খুঁজুন
, ,

তরুণ ভোট থেকে নৌকার সমর্থন—যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
তরুণ ভোট থেকে নৌকার সমর্থন—যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব?

“আমরা একটা সুরক্ষিত বাংলাদেশ চাই। নারী পুরুষ জনগণ সবার জন্য ভাল চাই। জামায়াত আসুক, এনসিপি আসুক, স্বতন্ত্র কেউ হোক বা বিএনপি আসুক যেটাই হোক- আমাদের সবগুলো অধিকার যাতে পুরণ হয়।”

এই মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তারের। এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন তিনি।

এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী হবে, এ প্রশ্নে বিবিসি বাংলাকে ফারজানা বলেন, “নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য এবং দেশের সংস্কার। এছাড়া আমাদের যে বাক স্বাধীনতা, ওইটা যেন এখনের মত ঠিক থাকে- এটাই আমরা চাই। আর আমাদের যাতে মেয়ে হিসেবে নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা হয়।”

এবার নির্বাচনে ফারজানার মতো ভোটার আছে মোট ভোটের তিনভাগের একভাগ। বিগত তিনটি নির্বাচনে অনিয়ম এবং একতরফা ভোটের কারণে এবার তরুণ ভোটারদের একটা বড় অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফারাজানার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আড্ডায় ছিলেন ফারহানা খানম। তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী এ প্রশ্নে স্বল্প কথায় তার জবাব ছিল-

“যাতে নারীদেরকে সুন্দর চোখে দেখে, সেইফ থাকে, দুর্নীতি যাতে কম হয়, রেইপ যাতে কম হয়।”

দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্র বলছেন, “বেকার যারা আছে, তাদের চাকরির সুযোগ, যারা ব্যবসা করতে চায় তরুণ, তাদের উদ্বুদ্ধ করা, ঋণ দেয়া। সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত চাইতেছে তরুণরা এরপর ঘুষ ছাড়া চাকরি।”

ভোটের আগে বাংলাদেশে এগুলোই মোটামুটি সার্বজনীন ইস্যু। শিক্ষার্থীদের কথায় দেশের আপামর মানুষের প্রত্যাশারই একটা প্রতিফলন রয়েছে। এই তরুণরাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তরুণদের একটা আক্ষেপ দেখা গেল অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে। অনেকে বলছেন, এ সরকার তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানার কথায়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে পদক্ষেপগুলা ওইটার মধ্যেও বেশি একটা পরিবর্তন দেখা গেল না। সবাই এমন একটা ভাব করতেছে যে আমলা, সচিব বা সামরিক বাহিনীর কারণে চেঞ্জগুলো হলো না। ইন দ্য এন্ড রাষ্ট্রের অবকাঠামো ভেতরের দিক থেকে আমাদের যে ন্যায্য দাবিটা ছিল, ভেতর থেকে সংস্কারটা হবে সেটা হলো না।”

তরুণ ভোট ফ্যাক্টর

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এই তরুণ ভোটারদের ভাবনায় কী আছে, সেটি নির্বাচন ছাড়া বোঝা অসম্ভব। কারণ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটের প্রকৃত চিত্র সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ তরুণ ভোট নিয়ে বলেন, এই ভোট নির্বাচনে জয় পরাজয়ে প্রধান নিয়ামক হবে।

“তারা বিপুল সংখ্যায়, তারা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে এবং তাদের মনে কী আছে আমরা জানি না। বিএনপির মধ্যে অনেক তরুণ আছে, জামায়াতের মধ্যেও অনেক তরুণ আছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলিতে আমরা একধরনের প্রবণতা আমরা দেখেছি। মাদ্রাসাগুলিতে এক ধরনের প্রবণতা আছে। কাজে তরুণ ভোটাররা তাদের টার্ন আউটটা বেশি হবে।”

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারাতো (তরুণ ভোটার) আগে ভোট দেন নাই অতএব তাদের ভোটিং প্যাটার্ন নিয়ে কোনো ধারণা কারো নেই।

“সেইজন্যই এইবারের নির্বাচনটা সবথেকে বেশি আনসার্টন সবার কাছে মনে হচ্ছে। কারণ তারা হচ্ছে থার্টি পার্সেন্ট অব ভোটারস, এবং তাদের ভোটিং পার্সেন্টেজ অনেক বেশি হবে, তাদের ভোটিং রেকর্ডজ কিছু নাই কোনদিকে তারা ভোট দিবে। এছাড়া তাদের খুবই হাই এক্সপেকটেশন আছে এবং তারা নতুন বাংলাদেশ করতে চান।”

নারী ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকই হলো নারী। এই ভোট বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিশেষ গরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মহিউদ্দিন আহমদের কথায়, নারীরাও কিন্তু একটা সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।

“তাদের বিপুল উপস্থিতি যদি হয় এবং সেভাবে যদি একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায় তাহলে এটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। এখন নারীদের উপস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে। গোলমালের আশঙ্কা থাকলে তারা অনেকেই যাবেন না। হ্যারাসড হতে চান না কেউ।”

ভোটের দিন পরিস্থিতি কেমন হয়, সেটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। ভোটার উপস্থিতিতেও নিরাপত্তার ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যাচ্ছে যা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান।

” অলরেডি যেসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে আপনারা সকালে গিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেন। এখন যদি দুইটা বড় অ্যালায়েন্স তাদের দুই দলেরই কর্মী যদি গিয়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে যায় চেষ্টা করে এবং করবে হয়তো বা তখন যে একটা মুখোমুখী সংঘর্ষ হবে না সেটাতো বলা যাচ্ছে না। আর যদি সকালের দিকে এরকম একটা সংঘর্ষ হয় তাহলে তো নারী ভোটাররা ভয়ের চোটে আসতে চাইবে না।”

বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা দন্দ্বে জড়িয়ে পরছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান মনে করেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে এবং সহিংসতা নিয়ে দুটি গ্রুপের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। প্রথমত নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

ফ্যাক্টর নৌকার ভোট

এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাদের ভোটব্যাংক নিয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। নৌকার ভোটাররা অনেক আসনে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলেও বিশ্লেষণ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। তবে সমর্থকরা যাবেন সেক্ষেত্রে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিবেচনাই কাজ করবে।

“আওয়ামী লীগকে আগে যারা ভোট দিত মনে করেন আওয়ামী লীগকে যারা ২০০৮ পর্যন্ত ভোট দিয়েছে এর পরেতো ভোট হয় নাই। তো তারা দেখবে অনেকে নানান বিবেচনা কাজ করবে, আমরা যদি ম্যাক্রো লেভেলে চিন্তা করি তাইলে হয়তো তারা চিন্তা করবে যে কম ক্ষতিকর তাকে হয়তো তারা ভোট দিবে। এখন তাদের চোখে যদি মন্দের ভালো হয় বিএনপি তাকে তারা ভোট দিবে যদি তারা যদি মনে করে মন্দের ভালো জামায়াতে ইসলামী তাকে তারা ভোট দেবে।”

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহানের মত, নৌকার সমর্থক ভোটারদের ভোট কিছু কিছু আসনে জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তার মূল্যায়ন নৌকার সঙ্গে প্রবাসী ভোট ক্ষেত্র বিশেষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

“যদি বিশ হাজার ভোটের মারফতে সিট এদিক সেদিক হতে পারে সেক্ষেত্রে প্রবাসী ভোট একটা ভূমিকা রাখতে পারে। সেরকমভাবে আমি বলবো আওয়ামী লীগ যে সাপোর্ট আছে ট্রেডিশনাল আওয়ামী লীগ সাপোর্ট সেগুলো কোনো কোনো আসনে ওইভোটগুলা মার্জিন-এই যে টেন পার্সেন্ট এডিশনাল ভোট যদি পড়ে সেটাই জয় পরাজয় নির্ধারণ করবে।”

রওনক জাহানের মতে, এবার নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণাও ভোটের দিনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন অতীতে কোনো নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার রোল এতটা প্রাধান্য ছিল না।

“এখন সোশ্যাল মিডিয়া এআই জেনারেটেড অনেক মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেয়া হবে, আরো বেশি কাদা ছোড়াছুড়ি হবে এবং সেদিন যে আসলে সহিংসতা না হলেও সহিংসতা হচ্ছে- এরকম নানান কিছু প্রচার বা অপপ্রচার হবে। এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কাউন্টার করার জন্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইসি তাদের কী ধরনের প্রস্তুতি আছে- সেটা বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত যেটা দেখা যাচ্ছে যে, কোঅর্ডিনেটেডভাবে কাজ হচ্ছে না।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

মৃত্যুর আগে যে ৭ গোনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করা জরুরি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
মৃত্যুর আগে যে ৭ গোনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করা জরুরি?

মানুষ ভুল করে। অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। কারণ, ভুল করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই জীবনের নানা পর্যায়ে জেনে বা না জেনে মানুষ বিভিন্ন ভুল ও গোনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে। তবে মহানবী (সা.) বলেছেন, গোনাহ করে তাতে অটল থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং ভুল বুঝতে পারলে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং আন্তরিকভাবে তওবা করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ মৃত্যু কখন আসবে, তা কেউ জানে না। তাই তওবার সুযোগ থাকা অবস্থাতেই গোনাহ থেকে ফিরে আসা জরুরি।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আজ-জুমার: ৫৩)

এর পরের আয়াতেই আল্লাহ তাআলা তওবার ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে আসো এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো, তোমাদের ওপর শাস্তি আসার আগে।’ (সুরা আজ-জুমার: ৫৪)

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন সাতটি গোনাহের কথা বলেছেন, যেগুলোকে তিনি ‘ধ্বংসাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এগুলো থেকে প্রত্যেককে বেঁচে থাকার উপদেশ দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী?’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু করা, অন্যায়ভাবে সেই প্রাণ হত্যা করা যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী মুমিন নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া।’ (বোখারি: ২৭৬৬)

আলোচিত এই সাত গোনাহ হলো:

১. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা

শিরক হলো আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বিশেষ অধিকার বা গুণাবলিতে অন্য কাউকে শরিক করা। এটি ইসলামে সবচেয়ে গুরুতর গোনাহগুলোর একটি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া অন্য গোনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’ (সুরা আন-নিসা: ৪৮)

তবে এর অর্থ এই নয় যে জীবিত অবস্থায় শিরক থেকে তওবা করলে ক্ষমার দরজা বন্ধ। বরং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ফিরে এসে ঈমান গ্রহণ ও তওবা করলে ক্ষমার আশা রয়েছে। সুরা আল-ফুরকানের ৬৮ থেকে ৭০ নম্বর আয়াতে শিরকসহ গুরুতর গোনাহের উল্লেখের পর তওবাকারীদের জন্য আল্লাহর ক্ষমার কথা বলা হয়েছে।

২. জাদু করা

জাদু ইসলামে মারাত্মক গোনাহ হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, তার মধ্যে জাদুর কথাও রয়েছে। (বোখারি: ২৭৬৬)

জাদুর মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা, প্রতারণা করা কিংবা মানুষের বিশ্বাস ও জীবনকে বিপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা গুরুতর অপরাধ। তাই কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে তা পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা জরুরি।

৩. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা

অন্যায়ভাবে শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া মানুষের প্রাণ নেওয়া ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত সাত ধ্বংসাত্মক গোনাহের মধ্যেও এটি রয়েছে। (বোখারি: ২৭৬৬)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন, ন্যায্য কারণ ছাড়া তা হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না।’ এরপর এসব কাজের জন্য শাস্তির কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, ‘তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের কথা ভিন্ন।’ (সুরা আল-ফুরকান: ৬৮-৭০)

অতএব, হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়লে শুধু মুখে তওবা করাই যথেষ্ট নয়; মানুষের অধিকার ও সংশ্লিষ্ট দায়দায়িত্বের বিষয়টিও যথাযথভাবে সমাধান করতে হবে।

৪. সুদ খাওয়া

সুদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের মধ্যে সুদ খাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। (বোখারি: ২৭৬৬)

সুদের লেনদেনে জড়িত ব্যক্তি যদি এ গোনাহ থেকে মুক্ত হতে চান, তাহলে তাকে হারাম লেনদেন পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। একই সঙ্গে কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা

এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ বা আত্মসাৎ করাও রাসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। (বোখারি: ২৭৬৬)

এতিম ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সম্পদ আত্মসাৎ করা তাই শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, বরং গুরুতর জুলুমও। কেউ এ গোনাহে জড়িয়ে পড়লে আন্তরিক তওবার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সম্পদ যথাযথ মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

৬. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা

হাদিসে বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের একটি হলো যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মোকাবিলা থেকে পলায়ন করা। (বোখারি: ২৭৬৬)

এটি মূলত শরিয়তসম্মত যুদ্ধের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিধান। তাই সাধারণ কোনো পরিস্থিতিতে বিপদ থেকে সরে আসা বা নিজেকে রক্ষা করাকে এই হাদিসের আওতায় ফেলা ঠিক নয়। বরং ইসলামী বিধান অনুযায়ী যুদ্ধের ময়দানে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে অন্যায়ভাবে পলায়নের বিষয়টি এখানে বোঝানো হয়েছে।

৭. সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া

কোনো নির্দোষ ও সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ভয়াবহ গোনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকেও সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (বোখারি: ২৭৬৬)

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা সতী নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারে না, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এরপরই আল্লাহ তওবার সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন। (সুরা আন-নুর: ৪-৫)

তওবার সুযোগ থাকা অবস্থায় ফিরে আসা জরুরি

ইসলামে গোনাহ যত বড়ই হোক, বান্দার জন্য তওবার দরজা খোলা থাকে। তাই উল্লিখিত গোনাহগুলো করে থাকলে মৃত্যু আসার আগে এখনই তওবা করা জরুরি। তবে তওবা শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার নাম নয়। গোনাহ ছেড়ে দেওয়া, নিজের কৃতকর্মের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই গোনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আর গোনাহের সঙ্গে যদি মানুষের অধিকার জড়িত থাকে, তাহলে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাযথভাবে সমাধান করাও জরুরি। কারও সম্পদ আত্মসাৎ, কারও ওপর জুলুম বা কারও সম্মানহানি করা হলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বান্দার হক আদায়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আল-ফুরকান: ৭০)

তাই মৃত্যু আসার অপেক্ষা না করে জীবিত থাকতেই গোনাহ থেকে ফিরে আসা উচিত। কারণ তওবার সুযোগ থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা শাস্তি আসার আগেই তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। (সুরা আজ-জুমার: ৫৩-৫৪)

ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়? একপলকে জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়? একপলকে জেনে নিন

বাজারে ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত মাছ দেদারসে বিক্রয় হচ্ছে। রাসায়নিক দেওয়া মাছ খেলে বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফরমালিনের প্রভাবে ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া হতে পারে। অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিডনি ও লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পেটের সমস্যা, যকৃতের সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হাঁপানির মতো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা এমনকি ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে। 

মাছে ফরমালিন দেওয়া হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?

ফরমালিন ব্যবহার করলে তীব্র গন্ধ হয়। এ কারণে মাছিরা ফরমালিন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত মাছ এড়িয়ে চলে। তাই মাছের ওপর মাছি না বসলে, সেই মাছ তাজা ভেবে ভুল করবেন না। হতে পারে সে মাছ ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মাছে ফরমালিন থাকলে এর মাংস স্বাভাবিকভাবে নরম ও স্থিতিস্থাপক না হয়ে অস্বাভাবিকভাবে শক্ত, অনমনীয় বা রাবারের মতো অনুভূত হয়। মাছের স্বাভাবিক আঁশটে গন্ধ থাকে না। এর পরিবর্তে একটি ক্ষীণ, তীব্র রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যায়। মাছটি পরিণত হলেও এর ফুলকা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রঙের হতে পারে। তাছাড়া এই রাসায়নিক থাকলে মাছের আঁশ শক্ত হয়।

মাছের ফরমালিন দূর করার উপায়

আজকাল বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করে মাছ বিক্রয় করে। যদি বুঝতে পারেন মাছ রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিন। ফরমালিন দূর করতে ১০-১২ মিনিট কল ছেড়ে চলমান পানিতে মাছ ধুয়ে নিন। পারলে মাছগুলো হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধুয়ে নিন। কারণ ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবণীয় এবং ভালোভাবে ধুলে এর পরিমাণ কমে যায়।

রাসায়নিক দূষণের সন্দেহ থাকলে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য খাবার খাবেন না। উচ্চ তাপে ভালোভাবে রান্না করে খান।

সূত্র : নিউজ১৮

‘আ.লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল চায় ছাত্রদল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
‘আ.লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল চায় ছাত্রদল

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘স্বাচিপের সক্রিয় সদস্য’ আখ্যা দিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদল। এ সময় অধ্যক্ষের যোগদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ও শিক্ষকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার অভিযোগও উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে একই প্রতিষ্ঠানের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপসচিব দূর-রে-শাহওয়াজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি সোমবার (১০ আগস্ট) জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পদে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ১৬ আগস্টের মধ্যে যোগদানের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম অধ্যক্ষ পদে যোগদান করতে কলেজে যান। এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকীম কবিরের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ফরিদপুর জেলা শাখার কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ দাবির পক্ষে তাঁরা একটি তালিকাও প্রদর্শন করেন। অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর, স্বাচিপের সক্রিয় সদস্য’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান তাঁরা।

এ সময় অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরিস্থিতির খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পুলিশ সদস্যরা কলেজে উপস্থিত হন।

পরে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দিলরুবা জেবা দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পক্ষের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান এবং পরে কার্যালয়ের সামনে ব্যানার নিয়ে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বক্তব্য দেন।

ছাত্রদল নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল করে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের কোনো শিক্ষককে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকীম কবির বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের দীর্ঘ সময় পরও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বাচিপের সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। গত ২৬ জুলাই তাঁকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক করা হলেও দুই দিনের মধ্যে সেই কমিটি বাতিল করা হয়। এরপর কীভাবে তাঁকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো, সেটি আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা দ্রুত এ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে।”

এ সময় ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইয়ামিন রেজা বর্ণ, সহ-সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী ও ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. শাওন এবং বর্তমান শিক্ষার্থী সাফায়েত শিমুল বক্তব্য দেন।

তাঁরা বলেন, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল করে এমন একজন শিক্ষককে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধের প্রতি আস্থাশীল।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের আনা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও যোগদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম।

তিনি বলেন, “আমার যোগদান সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি এবং কেউ আমাকে যোগদানে বাধা দেয়নি।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি যেন তাঁর মান-সম্মান রক্ষা করতে পারি এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে কাজ করতে পারি—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্র করে কলেজে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, অধ্যক্ষের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে ছাত্রদলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।