত্রে প্রবাসী ভোট একটা ভূমিকা রাখতে পারে। সেরকমভাবে আমি বলবো আওয়ামী লীগ যে সাপোর্ট আছে ট্রেডিশনাল আওয়ামী লীগ সাপোর্ট সেগুলো কোনো কোনো আসনে ওইভোটগুলা মার্জিন-এই যে টেন পার্সেন্ট এডিশনাল ভোট যদি পড়ে সেটাই জয় পরাজয় নির্ধারণ করবে।”

রওনক জাহানের মতে, এবার নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণাও ভোটের দিনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন অতীতে কোনো নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার রোল এতটা প্রাধান্য ছিল না।

“এখন সোশ্যাল মিডিয়া এআই জেনারেটেড অনেক মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেয়া হবে, আরো বেশি কাদা ছোড়াছুড়ি হবে এবং সেদিন যে আসলে সহিংসতা না হলেও সহিংসতা হচ্ছে- এরকম নানান কিছু প্রচার বা অপপ্রচার হবে। এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কাউন্টার করার জন্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইসি তাদের কী ধরনের প্রস্তুতি আছে- সেটা বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত যেটা দেখা যাচ্ছে যে, কোঅর্ডিনেটেডভাবে কাজ হচ্ছে না।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা